• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
ঠিকাদারের পক্ষে ফরমায়েসী সংবাদের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন তফসিলের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টার, ব্যানার না সরালে ব্যবস্থা মধ্যনগরে সংবাদ সম্মেলন করে দল ছাড়লেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক- ফরিদ মিয়া সুনামগঞ্জে বিএনপির ফাঁকা ২ আসনে মনোনয়ন ঘোষণা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:রতন শেখ পিপিএম সুনামগঞ্জে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী জমকালো আয়োজনে পালিত সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ৯১ বোতল বিদেশী মদসহ ০১ জন গ্রেফতার জামালগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় ১জন নিহত সিএনজি চালকসহ ৩জন আহত মধ্যনগরে যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেনের মায়ের ইন্তেকাল: যুবদলের শোক সুনামগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল বাসারের ইন্তেকাল
প্রকাশ : October 18, 2022

দোয়ারায় মেম্বার কর্তৃক শালিশ বৈঠকের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

মোঃআব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

দোয়ারা উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের মেম্বার আহসান উদ্দীন (হাছান) মিয়া কর্তৃক বড়কাটা গ্রামে শালিশ বৈঠকের ২০ হাজার টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়,মেম্বার ও দফাদার মুছা মিয়ার কু-পরামশে ছোট ভায়রা জামির হোসেনের হামলায় বড় ভায়রা ও জেটালি আহতের ঘটনায় মো শহীদুল্লাহ বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে দোয়ারা থানার পুলিশ জামির হোসেনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে থানায় নিয়ে মুসলেকায় ছেড়ে দেওয়ার পর হাছান মেম্বার উভয় পক্ষের লোকজনের সাথে আলোচনা করে শালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। শালিশে সিদ্ধান্ত হয় কাজল মিয়া গং শহীদুল্লাহকে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ার ২০ হাজার টাকা হাছান মেম্বারের কাছে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু মেম্বার কাজল গংদের কাছে টাকা না সমজিয়ে নিজেই আত্নসাত করার অপচেষ্ঠা করছে এবং জমির হোসেন এবং কাজল গংদের দিয়ে একের পর এক আদালতে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করে অসহায় ভূমিহীন শহীদুল্লাহকে হয়রানি করছে। এদিকে মুছা মিয়া মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী শহীদুল্লাহর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, জামির হোসেনের বাড়ি উপজেলার রংপুর গ্রামে। সে অত্যন্ত উগ্রবাজ ও ভূমি খেকো প্রকৃতির লোক। সে বৈবাহিক সূত্রে আশ্রয় নেয় বড়কাটা গ্রামে। স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসান মিয়া, দফাদার মুসা মিয়া, শ্বাশুড়ি তারা বানুসহ আরও কয়েক জনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে গ্রামে মারামারি ছাড়াও নানান অপকর্মের ঘটনার সাথে যুক্ত রয়েছে সে। শহীদুল্লাহ তার শ্বাশুড়ি তারা বানুকে জায়গা ক্রয় বাবত কিছু নগদ টাকা দিয়ে সমঝোতায় গিয়ে শ্যালক আক্তার মিয়ার সহযোগিতায় জমিতে মাটি ভরাট করে ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। দীর্ঘদিন এসব দেখে ছোট ভায়রা জামির হোসেন দখলের পাঁয়তায় সুকৌশলে শহীদুল্লাহ’র বসতঘরে আশ্রয় নেয়। ঘরে আশ্রয় দেয়ার পর থেকে দাবি করে পুরো বসতঘর ও ভিটা জামির হোসেনের। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশও হয়েছে। সে দখল ছাড়তে রাজি হয়নি। এক পর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন সকালে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী সালমা বেগমের উপর আক্রমণ করে। এলোপাতারি আঘাতে গুরুতর আহত হন তারা। মারামারির সুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দৌঁড়ে এসে দুইজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং জামির হোসেনকে স্থানীয়রা আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে জামির হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ওইদিনই ঘটনা আপসে মীমাংসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইউপি সদস্য হাসান মিয়া, দফাদার মুসা মিয়া, শ্বাশুড়ি তারা বানুসহ আরও কয়েকজনে জামির হোসেনকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত গুরুতর আহত হাসপাতালে ভর্তি থাকা শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী সালমা বেগমকে কেউ দেখতে আসেননি। বরং ইউপি সদস্য হাসান মিয়া চিকিৎসার নানা খরচপাতি দেখিয়ে আহতের পরিবারের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযো উঠেছে।
শ্বাশুড়ি তারা বানু বলেন, আমাকে শহীদুল্লাহ কোনো টাকা দেয়নি। এমনিতেই ঘর তৈরি করে আমার জায়গায় থাকছে। ঘটনার দিন আমি বাইরে ছিলাম। আমি হাসপাতালে গিয়ে জামাই শহীদুল্লাহ ও মেয়ে সালমাকে দেখিনি। তাদেরকে দেখার প্রয়োজন নেই আমার।
দফাদার মো. মুসা বলেন, আমার ভায়রা শহীদুল্লাহর কোনো অপরাধ নেই। জামির হোসেনের সব অপরাধ। সে মারধর করেছে। অত্যন্ত ধাঙ্গাবাজ প্রকৃতির লোক জামির।
জামির হোসেন বলেন, আমি প্রথমে আশ্রয়হীন হয়ে ভায়রা শহীদুল্লাহর বসত ঘরে আশ্রয় নেই। পরে আমি ভায়রার জায়গার পাশে ছোট্র একটি টিনসেড ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছি। আমার শ্বাশুড়ির জায়গায়। শহীদুল্লাহও ঘর করেছে আমার শ্বাশুড়ির জায়গায়। শহীদুল্লাহ আমাকে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে মেরেছি।
ইউপি সদস্য হাসান মিয়া বলেন, আমার কাছে চিকিৎসা বাবত টাকা জমা রাখা হয়েছে। এই টাকা এখনও দেইনি। হাসপাতালে গিয়েও দেখিনি শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী সালমাকে। গ্রাম্য সালিশে মীমাংসার জন্য চেষ্টা করছি। হাসান মিয়া যেকোনো ঘটনা বা কথাবার্তায় জেলার শীর্ষ নেতাদের নাম দাপটের সাথে ব্যবহার করছেন। জমি রেজিষ্ট্রির ২০ হাজার টাকা আমার কাছে জমা আছে।
দোয়ারা থানার এসআই অপরূপ বিশ্বাস বলেন, ইউপি সদস্য হাসান মিয়া থানায় এসে জামির হোসেনকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন। তিনি গ্রাম্য সালিশে মীমাংসা করবেন এই অপেক্ষায় আছি। মীমাংসা করতে ব্যর্থ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন