মোঃমাজহারুল ইসলাম মলি-গলাচিপা, পটুয়াখালীঃ
২০২২ সালে এখনও কিছু মানুষের মাঝে কুসংস্কার ও কবিরাজের তদবির লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ০১নং ওয়ার্ড নিবাসী মুনসুর গাজীর স্ত্রী রেবেকা বেগম (৫০)কে সুকৌশলে কবিরাজের তদবির কেমিক্যাল মিশ্রিত রুটি পিঠা খাওয়ায়ে চোর সারবস্তু করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ০৭ অক্টোবর, ২০২২ তারিখ বর্তমান মেম্বার মোঃ শাহাবুদ্দিন মৃধার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ রুটি পিঠা খেয়ে রেবেকা বেগম গুরুত্বর অসুস্থ হলে তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়। তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনা স্থান সূত্রে জানাযায়, বর্তমান মেম্বার মোঃ শাহাবুদ্দিন মৃধার বাড়ি থেকে স্বর্ন ও টাকা চুরি হলে তিনি প্রশাসনকে জানিয়েও কবিরাজের তদবিরের সহায়তা নিয়ে সন্দেহজনক দুজন নারীকে রুটি পিঠা খাওয়ান। তারা দুজনই বর্তমানে অসুস্থ আছেন। যা এলাকার অধিকাংশদের মতে উদ্দেশ্য প্রনোদিত ও পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনার ক্ষতিপূরণ ও মানহানি হয়েছে এই মর্মে গলাচিপা জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
খালেদা বেগম জানান, বর্তমান মেম্বার মোঃ শাহাবুদ্দিন মৃধা আমাকে বলছে আপনার সাথে তার ভালো সম্পর্ক আছে আপনি ডাকলেই সে আসবে। আমি রেবেকা খালাকে ডেকে আনি এবং দু’জন একসাথেই রুটি খাই। পরে অসুস্থ হয়ে পরি। এর পরে আমার কিছু মনে নাই।
খালেদা বেগমের স্বামী মনির কাজী জানান, আমি অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে বাড়িতে আসলাম। আমার বউকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। এতে গ্রামে আমার মানহানি হয়েছে। আমি এঘটনার বিচার চাই।
সেলিম চৌকিদার জানান, মেম্বারের বাড়ি চুরি হয়েছে এই মর্মে সকাল বেলা সংবাদ পেয়েছি। আমি দেখছি, দেখার পরে বাদিকে বলছি আপনারা থানায় জানান। জানানোর পরে থানা থেকে দারগা সাহেব আসছে, আমিও সেখানে ছিলাম। তারপরে তারা চইলা আসছে। তারপরে তারা ব্যবস্থা নিছে হইরের (কবিরাজ)। সেখানে বলছে আমাদের এ ব্যবস্থায় চোর যেখানেই থাকুক চোর বাড়িতে আসতে হইবে। চোর আসতেই হইবে ইনশাল্লাহ। এ কথায় সকলেই আগ্রহী আমরা চাই চোরের বিচার হোক। আমরা গেছি সকলে ওখানে রইছি, এরপর কার্যক্রম আরম্ভ করে আমি ১১টা পর্যন্ত ছিলাম। পরে বিকালে আমি ওখানে গেছি তখন শুনিকি পাশের বাড়ির মেয়ে রেবেকা অসুস্থ হয়ে পরছে। পরে গলাচিপা নিয়ে গেছে সেখান থেকে বরিশাল নিয়ে গেছে। ওখানে চোর আসে নাই, আর চোরের কোন সিদ্ধান্ত হয়নাই। সে চোর কোন সিদ্ধান্ত হয়নাই।
সুশীল সমাজ খলিল মাস্টার জানান, এখন আধুনিক যুগ, আধুনিক যুগে আধুনিক ব্যবস্থা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে সুসংগঠিত সুন্দর ভাবে এ সমাজ ব্যবস্থা চলছে এই সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে এই ধরনের দুরভিসন্ধি ঘটনা ঘটায় এটাতো মানা যায়না। এর উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিৎ। সকাল বেলা দুবার রেবেকার বাড়িতে গিয়েছে তখন কেন বলে নাই। পরে তারে ডাকায়ে নিয়ে রুটি পিঠা খাওয়ায় আর রুটির মধ্যে মেডিসিন মিশায়ে খাওয়ালে সেতো অসুস্থ হবেই। রেবেকার মৃত্যু ঝুঁকি ছিল কপাল ভালো আল্লাহ বাচিয়ে রেখেছে। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে কোন একটা দুর্ঘটনা ঘটেতে পারতো। এ অনিয়ম গুলো সমাজে আর চলতে দেওয়া যায়না। এর একটা সুব্যবস্থা হওয়া দরকার এদেরকে আইনের আওতায় আনে বিচারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
রেবেকা বেগম জানান, খালেদা বেগমের একাধিক ডাকে বর্তমান মেম্বার মোঃ শাহাবুদ্দিন মৃধার বাড়িতে গেলে মোঃ শাহাবুদ্দিন মৃধা, অনু, ফিরোজ ও শাহাবুদ্দিন মাষ্টারের উপস্থিতিতে আমাকে বটা রুটি পিঠা খেতে বলে। আমি সরল মনে সে রুটি খাই। বেলা ১১টার দিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরলে প্রথমে গলাচিপা পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
বর্তমান মেম্বার মোঃ শাহাবুদ্দিন মৃধা জানান, গোলখালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে কবিরাজের বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে ঘটনা সত্য বলে আশ্বস্ত করেন। আমিও বিষয়টি বিশ্বাস করিনা, তবে হারিয়ে যাওয়া মালামাল ফিরে পাওয়ার জন্য আমার এ ব্যবস্থা নেওয়া। তখন আমি ইসরাফিল নামের কবিরাজের সাথে যোগাযোগ করে এ রুটির ব্যবস্থা করি। ঘটনার ২-৩ ঘন্টা পরে শুনি বেরেকা বেগম অসুস্থ। তাকে গলাচিপা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গলাচিপা খবর নিয়ে শুনি তার হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিস বৃদ্ধি ওখানে রাখেনি বরিশাল পাঠিয়ে দিয়েছে। আর খালেদার বেলায় কোন প্রশ্নই আসেনা। সে কবে কখন অসুস্থ হয়েছে, কখন আসছে সেটা বলতে পারবো না।