• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
বেগম খালেদা জিয়ার রুহেত মাগফিরাত কামনায় দেশবাসির নিকট দোয়া চান ধানের শীষের প্রার্থী-আলহাজ্ব আনিসুল হক সুনামগঞ্জ-১ আসনে আনিসুল হক’র মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা: উচ্ছ্বসিত ভোটাররা শান্তিগঞ্জে জাতীয় সমাজসেবা দিবস উদযাপন নতুন বই শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় প্রেরণা যোগাবে-সঞ্জীব সরকার সুনামগঞ্জে অবৈধ অস্ত্র এবং সন্ত্রাসী দের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থান সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থেকে ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৯ গোবিন্দনগর মাদ্রাসা’র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাও.আব্দুল আজিজ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এশিয়ান নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মোহাম্মদ আলীর শোক প্রকাশ সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ৩৯ বোতল বিদেশী মদসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সুনামগঞ্জ-৫ ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনে ৮ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল
প্রকাশ : September 12, 2022

পাবনায় গত দুই সপ্তাহে বিদেশি নাগরিকসহ ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত

 

পাবনা প্রতিনিধিঃ

পাবনায় গত দুই সপ্তাহে বিদেশি নাগরিকসহ ৩৫ জনের বেশি লোক ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২১ জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী এ তথ্য জানান।

মনিসর চৌধুরী বলেন, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গত ৭ দিনে ২১ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে আরও ১৫ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তিনি আরও বলেন, আক্রান্তদের অধিকাংশ রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে কর্মরত রয়েছেন। এদের মধ্যে ৩ জন রুশ নাগরিক এবং একজন বেলারুশের নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসমা খান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্লিনিকে ২০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ভর্তিদের হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অধিকাংশের কর্মস্থল পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে। আরেকজন ঢাকায় মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেন। অন্যদের কেউ ছাত্র, কেউ ব্যবসায়ী আবার কেউ বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ট্রেস্ট রোসেম কোম্পানিতে কর্মরত রাসেল বিশ্বাস বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে কোম্পানির কাজে যোগদান করি। দুপুরের দিকে ডিউটিরত অবস্থায় তীব্র জ্বর হয়। পারমাণবিক প্রকল্পের ভেতরের হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিই। সেখান থেকে কিছু ওষুধ লিখে দেওয়া হয়। সেগুলো বাড়িতে গিয়ে খাওয়ার পরও শরীরের অবস্থা পরিবর্তন না হলে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। পরে রিপোর্টে জানতে পারি ডেঙ্গু হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত মেহেদী হাসান জানান, তিনি গত ৫ দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও তিনি পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এতবড় একটা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই। মেডিসিন ওয়ার্ডে শত শত রোগীর মাঝে আমাদের রাখা হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে নোংরা পরিবেশ ঠিকমত পরিষ্কার করে না। ওয়াশরুম-টয়লেটে গেলে মশার কামড়ে থাকা যায় না। সাধারণ রোগীও আমাদের সঙ্গে চলাফেরা করছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য তিনি পৃথক ওয়ার্ডের দাবি করেন।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালরে সিনিয়র স্টাফ নার্স ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ হালিমা খাতুন শান্তা বলেন, আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে ২১ জনের মতো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন। প্রায় সবাই ঈশ্বরদী থেকে আসছেন। তাদের অধিকাংশ রূপপুর প্রকল্পে চাকরি করেন। আবার কেউ ঢাকা থেকেও আক্রান্ত হয়ে আসছেন। সবাইকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ওমার ফারুক মীর বলেন, পাবনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। অল্প আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জটিলদের হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হচ্ছে। হাসপাতালেই শনাক্তের সরঞ্জামাদি রয়েছে। কাউকে বাইরে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে না। কেউ বেশি জটিলতায় থাকলে আমরা ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করব। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোধে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার ভূমিকা পালন করা দরকার। পাবনায় এডিস মশার লার্ভা শনাক্তের জন্য কেউ কাজ করে কিনা আমার জানা নেই।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন, আক্রান্তদের বেশিরভাগই রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত। কয়েকজন ঢাকা থেকেও অসুস্থ হয়ে এসেছেন। যারা ভর্তি আছেন তাদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেকের উন্নতি হওয়ায় তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

পাবনা পৌরসভার মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, আমরা ময়লা আবর্জনা সাফ করা ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ময়লা-আবর্জনা জমে আছে এমন এলাকায় স্প্রে করা হচ্ছে। সামাজিকভাবেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন