• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
মধ্যনগরে সংবাদ সম্মেলন করে দল ছাড়লেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক- ফরিদ মিয়া সুনামগঞ্জে বিএনপির ফাঁকা ২ আসনে মনোনয়ন ঘোষণা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:রতন শেখ পিপিএম সুনামগঞ্জে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী জমকালো আয়োজনে পালিত সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ৯১ বোতল বিদেশী মদসহ ০১ জন গ্রেফতার জামালগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় ১জন নিহত সিএনজি চালকসহ ৩জন আহত মধ্যনগরে যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেনের মায়ের ইন্তেকাল: যুবদলের শোক সুনামগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল বাসারের ইন্তেকাল কুড়িগ্রামে নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: মোবাইল কোর্টের অভিযানে জরিমানা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মধ্যনগরের পল্লব রায় নিহত
প্রকাশ : September 5, 2022

কুড়িগ্রাম জেলায় ফুলবাড়ীতে ধরলার তীব্র ভাঙ্গনে বদলে যাচ্ছে মানচিত্র

 মোঃশাহজাহান খন্দকার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

০৫প্টেম্বর ২০২২ সোমবার

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যা পরবর্তী ধরলা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব ধনিরাম ও পশ্চিম ধনিরাম গ্রামের বিস্তৃর্ণ এলাকা। অব্যাহত ভাঙ্গনে নদী গিলছে যাতায়াতের রাস্তা, বসতভিটা, ফসলি জমি। ধরলার কড়াল গ্রাসে দিনেদিনে পাল্টে যাচ্ছে পূর্ব ধনিরাম ও পশ্চিম ধনিরাম গ্রামের মানচিত্র।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- ধরলার তীব্র ভাঙ্গনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতবাড়ি, যাতায়াতের রাস্তা ও ফসলি জমি ধরলায় গিলে খাচ্ছে। ভাঙ্গন কবলিত গ্রাম দুটির বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম (৪৭), মতিয়ার (২৮),ছাইফুল (৫৫), মজিবর রহমান(৩৮), মোস্তফা সরকার (২৭) বলেন- ধরলার অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে আমরা সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছি। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আমাদের গ্রামের ৬ জনের বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ১০০০ বিঘার মতো আবাদি জমি ধরলার পেটে চলে গেছে। আমাদের যাতায়াতের প্রায় ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। আমাদের এখন জমির আইল দিয়ে চরম ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে চর ধনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার বিদ্যালয়টি ভেঙ্গে নিলে বাচ্চাগুলোর কি হবে, কোথায় পড়বে তারা?ধরলার ভাঙ্গনে বসতবাড়ি হারানো হাফেজা বেগম বলেন, দীর্ঘদিনেও ভাঙ্গনরোধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে আমরা আজ নিঃস্ব। আমার স্বামীর নিজস্ব কোন জমিজমা নাই। মামা শ্বশুর আমাদের বাড়ি করার জন্য ১০শতাংশ জমি দিয়েছিল তাও নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকবো?
নূর মোহাম্মদ (৬৫) বলেন, আমার সাত বিঘা ফসলি জমি ছিল। তাতে চাষাবাদ করে সংসার চালাতাম। ধরলার ভাঙ্গন রোধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় আমার সমস্ত জমি নদীর পেটে চলে গেছে। আজ আমি নিঃস্ব। খাব কি, থাকবো কোথায়? আমার মত এখানে অনেকেই জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।
ধরলার তীব্র ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারা জোবেদ আলী, কোরবান আলী, শহর উদ্দিন, দেলোয়ার মিয়া, ফুলবর রহমান, জব্বার আলী অভিযোগের সুরে বলেন- শুনেছি ধরলার ভাঙ্গনরোধে সরকার মোটা অংকের টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভাঙ্গন রোধে কোন কাজ কেউ করে নি। যারা কাজ পেয়েছে তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। আর এদিকে আমরা ভিটেমাটি হারাচ্ছি। ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা নিলে আজ আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারাতে হতো না। আসলে আমাদের সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা দেখার কেউ নেই! বলেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস বলেন, ওই এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন