কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি মোঃশাহজাহান খন্দকারঃ
শিক্ষকদের সময়মতো স্কুলে যাতায়াত নিশ্চিত করতে ‘শিক্ষাতরী প্রকল্পের’ কার্যক্রম শুরু করেছে চিলমারী উপজেলা প্রশাসন
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সময়মতো শিক্ষকদের উপস্থিত হতে না পারার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক সময় শিক্ষকরা স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন এমন অভিযোগও রয়েছে। এজন্য চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা নিয়েও বারবার প্রশ্ন উঠেছে। নৌকা সংকটে নৌপথে শিক্ষকদের যাতায়াত বিড়ম্বনার কারণে সময়মতো স্কুলে পৌঁছা সম্ভব হয় না এমন দাবি শিক্ষকদের।
এ অবস্থায় শিক্ষকদের সময়মতো স্কুলে যাতায়াত নিশ্চিত করতে ‘শিক্ষাতরী প্রকল্পের’ কার্যক্রম শুরু করেছে চিলমারী উপজেলা প্রশাসন।
রবিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের দ্বীপচরের স্কুল শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য একটি নৌকা প্রদানের মাধ্যমে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসমা বেগম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সালেহ সরকার প্রমুখ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চিলমারীর বেশিরভাগ এলাকা চরাঞ্চল। এসব চরে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নৌপথে শিক্ষকদের যাতায়াত করতে হয়। নৌকা সংকটে প্রায়ই যাতায়াত বিড়ম্বনায় পড়েন শিক্ষকরা। অনেক সময় নৌকার অভাবে কোনও কোনও শিক্ষক স্কুলে যেতে ব্যর্থ হন। এতে করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুবিধা বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন শিক্ষকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে চিলমারীর চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে চারটি রুটে ভাগ করে চারটি নৌকা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।
‘শিক্ষাতরী প্রকল্প’ নামে এ উদ্যোগের প্রথম ধাপে রবিবার সকালে উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষকের জন্য একটি নৌকা দেয় উপজেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এতে যাতায়াত করতে পারবেন। নৌকার জ্বালানি খরচ ও মাঝির পারিশ্রমিক সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বহন করবেন।
উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে আনন্দিত শিক্ষকরা। নৌকা পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অষ্টমীরচর ইউনিয়নের ডাটিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা উৎফুল্ল এবং আনন্দিত। আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হলো। অন্য নৌকায় যাতায়াতে হয়রানির শিকার হতে হয়। এক ধরনের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি মিলেছে। এখন আমরা সময়মতো স্কুলে যাতায়াত করতে পারবো। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত সম্ভব হবে। এ উদ্যোগের জন্য শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আমি উপজেলা প্রশাসন, বিশেষ করে ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
ইউএনও মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘উপজেলার চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের নিয়মিত এবং সময়মতো স্কুলে উপস্থিত নিশ্চিত করতে হবে। এই ভাবনা থেকে শিক্ষকদের যাতায়াতের বিড়ম্বনা দূর করতে উপজেলা প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এ প্রকল্পে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। আজ একটি নৌকা দেওয়া হয়েছে। অন্য রুটের নৌকাগুলো দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা মানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত হোক।’