• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
প্রতিশ্রুতি রক্ষা:বিশ্বম্ভপুর দিঘীরপাড় গ্রামে মানুষের সাথে সাক্ষাতে এমপি এড. নুরুল ইসলাম নুরুল সুনামগঞ্জে ৫টিতেই জয়লাভ করলেন বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থীরা সুনামগঞ্জ-০৪: মুফতী শহিদুল ইসলাম পলাশীর ৩১ দফা ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’ ঘোষণা সুনামগঞ্জ-১আসনে ১১দলের একক প্রার্থী আমি মুজ্জাম্মিল হক সুনামগঞ্জ-৪ আসনে পাঁচ প্রার্থীর ভোটের সমীকরণ বিশ্বম্ভরপুরের ভোটে হতে পারে চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ সিলেট রেঞ্জে  শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ রতন সেখ- পিপিএম যুগান্তর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশ-জাতি ও সত্যের পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রেখে চলেছে: এসএমপি কমিশনার ব্যাংক এশিয়া শাখায় লুটতরাজ,সন্ত্রাসী হামলায় আহত বাবা–ছেলে, পুনরায় বসতবাড়িতে হামলা এলাকায় আতঙ্ক নূরুল ইসলামের সমর্থনে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে জলিলপুর গ্রামে নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জে ভলিবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো হবতপুর গ্রাম
প্রকাশ : October 22, 2022

খুলনায় বিএনপি র গণসমাবেশ জন সমুদ্রে পরিনত!!

 

