বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফঃ
খুলনাতে বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংক্রমনের তেমন কোন প্রভাব না থাকলেও নতুন করে আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ জেঁকে বসেছে তীব্র আকারে।
গত ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রায় তিনগুণ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার মঞ্জুরুল মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংক্রমণ রোধে গণ ভ্যাকসিন থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর জনগণকে ভ্যাকসিন এর আওতায় এনে করোনা সংক্রমণ সহনীয় পর্যায়ে আনতে পারার কারনে সাধারণ মানুষদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস পেলেও হঠাৎ করে আবার ও গত ১৫ দিনের তুলনায় খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সংখ্যা তিন গুণ পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে আজকের দিন পর্যন্ত ৫৮৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে।
এবং খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আজ ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মোট ৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।
এবং আজকের দিন পর্যন্ত একজন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
আক্রান্ত রোগীদের ৬৮ জনের মধ্যে রয়েছে ৫০ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী।
অপরদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন মহামারী করোনা একটি সংক্রমণ ব্যাধি।
তাই স্বাস্থ্য সচেতন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মুখে মাক্স ব্যবহার করা যেমন অপরিহার্য।
ঠিক তেমন
ডেঙ্গু রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে নিজেরা একটু সচেতন হলেই ডেঙ্গু রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সিটি মেয়র খুলনা নগরীর সকল জনগণের উদ্দেশ্য করে বলেন। আমরা নিজেরাই যদি আমাদের আবাসস্থান এর আশপাশ এবং ঘরের ফ্রিজে জমে থাকা পানি এসির পানি ফুলের টব নারকেলের খোলা ও ভাঙ্গা বাসণে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে থাকে।
সেই ক্ষেত্রে নগরবাসী নিজেদের বসত বাড়ির চারপাশে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা জমে না রেখে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করতে পারলে ডেঙ্গু বাহী এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
সিটি মেয়র বলেন আমি ব্যক্তিগতভাবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে।
প্রত্যেক ওয়ার্ডের অলিতে-গলিতে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা প্রতিনিয়ত সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মী দ্বারা পয়নিস্কাশন করে এডিস মশা নিধনের জীবাণুনাশক ঔষধ প্রয়োগ করে যথারীতি ভাবে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সকল ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
এবং আমরা সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান প্রধান জনসমাগম স্থানগুলোতে সারাবছর মাইকিং করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে জনগণের মাঝে সুপরামর্শ দিয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
তাছাড়া সকল ওয়ার্ড কমিশনার দের সাথে মত বিনিময় সভা ডেকে সকল জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকা তদারকি করে যার যার ওয়ার্ডগুলোর ড্রেন নর্দমা ও রাস্তাঘাট অলিগলি পয়নিস্কাশন করে যাতে করে ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার করতে না পারে। সেই ব্যাপারে সকল স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সজাগ দৃষ্টি রেখে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে দিক-নির্দেশনা দেন তিনি।
তাছাড়া খুলনার নগর ভবনের উর্দ্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জনৈক ১৫ নং ওয়ার্ড কমিশনার ১ নং প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলাম এর নিকট গণমাধ্যমকর্মীরা মহামারী করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির ব্যাপারে জানতে চাইলে প্যানেল মেয়র অবগত করে বলেন আমাদের নগরপিতা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ব্যাপারে যথাযথ ভাবে সচেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন।
এবং পাশাপাশি নগরভবনের সকল পরিচ্ছন্ন কর্মী সহ প্রত্যেকটি ওয়ার্ড এর জন প্রতিনিধিদের সাথে পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে কেসিসি মেয়র বলেন বৈশ্বিক মহামারী করোনার করাল গ্রাসে সাধারন জনগন সহ সকল চিকিৎসক মহল প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানে অকার্পণ্যতার সাথে রোগীদের সেবা প্রদান করে এক দৃষ্টান্ত কারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তার মধ্যে আবার দেশজুড়ে ডেঙ্গুর উপদ্রব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী মহল দিশেহারা।
এই অবস্থার মধ্য নগরীর সকল জনগণের সজাগ দৃষ্টি রেখে
জন সচেতনতার সাথে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সকল প্রকার প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সকল জনপ্রতিনিধিদের তদারকি করার ব্যাপারে দিক নির্দেশনা জারি করে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেবা প্রদান করার কথা বলেছেন।