মোঃ আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বিপুল ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো আলী হায়দারের বিরুদ্ধে এলজিএসপি, কমসৃজন, টিআর, কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম ও দূনীতির অভিযোগ এনে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা উপ পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে কয়েকজন সদস্য তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেছেন মর্মে জানিয়েছেন ইউপি সদস্যরা। তারা বলেন, আমরা অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করিনি। কেউ স্বাক্ষর করলে তাকে ভুল বুঝানো হয়েছে আবার কারো স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন খাতের টাকা দিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কালভার্ট বীজ, রাস্তাঘাট নির্মাণ,এলজিএসপির বরাদ্দ দিয়ে স্কুল, মাদ্রাসার রাস্তাঘাট, স্কুলে শহীদ মিনার স্থাপন, সততা স্টোর, গালস কণার নির্মাণ। কম সৃজন কর্মসূচি প্রকল্প দিয়ে পুরাতন রাস্তাঘাট মেরামত, এলজিইডির সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাট, স্কুল মাদ্রাসার আঙ্গীনা ও মাঠ ভরাট। পাটলাই নদীর টোল উত্তোলন করে সদস্যদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রতিদিনের আয় পরিষদে জমা দেওয়া হয়। ঐ টাকা দিয়ে সার্বিক উন্নয়ন হয়। পরিষদের আওতাধীন প্রতি অর্থ বছরে খেয়াঘাটের তিন লক্ষ দশ হাজার টাকা রশিদের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। প্রতিবছরেই পরিষদের সদস্যরা কড়াগন্ডায় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিচ্ছেন। সদস্যরা নিজেরাই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেন। শতভাগ কাজ করে বিল উত্তোলন করছেন। ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকে তিনি নিজেই মনগড়া ভাবে ভিজিএফ,ভিজিডি বিতরণ করেছেন। আমরা সদস্যরা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে আয়-ব্যয়ের হিসেব চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যে হিসাব দিয়েছেন তা আমাদের মনমত হয়নি। তাই অভিযোগ করেছিলাম। চেয়ারম্যান সাহেবের মত আমিও জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। পরিষদের সবাইকে নিয়ে আমাদের একটি পরিবার এবং পরিবারের অভিভাবক হলেন চেয়ারম্যান সাহেব। আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। চেয়ারম্যান সাহেব আমাদেরকে নিয়ে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছেন। আগামী দিনগুলো যাতে চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে সুন্দর ভাবে কাটাতে পারি দোয়া করবেন। শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য ধনমিয়া বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব নিজের খেয়ালখুশিমত চলার কারণে উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম। উনার ভুল বুঝতে পেরেছেন। উনি আমাদেরকে নিয়ে পরিষদে বসে আশ্বস্ত করেছেন সবাইকে নিয়ে সুন্দর ভাবে চলবেন।তাই আমাদের মধ্যে আর কোন বিরোধ নেই। শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ ও ৫নং ওয়ার্ড সদস্যা সেলিনা বেগম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে শুনেছি চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা পুরোপুরি সত্য নয়। পরিষদে যা কিছু বরাদ্দ এসেছে উনি সবাইকে সমান ভাবে বন্টন করে দিয়েছেন আমাদের মধ্যে। উনি খুবই ভালো মানুষ। গত ২৭ তারিখ পরিষদে বসে আমাদের বিরুধ নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত(১,২) ইউপি সদস্য মিনারা বেগম বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের সবাইকে নিয়ে বসে এসব বিষয় মিটমাট করেছেন। তিনি কথা দিয়েছেন এখন থেকে সব কাজ আমাদেরকে সাথে নিয়ে করবেন। শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৬,৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড সদস্য ফারুমা বেগম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি ভাল মন্দ কিছুই জানিনা। তবে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে যা কিছুই আসে আমরা সঠিক ভাবে পাই। বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে সমস্ত সাহায্য এসেছিল চেয়ারম্যান সাহেব আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে বিতরণ করেছেন। শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ১নং ওয়াড সদস্য শাজাহান খন্দকার বলেন, অভিযোগ করার পর চেয়ারম্যান সাহেব আমাদেরকে নিয়ে বসেছিলেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন আগামী দিনগুলো আমাদের সাথে সমন্বয় করে সব কিছু করবেন। আমার ধারণা পরিষদের দুই এক জন সদস্যর সাথে চেয়ারম্যান সাহেবের ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব করেছেন। চেয়ারম্যান সাহেবের অথরিটিতে আমরা নিজেরাই লোক দিয়ে টোল উত্তোলন করে পরিষদের উন্নয়ন খাতে জমা করছি। আগামী 27 তারিখ পরিষদের সবাই বসবো। আশা করি সব কিছুই শেষ হবে। ২নং ওয়াড সদস্য রাশেদ কবির বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে। উনি ব্যবসায়ী মানুষ পরিষদের কার্যক্রম সম্পর্কে কম বোঝেন। উনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ হয়েছে তা সত্য নয়। উনি লোক হিসেবে খারাপ না। ইউপি সচিব ভূপতি ভূষন প্রশান্ত বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব টিআর প্রকল্প দিয়ে পাচ লক্ষ টাকা ব্যয় করে রাস্তা নির্মাণ, ৩ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় করে ২ টি বক্স কালভাট নিমাণ, কাবিখা প্রকল্প দিয়ে ২টি মসজিদের ঘর মেরামত বাবদ আড়াই লক্ষ টাকা। বড়ছড়া,লাকমা, কলাগাও গ্রামে কমসৃজন কমসূচী দিয়ে প্রায় দশ লক্ষ ২৪ হাজার উন্নয়ন মূলক কাজ করান। এদিকে মাটিয়ান হাওরে এলজিএসপির বরাদ্দ দিয়ে আট লক্ষ ৯২ হাজার টাকার কাজ করানো হয়েছে। সব অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বলেন, সাজিনুর ও আবুল কালাম মেম্বার অন্যান্য সদস্যদের ভুল বোঝিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাক্ষর নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়েছে। তার কাজই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলা। আমি সব মেম্বারদের নিয়ে বসে এসব মিটমাট করেছি। মেম্বাররা বলেছেন, তারা না বুঝে অভিযোগে সই করেছেন। আমার কাছে নদী থেকে টোল তোলে ব্যাংকে জমা করার রশিদ আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির জানান, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তাদের বিষয় তারা যদি মিটমাট করে ফেলে ভাল।