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফঃ

পূর্বঘোষিত অনুযায়ী আজ ২২ অক্টোবর শনিবার বিএনপি খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশ পালন করছে।
এতে যোগ দিয়েছে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উর্দ্ধতন সকল বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।
সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ভাবে বাধাগ্রস্ত হতে হয়েছে। তা সত্বেও সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে গতকাল রাত থেকে দখলে নিয়েছে খুলনা মহানগরীর ডাকবাংলা মোড় থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা।
রাত বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা ডাকবাংলা সমাবেশস্থলে রাস্তার উপরেই রাত্রিযাপনের জন্য সংঘবদ্ধভাবে খন্ড খন্ড দলে বিভক্ত হয়ে গান-বাজনায় মুখরিত করে রেখেছিল সমাবেশ স্থল।
এবং রাত পোহাবার সাথে সাথেই ভোর ছয়টা থেকে শুরু হয় সমাবেশের কার্যক্রম এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মঞ্চের আশেপাশে শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করেও এই নজিরবিহীন জনস্রোত দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে সেখানেই বক্তৃতা শুরু করে।
এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সমাবেশ স্থল।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে খুলনা জেলাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও ওয়ার্ড থেকে মিছিল এসে জনসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হওয়ার কারণে পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী বেলা ২ টার সময় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পৌনে ২ ঘণ্টা আগেই কোরআন থেকে তেলাওয়াত পাঠের মাধ্যমে গণসমাবেশ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
দেশের কেন্দ্রীয় নেতাদের ও বেলা ১২ টা বাজতেই মঞ্চে উপবিষ্ট হতে দেখা গেছে।
প্রথমেই কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৌনে ১২ টার সময় মঞ্চে এসে হাত উচিয়ে সমাবেশস্থলের উপস্থিত বিএনপি-র ত্যাগী নেতা-কর্মী ও সকল এর উদ্দেশ্যে সংবর্ধনা জানিয়ে মঞ্চে উপবিষ্ট হন।
পাশাপাশি আজকের গণসমাবেশের সবচেয়ে বড় মিছিল নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হয়েছে মঞ্জু মনি ও খুলনার সাবেক বিএনপি নেতারা। সকল নেতা কর্মীরা এসে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে দূরদূরান্ত থেকে আগত সমাবেশের কর্মীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন আপনারা অধীর অপেক্ষায় এই সমাবেশের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এসে বসে আছেন এই খোলা আকাশের নিচেয়।
সেক্ষেত্রে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মত কোন ভাষা আমাদের নেই। এবং দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন এই সরকারের যত জুলুম নির্যাতন অত্যাচার আমাদের মাথা পেতে সহ্য করে নেওয়ার দিন আর নেই। তাই সম্মুখে পদার্পণের মাধ্যমে আজকে খুলনার গণসমাবেশ ও জনসমুদ্র থেকে জুলুমবাজ ফ্যাসিষ্টবাদী ও গরিবের রক্তচুষা নিত্যপ্রয়োজনীয় সাধারণ মানুষের খেয়ে বেঁচে থাকার পণ্যের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতিবাচক ভাবে অপসিদ্ধান্তর মধ্য দিয়ে হঠাৎ করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় চারগুণ দাম বৃদ্ধি করেছে ।
তাছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন এর যুদ্ধের অজুহাতে রেমিট্যান্স তারল্য সংকট দেখিয়ে ডলারের মূল্য তাল মাতাল যখন খুশি তখন বাড়ানো কমানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
মাত্র কয়েকদিন আগেও সরকার এক বিবৃতিতে বলেছেন দেশে দুর্ভিক্ষ আসতে পারে যে যেমনভাবে পারেন উৎপাদন করার চেষ্টা করেন।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই সরকার বুঝিয়ে দিয়েছেন দেশে কোন কিছুই নেই। দেশ এখন শূন্য খালি ঝুড়িতে পরিণত হয়ে গেছে। দেশ এখন দেওলিয়া অর্থহীন খাদ্যহীন বিদ্যুৎহীন।
তবুও সরকার দেশের জনগণকে বোকা বানিয়ে আবারও নীলনকশার করে তারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পাঁয়তারা করছে।
সেক্ষেত্রে বিএনপিদলীয় হেভিওয়েট নেতারা বলেন সেই সুযোগ আর সরকারকে দেওয়া হবে না। এবং দেশের সাধারণ জনগণ বর্তমানে অত্যাচারী সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কেন্দ্রীয় নেতারা আরও বলেন তার প্রমাণস্বরূপ আজ খুলনার গণ সমুদ্রে পরিনত হওয়া গণসমাবেশ।
হাজার চেষ্টা চালিয়েও সরকারের বিভিন্ন কৌশল এর মাধ্যমে আমাদের নেতাকর্মীদের গণসমাবেশে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনক্রমে আটকে রাখতে পারেনি।
সাধারণ মানুষের তথা গণমাধ্যমকর্মীদের চোখ-কান খোলা ক্ষণে ক্ষণে প্রতিমুহূর্তে খুলনা শহরের আশপাশ দিয়ে যে সমস্ত অপ্রীতিকর ঘটনা গুলো সরকার তার গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে ঘটাচ্ছেন তা মোবাইলের ফেসবুকে ঢুকলেই প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পারছে জনগণ।
তাছাড়া দেশজুড়ে সরকার তার পুলিশ বাহিনী দ্বারা দেশের একের পর এক নেতাকর্মীদের আটক করে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করছে।
তাই সরকারের এই অত্যাচারিত স্টিমরোলারের হাত থেকে রক্ষা পেতে বর্তমান সরকার কর্তৃক দেশের সাধারন নিষ্পেষিত-নির্যাতিত জনগণকে সাথে নিয়ে আগামী নির্বাচনে এই জুলুমবাজি অবৈধ সরকারকে উৎখাত করে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।
এবং দেশের প্রতিটা বিভাগ ও জেলা থানা পর্যায়ে আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।
পাশাপাশি সমাবেশে সকল উপস্থিত নেতাকর্মীরা সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে বলেন এ সরকার জনগণ বিরোধী সরকার। এ সরকার সাধারণ জনমানুষের বেঁচে থাকার কোনো পথ খুলে রাখেনি আস্তে আস্তে অবরুদ্ধ হচ্ছে দেশের সকল অবকাঠামো।
এই সরকারের আমলে এই খুলনা শিল্পাঞ্চলের ৯ টি রাষ্ট্রয়ত্ত পাটকল ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি টেক্সটাইল মিল মিল বন্ধ হয়েছে।
শিল্পনগরী খুলনা এখন রুগ্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে।
সাথে খুলনার ৪০ থেকে ৪৫ হাজার শ্রমিক কর্মচারী বেকার জীবনে নিমজ্জিত হয়ে অনাহারে অতি কষ্টে জীবন পার করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন