বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফঃ
বৈশ্বিক মহামারী করোনার ঘা শুকাতে না শুকাতেই আবারো জেঁকে বসেছে দেশজুড়ে ডেঙ্গু।
সামাজিকভাবে একটু সচেতনতা আর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে জানালেন বিশেষজ্ঞরা।
ডেঙ্গু রোগ বিস্তারের সময় হিসাবে নির্ধারণ করেছে বিশেষজ্ঞরা জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত।
এর মধ্যে আমাদের দেশে বর্ষা মৌসুমের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এবং নালা-নর্দমা ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমে সেখানে পোকামাকড় ও এডিস মশার বংশ বিস্তার করতে সহজ হয়।
তাছাড়া বাসাবাড়িতে ফ্রিজে জমে থাকা পানি এসির পানি টায়ার-টিউব এবং ফুলের টবে জমে থাকা ময়লা আবর্জনায় জন্ম নেয় এডিস মশা।
এডিস মশা থেকেই প্রবাহিত হয় ডেঙ্গু রোগ আর এই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয় সাধারনত অধিকাংশ শিশু এবং বয়বৃদ্ধ মানুষেরা।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে বিভিন্ন হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় মাত্র এক মাসের ব্যবধানে শতকের ঘর ছেড়ে হাজার ছাড়িয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
গত সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার মঞ্জুরুল মোর্শেদের সাথে তাঁর মুঠোফোনে আলাপ করে জানা গিয়েছিল সেদিন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ২৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী আক্রান্তের সংখ্যা সন্ধান পাওয়া যায়।
এবং খুলনা ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল মাত্র ৬৭ জন।
তাছাড়া সে দিন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মৃত্যুর সংখ্যাছিল শূন্যের কোঠায়।
এদিকে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রের পাশাপাশি খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার মঞ্জুরুল মোর্শেদের সাথে আজকে ও তানার মুঠোফোনে আলাপ করে জানা যায়
আজ ১৪ অক্টোবর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট ১ হাজার ৭ শত ৭৩ জন।
এবং বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে ৩ শত ৮২ জন। এদিকে খুলনা বিভাগের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আজকের দিন পর্যন্ত মারা গেছে মোট ৭ জন।
মৃতদের মধ্যে রয়েছে ষাটর্ধ্ব ২ জন পুরুষ এবং চল্লিশর্ধ্ব ২ জন নারী এবং ৩ জন ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু।
যা গত এক মাসের ব্যবধানে প্রায়
৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। তথ্যটি নিশ্চিত করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার মঞ্জুরুল মোর্শেদ।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডেঙ্গু থেকে মুক্তি পাওয়া এবং মুক্ত থাকার বিষয়ে কিছু পর্যালোচনা করে বলেন ডেঙ্গু এমন মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি না।
যার জন্য বিচলিত এবং আতঙ্কিত হতে হবে।
একটু সচেতন হয়ে নিজেদের আবাস স্থানের চতুর্দিকে ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমেতেনা দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে চলতে পারলেই ডেঙ্গুর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায়।
পাশাপাশি ডেঙ্গু সংক্রান্ত বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন আমার সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সব ধরনের ব্যবস্থা পরিচালনা করে যাচ্ছি।
এবং নগর ভবনের পয়নিষ্কাশন পরিচ্ছন্ন কর্মী দ্বারা নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড এলাকা ভিত্তিক ভাবে আলাদা আলাদা পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োজিত রেখে পয়নিস্কাশন করা হচ্ছে। এবং পাশাপাশি এডিস মশক নিধন ঔষধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাছাড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রধান জনসমাগম এলাকাগুলোতে সারাবছর মাইকিং করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ মানুষদেরকে সচেতন করা হচ্ছে।
সিটি মেয়র আরো বলেন আমার সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩১ টি ওয়ার্ডের ৩১ জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলর দের নগরভবনে ডেকে এক জরুরি আলোচনা সভার মাধ্যমে সবাইকে বলে দেয়া হয়েছে প্রত্যেকটা ওয়ার্ড পয়নিস্কাশন কর্মী দ্বারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ওয়ার্ড কমিশনাররা নিজেরাই তদারকি করে নিজ নিজ এলাকার ড্রেন নর্দমা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখে ডেঙ্গু মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
এবং প্রয়োজনে ওয়ার্ড কাউন্সিলররা ডেঙ্গু রোগের বিষয়ে জনসচেতনতা মূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে ওয়ার্ডবাসী সকলকে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতন করতে হবে।