বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :
প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এখন আরো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে অবস্থান করছে পায়রা বন্দর থেকে উত্তর-পশ্চিমে ৩৫৫ কিলোমিটার দূরে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলেছেন সর্বকালের ভয়ঙ্কর প্রণয়নকারী ঝড় হিসেবে সিত্রাং ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের গতি বেগে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।
এবং আমাবস্যার জুগার কারণে জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে ১২ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত উচ্চতা যা উপকূলীয় এলাকায় অধিকাংশই প্লাবিত হতে পারে।
দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন ৫০ বছরের মধ্যে যতগুলো প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় হয়েছে তার সবটাই অক্টোবর মাসেই ঘটেছে সিডর আয়লা জায়েদের মতন আরো ডজনজ দুয়েক জলোচ্ছ্বাস ও প্রলয়ংকারী ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়।
তিনি আজকের সিত্রাং ঝড়ের ব্যাপারে আরও তথ্য দিয়ে বলেছেন দেশের স্মরণকালের সবথেকে বড় ঘূর্ণিঝড়ের আশংকা করা হচ্ছে এই ভয়ানক ঝড় সিত্রাং কে।
গত মধ্যরাত থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস বলেছেন ঘূর্ণিঝড় টি খেপুপাড়ার ওপড় দিয়ে বরিশাল-পটুয়াখালী চট্টগ্রাম কক্সবাজার এলাকা অতিক্রম করতে পারে। এতে করে উপকূলীয় এলাকা বরিশাল পটুয়াখালী মংলা ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকা গুলোতে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় এলাকাগুলো বিক্ষিপ্ত অবস্থায় রয়েছে এতে করে নদী বন্দর এলাকায় লঞ্চ ও সকল ধরনের নৌযান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিআইডব্লিটিএ। এবং সাগর থেকে জেলেদের নিরাপদ আশ্রয় স্থানে আসার জন্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করা হচ্ছে।
তাছাড়া ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবেলা প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর জেলা প্রশাসকগণ স্থানীয় আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে অতি দুর্যোগ এলাকাগুলো থেকে দুর্যোগ কবলিত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় স্থানে আনার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এক্ষেত্রে বাগেরহাট বরিশাল পটুয়াখালী বরগুনা ঝালকাঠি খুলনা এলাকা মিলে মোট১৫ শ ৮৪ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
সাথে শুকনা খাবার জরুরি ঔষধ সহ আনুষঙ্গিক সব কিছুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তাছাড়া সমুদ্র বন্দর এলাকা গুলোতে উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ ও হেলিকপ্টারের জরুরি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে আজ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশের ঝড়ে কবলিত সমুদ্র ও নদীর বন্দর এলাকা গুলোতে প্রায় অর্ধ শতাধিক ট্রলার ডোবার খবর পাওয়া গিয়েছে।
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ত্রিপুরা সহ তিন রাজ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ছেড়ে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয় আসার জন্য বলেছেন।
এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গলবারের সকল পরীক্ষা স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নিরাপত্তার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজগুলো পাঠানো হচ্ছে গভীর সমুদ্রে।
সন্ধ্যা লাগার পূর্বমুহূর্তে বাতাসের গতিবেগ ঝড়ে পরিণত হওয়ার কারণে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সাথে প্রবল মুষলধারা বৃষ্টি হচ্ছে এবং এর তাপমাত্রা হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিটা দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় আলাদা আলাদা ভাবে মনিটরিং সেল গঠন করে ঝড় ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্যক্রম চালানোর জন্য ফায়ার সার্ভিস কর্মীর নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছে।