মোঃ তাজিদুল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টারঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের দুপক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই আড়াই’ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশসহ শতাধিক লোক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আহতরা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কৈতক উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ছাতক ও শান্তিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হয়ে প্রায় ১১টা পর্যন্ত এই সংঘর্ষে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে এম্বুলেন্সে রোগী সহ এতে আটকা পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাউয়াবাজারে ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব শত্রুতার জেরধরে জাউয়া কোনাপাড়ার জুনেদ ও পূর্বহাটির মাহতাবের মধ্যে কথা-কাটাকাটির সুত্রধরে চলমান সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র/শস্ত্র, ইট-পাটকেল ও কাচের বোতল ব্যবহার করে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে প্রথমে জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ এবং পরে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু সাইদ ও ছাতক থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের কারণে সুনামগঞ্জ-সিলেট, সিলেট-সুনামগঞ্জগামী সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় জাউয়াবাজার থেকে শান্তিগঞ্জ এবং ধারণ থেকে জাউয়াবাজার পর্যন্ত অংশে যানবাহনের দীর্ঘ জট সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, ছাতক থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান, এস আই মাসুদ আল মুকিত, রেহান উদ্দিন, এএসআই সোহেল মিয়া ও রিপন মিয়া।
এছাড়াও আহতরা হলেন, খোকন(২৬), মুহিব(২৬), শামিম (২০), মাহতাব (২৭), মজিদ (৩৭), তোয়েল (৩৭),
নাজিম (১৮), জুনেদ (২২), আকবর আলী (৫৫), খালেদ আহমদ (২৮), আলমগীর (২৮), নাসির (৪৭) ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যান্য আহতদের মধ্যে কৈতক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০ জন। শান্তিগঞ্জ ও ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহ প্রাইভেট ভাবে অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বুধবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ছাতক থানার এসআই মোশারফ হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মো. সুমন মিয়া জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফের যাতে কোন ধরণের সংঘর্ষ না ঘটে সেজন্য সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।