• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
ঠিকাদারের পক্ষে ফরমায়েসী সংবাদের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন তফসিলের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টার, ব্যানার না সরালে ব্যবস্থা মধ্যনগরে সংবাদ সম্মেলন করে দল ছাড়লেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক- ফরিদ মিয়া সুনামগঞ্জে বিএনপির ফাঁকা ২ আসনে মনোনয়ন ঘোষণা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:রতন শেখ পিপিএম সুনামগঞ্জে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী জমকালো আয়োজনে পালিত সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ৯১ বোতল বিদেশী মদসহ ০১ জন গ্রেফতার জামালগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় ১জন নিহত সিএনজি চালকসহ ৩জন আহত মধ্যনগরে যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেনের মায়ের ইন্তেকাল: যুবদলের শোক সুনামগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল বাসারের ইন্তেকাল
প্রকাশ : September 13, 2022

গল্প “মেঘহীন আকাশ”

রাকিব আলী

খুব রাগী মাথায় মেয়েটি আজ বাড়ি থেকে বের হয়েছে বান্ধবীকে নিয়ে। পথে দেখা এক অগোছালো (নেশাখোরের মতো) ছেলের সাথে।
-এই ছেলে প্রতিদিন এই রাস্তায় তুমি কি করো! তুমার পরিচয় কি? কোথায় থেকে এসেছো? পরিবার নাই?
(কান্না ভাব নিয়ে)
-আমি আকাশ
বাবা জন্মের আগেই মারা গেছে। মায়ের ক্যান্সার রোগ ছিলো। অনেক দিন যাবৎ মা আজরাইলের সাথে খেলছিলো। হঠাৎ সে উধাও করে নিলো মা কে। মায়ে আর কথা কয় না,আদর করে না। একদম ঠান্ডা,নিস্তেজ। চোখের পানি ফেলতে ফেলতে অনেক কিছু জিগাই।মা কোনো কথা কয় না। স্বপ্ন ছিলো ডাক্তার হবো। অনেক বড় ডাক্তার। মা-ও সেই স্বপ্ন লালন করতো।আজ সেই স্বপ্ন মাটি চাপায় পড়ে আছে। আত্মীয়-স্বজন বলতে কেউ নেই। সবাই দূরূ দূরূ করতে থাকে। সবাই এখন পর। একপ্লেট ভাত খাওয়াতেই কেউ রাজি হয় নাহ।আবার পড়াশোনা?  ডাক্তার?  ডাক্তার হবো আমি?? আমি ডাক্তার হবো???  হাঃ হাঃ হাঃ। আমার স্বপ্নে আজ দুর্গন্ধ ধরে গেছে। কারো কাছে বললে সেও হাসতে হাসতে শেষ। একজন কোর্ট পড়া চাকরিজীবী কিংবা ডাক্তার দেখলে। আমার চোখেমুখে টলমল করে। আফসোস!!  আহ! আফসোস!!! আমিও তো এই রকম হতে চেয়েছিলাম।
মনেহয় সেই স্মৃতি-
মা বলতেন,
বাবা তুমি সমাজে একদিন উঁচু হয়ে দাঁড়াবে।অনেক বড় মানুষ হবে। বড় ডাক্তার হবে। আমি গর্ববোধ করবো তকে নিয়ে। আমি একজন ডাক্তারের মা হবো।কি যে আনন্দ লাগবে বাবা সে দিন।
সে আনন্দ আজ ফুটপাতের নোংরা আবর্জনায় পড়ে আছে।
দেখলাম এতিমদের দিকে সবাই ছোট চোখে তাকায়। দোষ না করলেও সে দোষী। কোথায়ও সম্মান নেই।শুধু গালি আর গালি।
এরপর নেমে পড়লাম রাস্তায়। কারো কাছে হাত পাথার অভ্যাস না থাকলেও একদিন পেটে ক্ষিদের জ্বালায় হাত পাতি এক বিত্তবানের কাছে।  সে গাড় ধরে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো রাস্তায়। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ভাবলাম আত্মহত্যা করব। কিন্তু পরে ভাবলাম, একটা কুকুরও একবেলা পঁচা-বাসি খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে।  এরপর বেঁচে থাকার স্বপ্ন লালন করি আর বিত্তবানদের খেলা দেখি রোজ রোজ। আসলে আপু, এতিমের কষ্ট এতিমেই বুঝে। আপনি এর কিছু বুঝবেন না। নাম টা কি জানতে পারি আপু?
-মেঘ
মেঘঃ তাহলে এই রাস্তায় কেনো? যাওয়ার জন্য অন্য কোনো জায়গা নেই তুমার?
আকাশঃ আপু এই রাস্তায় মায়ের সাথে অনেক চলাচল করেছি।মায়ের অনেক মধুমাখা স্মৃতি লুকিয়ে আছে এখানে। তাই বারবার এই রাস্তায়ই আসি। একটু শান্তি পাই এদিকে হাঁটলে।
মেঘঃ নাও ২০৳। কিছু খেয়ে নিও। আর শুনো যখনই আমাকে দেখবে তখনই আমার কাছে খাওয়ার জন্য টাকা খুঁজে নিবে।
আকাশঃ ওকে,ধন্যবাদ আপু। আপনি অনেক ভালো। খুব সুন্দর।
মেঘঃ খুব সুন্দর মানে?  সত্যিই না কি! হা হা হা । ওকে ভালো থেকো ।পরে দেখা হবে।
আকাশঃ (মাথা নেড়ে) হুমমমম।
চলবে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন