বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ কারী ডলার এখন তালমাতাল পর্যায়ের মধ্যে অবস্থান করে সাধারণ মানুষদের হিমশিম খাওয়ার উপক্রম করে তুলছে।
ঘন্টায় ঘন্টায় দিগ্ববিদিক ছুটে দিশেহারা ডলারের দাম সকাল দশটায় যদি হয় ১১২ টাকা ১ ঘন্টার ব্যবধানে হয়ে যায় ১১৫ টাকা সবকিছুর কারশাজির মূলে রয়েছে ডলার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হোতারা।
আর এই সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা ডলারকে নিয়ন্ত্রণ করে কুক্ষিগত করে রেখেছে নিজেদের আয়ত্তে।
শহরের ব্যাংকগুলোতে ডলার সংকট দেখা দিলেও অভাব নেই সঙ্ঘবদ্ধ কতিপয় ডলার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী মানি এক্সচেঞ্জ অফিসগুলোতে।
জানালেন খুলনা শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক মতলব মিয়া।
তিনি আরো বলেন আমি গত চারদিন আগে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছি। আমার প্রয়োজনীয় বাংলা টাকা সংকট থাকার কারণে ইউএস ডলার বিক্রি করতে এসেছিলাম ইসলামী শাহজালাল ব্যাংকে।
অথচ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সরকারি ক্রয়কৃত দামের থেকেও ১ টাকা ৫০ পয়সা কম মূল্য ডলার কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি প্রয়োজনের তুলনায় যৎসামান্য কিছু ডলার বিক্রি করার পর ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে দাম বৃদ্ধির কোন সম্ভাবনা আছে কিনা জিজ্ঞাস করলে তার প্রতিউত্তরে তারা বলেন তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য আমরা জানি না বা বলতে পারব না । সবকিছুই নির্ভর করে রেমিটেন্স এর উপর।
এদিকে আবার অন্য একজন গ্রাহক ডলার ক্রয় করার জন্য ব্যাংকে আসলে সেখানেও দেখা যায় নির্ধারিত মূল্যের থেকেও ৭৫ পয়সা বেশি দরে তাদের ডলার ক্রয় করতে হচ্ছে।
সে ক্ষেত্রে খুলনা শহরের বিভিন্ন ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জগুলো সরজমিনের ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র।
প্রথমে এসব কর্মকর্তাদের নিকট থেকে ক্রেতাদের শুনতে হয় ডলার সংকটের কথা। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ক্রেতাদের বেশি মূল্য দেওয়ার কথা বলে সুপারিশ করলেই মিলছে ডলার।
এদিকে আবার দেশের আমদানি কারক ব্যবসায়ীদের মুখে ও ডলার অজুহাত দিয়ে বলছে একমাত্র ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে বিদেশ থেকে অধিক মূল্য দিয়ে এলসির মাধ্যমে দেশে মাল আমদানি করতে হচ্ছে।
আর এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের চলার গতির প্রতিটা পদক্ষেপে চাল ডাল আটা ময়দা সুজি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে বিলাসিতাপূর্ণ পোশাকাদি ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রির ওপর।
তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ আমাদের দেশে কোন কিছুর মূল্য একবার বৃদ্ধি হলে বিশ্ব বাজারে সকল কিছুর সহনীয় পর্যায়ে নিম্নমুখী হলেও বাংলাদেশের বাজারে কোন কিছুর দাম কমেনা।
তার মূল কারণ বাজার মনিটরিং সেল ও সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আভিজনিক ভূমিকা অব্যাহত না থাকা আর কারণে বা আমাদের দেশের সকল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট মহল সুযোগ পেয়ে
পায়তারা করে মূল্য বৃদ্ধি রেখে একই পর্যায়ে ব্যবসা চালানোর জন্য।
এখন সাধারণ মানুষের মুখে ও গুঞ্জন একটাই সরকার গত ৩ মাস আগে হঠাৎ করে ডলার ও রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্য যুদ্ধের অজুহাত দিয়ে মাত্র এক ঘন্টার ব্যবধানে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের উপর ৩৬ শতাংশ থেকে ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করলেও গত ২০ দিন আগে মাত্র লিটার প্রতি ৫ টাকা দাম কমিয়ে সরকার বাহবা নিচ্ছে।
কিন্তু সাধারন মানুষের ঘাড়ে যেন লাঙ্গলের জোয়াল সেটা মোটেও খেয়াল করছে না সরকার ও মন্ত্রী পরিষদ। সাধারণ মানুষের এখন হয়েছে বাঁচা মরার দায়।
এদিকে আবার দেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছে সরকার যদি উদ্যোগ নিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারে তাহলে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো কখনো মজবুত হবে না।
আর এরকম টানাপোরেন এর মধ্যেই চলবে দেশ ।
সাথে বন্ধ হতে থাকবে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান মিল কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাবে বৈদেশিক বায়ারদের বাংলাদেশ ব্যবসার উদ্দেশ্যে পদচারণা ও বিভিন্ন শিল্প খাতে বৈদেশিক অর্থ বিনিয়োগ করা।
এতে করে অসংখ্য কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষেরা বেকারত্বের অভিশপ্ত জীবনে ক্ষুদা ও দরিদ্রতার নিকষ কালো আঁধার নেমে আসার সম্ভাবনা বাঞ্ছনীয় কোন কিছুই না বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।