মোঃ আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
না পড়লে ক্ষতি হবে না। আপনার বাচ্চা হলে এমনটি করতেন না। একথা শুনে খাদেমের সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি জামে মসজিদের মুষ্টির চাউল উত্তোলন নিয়ে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় বাদাঘাট ইউনিয়নের বিন্নাকুলি জামে মসজিদ সংলগ্ন আহতদের বসতবাড়ির সামনে ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হলেন, ফুল মিয়ার ছেলে শহীদুল ইসলাম (৫০) তার ভাই তৌহিদুল ইসলাম (৪২), আবুল কাশেম (৩৮)। অপর পক্ষ জাকির হোসেন (৪৫), আলী আকবর (৫০) তার ছেলে জুয়েল মিয়া (২৫), রুবেল মিয়া (২৭) ও মাহবুব (৩১), মনির হোসেন (২২),ধন মিয়া (৪৫)। আহতদের রক্তাক্ত ও জখমপাপ্ত অবস্থায় সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে এলে কতব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কা জনক অবস্থায় জাকির হোসেন গংদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এদিকে শহীদুল, তৌহিদুল ও আবুল কাসেমকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যান্যদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহত শহীদুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় বাচ্চারা মক্তবে যায় সূরা কেরাত পড়তে। বিন্নাকুলি জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি মাওলানা আব্দুল অদুদ এর নির্দেশে মসজিদের খাদেম মক্তবে পড়তে আসা দুইজন ছাত্রকে সাথে নিয়ে মুষ্টির চাউল উত্তোলন করতে যাওয়ার সময় স্থানীয় এক দোকানদার বলেন শহীদুল ভাই দেখেন তো বাচ্চারা মক্তবে যায় পড়ার জন্য কিন্তু খাদেম বাচ্চাদেরকে না পড়িয়ে তাদেরকে সাথে নিয়ে মুষ্টির চাউল উত্তোলনের জন্য বাড়ি বাড়ি যাচেছ। তখন শহীদুল ইসলাম এগিয়ে খাদেমকে ডাক দিয়ে বল্লেন মুষ্টির চাউল উত্তোলন করবেন শুক্রবারে। ছাত্রদের পড়া বন্ধ করে তাদেরকে নিয়ে চাউল উত্তোলন করা টিক হবে না। তখন খাদেম মুখে মুখে বলেন বাচ্চারা একদিন ভাই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে আমার বাবা আমাকে বুঝিয়ে বাড়ি নিয়ে যান। এরই জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিন্নাকুলি মসজিদের মুষ্ঠির চাউল নিয়ে কোন দিন কারও সাথে ঝগড়া হয়নি। কিন্তু মাওলানা আব্দুল অদুদ সাহেব মোতাওয়াল্লী হওয়ার পর এখন পযন্ত দুইবার মারধরের ঘটনা ঘটেছে। উনি সিলেটের স্বনামধন্য কৌরিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। এই প্রভাব কাটিয়ে বিন্নাকুলি জামে মসজিদে নিরীহ লোকদের মধ্যে খুন খারাপির সৃষ্টি করছেন। মোতাওয়াল্লী মাও.আব্দুল অদুদ বলেন, শুনেছি মক্তবের ছাত্রদের নিয়ে খাদেম মুষ্টির চাউল উত্তোলন করতে গিয়ে সংঘষের ঘটনা ঘটেছে। আমি সিলেটের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করি। মসজিদের মোতাওয়াল্লী হওয়ার আমার কোন ইচ্ছে ছিল না। গ্রামের মানুষ আমাকে জোর করে মোতাওয়াল্লী বানিয়েছেন। এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচাজ জানান, এ ঘটনায় এখন পযর্ন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।