বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নড়াইল সদরের কলোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশীষ কুমার বিশ্বাসের তুঘলকী কারবারে বিস্মিত নড়াইলের জনগণ । ত্রিশটি প্রকল্পের ত্রিশ লক্ষ টাকার পুরোটাই আত্মসাৎ এর অভিযোগ । ঘটনার বিবরনে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি আর) কর্মসূচির আওতায় ১৯/০৬/২০২২ তারিখের: ৫১.০১. ০০.০১২.১৪.০০৫.২১-২০২ নং স্মারকের মাধ্যমে নড়াইল জেলার নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নে (৩০) ত্রিশটি প্রকল্পের অনুকূলে(৩০) ত্রিশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পত্র অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন ও বাস্তবয়নের সময় সীমা ছিল ৩০-৬-২০২২ তারিখ পর্যন্ত । শর্ত অনুযায়ী প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত নগদ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে । কিন্তু সেই মোতাবেক ৩০ টি প্রকল্পের কোন প্রকল্পের ই কাজ করা হয় নাই। ৩০ টি প্রল্পের মধ্যে একটি প্রকল্পেরই নামে তিন লক্ষ টাকা অপর দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ নেয়া হয়েছে যেগুলোর কোন ভিত্তি নাই । এখানে প্রকল্পের তালিকার ১ নম্বরে হাড়ি খালি মন্দিরের সোলার সোলার প্যানেল স্থাপনে এক লক্ষ টাকা, ২৭ নম্বরে হাড়িখালী নদীর উপর মন্দির সংস্কর এক লক্ষ টাকা এবং ২৯ নম্বরে হাড়িখালী নদীর উপর মন্দির সংস্কারে এক লক্ষ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে নদীর উপর মন্দিরের কোন অস্তিত্ব নাই। এদিকে মুশুরিয়া শীতলতলা জামে মসজিদ সংস্কারের নামেএক লক্ষ টাকা বরাদ্দ নেয়া হয়েছে । যেখানে মুশুরিয়া গ্রাম হচ্ছে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা সেখানে কোন মসজিদেরই অস্তিত্ব নাই । আবার আগদিয়া গাবতলী কিন্ডারগার্ডেন এর নামে এক লক্ষ টাকা বরদ্দ নেয়া হয়েছে যেটারও কোন অস্তিত্ব নাই। এরকম ৩০ টা প্রকল্পের বরাদ্দকৃত সকল টাকায় উত্তোলন করা হয়েছে কিন্তু ওইসব প্রতিষ্ঠানের যে সকল কমিটি আছে তাহারা জানেনই না তাদের প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের নামে টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং তা উত্তোলন হয়েছে । এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে । এ ব্যাপারে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য একজন অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উনি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে । ঘটনা সম্বন্ধে কলোরা ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান আশীষ কুমার বিশ্বাসের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ সঠিভাবে করা হয়েছে এবং মসজিদের ব্যাপারটি কম্পিউটার মিসটেক হয়েছে। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ করা হচ্ছে আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই। এলাকবাসীর দাবি প্রকল্প অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের কোন কাজ করা হয় নাই ।আমরা তদন্তপূর্বক এর বিচার চাই ।