হীমেল মিত্র অপু-স্টাফ রিপোর্টারঃ
দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সু-সংগঠিত করার পাশাপাশি দেশবাসীর কাছে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি প্রর্দশনের মহড়া দেয়া নিয়ে ব্যস্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।
বিএনপি যেমন তাদের গণসমাবেশে জনস্রোত নামিয়ে নিয়মিত রাজনৈতিক শক্তির মহড়া দিচ্ছে, বিপরীতে সমাবেশ না করলেও দলের কাউন্সিলে লাখো নেতাকর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে রাজনৈতিক শক্তি প্রর্দশন অব্যাহত রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পিছিয়ে নেই সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও। তারাও তাদের মতো করে চলমান জেলা সম্মেলন গুলোতে অধিক সংখ্যাক নেতাকর্মী উপস্থিতি নিশ্চিত করে নিয়মিত তাদের শক্তিরও জানান দিতে মরিয়া।
এর অংশ হিসেবে আগামী শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ব্যাপক শোডাউন করার প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীর বানিজ্য মেলা মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অন্তত লক্ষাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ। তিনি ভোরের ডাককে বলেছেন, শনিবারের সম্মেলনকে সামনে রেখে আমরা সকল প্রস্তুতি শেষ করেছি, ইতিমধ্যে সাত উপজেলা ইউনিট ও ৫৮ টি ইউনিয়নের সম্মেলন শেষ করেছি। এই সকল ইউনিট থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী শনিবারের সম্মেলনে অংশ নেবে।
এদিকে বরাবরের মতো আগামী শনিবার রংপুরে অনুষ্ঠিতব্য রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশে জনতার ঢল নামতে চায় বিএনপি। যদিও দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় রংপুরে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা কিছুটা দূর্বল। তারপরও শনিবারের গণসমাবেশে অন্যান্য সমাবেশের মতো জনস্রোত নামবে বলে মনে করছেন রংপুর জেলা বিএনপির নেতারা।
এদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও সামর্থ্য অনুয়াযী শক্তি প্রর্দশনের রাজনীতিতে সরব রয়েছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দলটির বিভিন্ন জেলা সম্মেলন। দলের চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেত গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি দলের মহাসচিব ও কো:চেয়ারম্যানদের নিয়ে হাজির হচ্ছে জেলা সম্মেলন গুলোতে। ঐ সব সম্মেলন গুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও হচ্ছে চোখে পড়ার মতো। দলের প্রধান জিএম কাদেরের সাম্প্রতিক বক্তব্য সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে গ্রহণযোগ্যতাও পাচ্ছে।
২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রংপুর মহানগর সম্মেলনে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। শনিবার অনুষ্ঠিত হবে জামালপুর জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নেবেন জাপার চেয়ারম্যান জি.এম কাদের এমপি, সিনিয়র কো: চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো:চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি ও সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি সহ দলের এক ডজন কেন্দ্রীয় নেতা। সম্মেলন আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা জামালপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ ভোরের ডাককে বলেছেন, শনিবারের সম্মেলন হবে স্মরণকালের ঝাঁকজমকপূর্ণ । জেলা জাতীয় পার্টির কয়েক হাজার নেতাকর্মীর পাশাপাশি অন্তত কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ, যারা লঙ্গলের ভোটার তারা সম্মেলনের উন্মুক্ত পর্বে অংশ নেবেন।
জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য দলের সম্ভাব্য জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে জেলা ও উপজেলা সম্মেলন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চলমান সম্মেললগুলোতে লাখো নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ যে অপ্রতিরোধ্য শক্তি তা জানান দিতে চায় দলের নীতিনির্ধরকরা। এই জন্যই জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন গুলোতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলের সাধারণ সমর্থকদেরও অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। এর অংশ হিসেবে ২৩ অক্টোবর নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। শনিবার অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও বড় জমায়েতের টার্গেঢ দেয়া হয়েছে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।
এই ব্যাপারে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে রাজনীতির টানিং পয়েন্টে। এই সম্মেলন থেকে রাজনৈতিক বার্তা দেয়া হবে। এই সম্মেলনে লক্ষাধিক নেতাকর্মী অংশ নেবেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপি যদি মিথ্যা প্ররোচনা দিয়ে রাজপথ গরম করতে চায়, তাহলে জনগণের জানমাল রক্ষার স্বার্থে আমরা বিএনপিকে রাজপথে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিহত করবো।
উল্লেখ্য, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর। প্রায় আট বছর পর আগামী শনিবার এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ১০টি বিভাগে গণসমাবেশ শেষ করে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ইতিমধ্যে নানা বাধা বিপত্তির মধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় গণসমাবেশ করা হয়েছে। ২৯ অক্টোবর শনিবার অনুষ্টিত হবে রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশ। এছাড়া আগামী ৬ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির গণসমাবেশ করার কথা রয়েছে, যদিও খুলনার মতো বরিশালেও আগামী ৫ ও ৬ নভেম্বর পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠন।
এদিকে ১০ ডিসেম্বরের পর রাজনীতির মাঠ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা করতে চান বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এর অংশ হিসেবে নানা রকম প্রতিকুলতাকে জয় করে দলের বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোতে নেতাকর্মীদের ঢল নামাছে বিএনপি। এর মধ্যে দিয়ে দলটি রাজনৈতিক শক্তির মহড়া দিচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ।