• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ২৪১ বোতল বিদেশী মদসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৯ ছাতকে দাখিল পরিক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় দোয়া মাহফিল হাওর রক্ষা বাঁধে পাউবো ও প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ ও জামালগঞ্জে গণ-সমাবেশ ভুয়া “ভূমিহীন” পরিচয়ে খাস জমি দখলের হিড়িক: আমদাবাদে ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ হুমকির মুখে পাইকগাছায় তাঁতীদলের সভাপতি শিমুলের বিরুদ্ধে ঘর দখলের অভিযোগ সুনামগঞ্জে জুলাইযোদ্ধা জহুর আলীকে খুন করার হুমকি দিল লীগ সন্ত্রাসী নিজাম উদ্দিন, পর্ব-২ সুনামগঞ্জ শান্তিগঞ্জের পূর্ব বিরগাঁও’এ ধর্ষণ মামলা তুলে নিতে চাপ, না মানায়—পা ভাঙল যুবকের ইরান যু/দ্ধে/র প্রভাবে কনডমের দাম বাড়তে পারে ভারতে লাউড়েরগড়ে যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু-পাথর উত্তোলন, হুমকিতে শতাধিক পরিবার সুনামগঞ্জে জুলাইযোদ্ধাকে গলা কেটে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি
প্রকাশ : October 8, 2022

বানের পানির ন্যয় ধেয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম!নাভিশ্বাস উঠছে নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষদের!!

📸 Photo Card Download

রিপোর্টার নাম / ১৪০ জন পড়েছে
আপডেট : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২২

 

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফঃ

প্রতিটা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেসামাল। নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের।
আই এর তুলনায় খরচ দ্বিগুণ নুন আনতে পান্তা ফুরায় উপক্রম।
কি খাব আর সংসার পরিজন ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ কি নানান দুশ্চিন্তায় বুকের ভেতর যন্ত্রণার অন্ত নাই। রাত হলে চোখের ঘুম আসেনা। সকাল হলেই ছুটবে খরচের লা
গাম হীন ঘোড়া। প্রতিটা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বাড়তে বাড়তে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। সেদিকে লক্ষ্য নেই দেশের কোন আমলাদের নামেমাত্র কাঁচামরিচের দাম সস্তা থাকলেও পটলের ভরা মৌসুম থাকা সত্ত্বেও কেজি হাকিয়েছে ৬০ টাকা করোলা ১০০ টাকা

টাকা আলু কেজি ৪০ টাকা ভেন্ডি কেজি ৬০ টাকা। বাজারে যে কোন ধরনের শাক ৫০ টাকা কেজি দরের নিচে নাই। গরীব এর সাধ্য সাধের মাংস বয়লার মুরগির কেজি ডাবল সেঞ্চুরিতে রেকর্ড গড়েছে। ডিমের হালি ৫২ টাকা। সবচেয়ে নিম্ন শ্রেণীর মাছের গায়ে হাত দিতে হলে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ৫০০ টাকা।

মাত্র কয়দিন আগে খবরের কাগজ গুলোতে ইলিশ মাছের কথা উল্লেখ ছিল সাগরের জেলেরা মাসের ভারে জল তুলতে পারছে না। মাইকিং করে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। অথচ বাজারে তার উল্টো চিত্র। সাধারণতঃ কেজিতে ছয়টা সাইজের ইলিশের কেজি ৬০০ টাকা মাঝারি সাইজের ইলিশ কেজি ৮০০ টাকা বড় সাইজের ইলিশের দাম শুনতে ভয় করে ইলিশ এখন সোনার হরিণ। কেজি তো দূরের কথা ১০০ গ্রাম কিনে খাওয়ার সামর্থ্য আমাদের মতো গরিব মানুষদের দুঃসাধ্য ব্যাপার।

বললেন আজ বিকালে খুলনা নগরীর মিস্ত্রীপাড়া বাজারের ক্রেতা আকবর আলী। পাশে দাঁড়ানো লিয়াকৎ একজন শপিংমলের কাপড়ের দোকানের কর্মচারী তার মাসিক বেতন ১৪ হাজার টাকা। একমাত্র সন্তান কলেজের ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তার লেখাপড়ার প্রতি মাসে খরচ
৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া ৫ হাজার টাকা অবশিষ্ট থাকে ৪ হাজার টাকা।
তা দিয়ে সারা মাসের খোরাক তো দূরের কথা ১০ দিন চলা মুশকিল।

তারমধ্য হঠাৎ পরিবারের কোন সদস্য যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করা ছাড়া কোনো উপায় নাই।
তরিতরকারি মাছ মাংস দাম তো আগুন বরাবর।
তারপর আবার গত সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি চিনির দাম বেড়েছে ১০ টাকা বর্তমানে চিনির বাজার দর ৮৫ টাকা কেজি আটা ময়দা চাউল ডাউল সবকিছুর দাম এখন প্রতিদিন জোয়ারের পানির গতিতে ধেয়ে বাড়ছে। শুকনা খাবারের কথা বলাতো বাহুল্য কারণ গত ১৫ দিন আগে এক পাউন্ড

কেক কিনতে লেগেছিল ৯০ টাকা এখন তা ১২০ টাকা এক প্যাকেট টোস্ট এক লাফে বেড়ে হয়েছে ৬৫ থেকে ৯৫ টাকা বিস্কুটের কেজি ২৮০ থেকে ৩৪০ টাকা চানাচুর ২০০ গ্রাম প্যাকেট ৬৫ থেকে ৮৫
টাকা গুনে দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

গেল ৬ আগস্ট মধ্যরাতে থেকে সরকারের নেতিবাচক সিদ্ধান্তে একলাফে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব এখন দেশের নিম্ন মধ্যম আয়ের মানুষদের গলায় মাছের কাঁটা হয়ে বিঁধে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে।
তারে সুযোগ ধরে গত সপ্তাহে বিশ্ব বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়লেও ডলার দামের অজুহাতের বরাত দিয়ে সরকার বরাবর লিটার প্রতি
২০ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে ভোজ্যতেলের ব্যবসায়ী সংস্থা। তবে সরকার সাপ সুপারিশ তোয়াক্কা না করে উল্টো ১৪ টাকা লিটার প্রতি ভোজ্যতেলের দাম কমিয়েছে।
যা কার্যকর হবে আগামীকাল থেকে।
সরকার এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম লিটার প্রতি ১৪টাকা কমানোর কারণে সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরেছে।

তবে সকল নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনার কথা এখন শিয়ালের আঙ্গুর ফলের স্বাদ নেওয়ার শামিল বলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

এদিকে খুলনা শহর ভিত্তিক সকল বাজার সরেজমিনে ঘুরে সকল তথ্য অনুসন্ধান এর কথার উত্তরে খুলনা জেলার নাগরিক কমিটির দায়িত্ববান নেতা বলেন। একটা মধ্যম আয়ের দেশে যদি প্রতিনিয়ত দ্রব্যমূল্য লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে তাহলে সাধারন মানুষদের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ার কারণে হিমশিম খাওয়ার অন্ত থাকবে না।

আমি মধ্যম আয়ের দেশ উল্লেখ করলেও এখনো আমাদের দেশে দৈনন্দিন খেটেখাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা একেবারে কম না। আর এই শ্রেণীর মানুষদের মাসিক আয় ১২ থেকে ২০ টাকার মধ্যে।
সেই ক্ষেত্রে শহরের মতন জায়গায় বাসা ভাড়া করে থাকতে হলে সেটা যত নিম্নশ্রেণির হোক না কেন তাতে ও মাসে ৫ হাজার টাকা বাড়ির মালিককে গুনে দেওয়া লাগে।

সাথে রয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ সবকিছু হিসাব করলে সারা মাস চাল-ডালসহ অন্য সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য ১০ দিনের খাবার খরচের টাকা থাকেনা।

এতে করে মানসিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। যার কারণে অভাবের মাঝে পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটা মহল্লায় চুরি-ছিনতাই এর মতন ঘটনা অহরহ ঘটছে বলে নগরীর একাধিক এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এদিকে আবার খুলনা বাজার মনিটরিং সেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন আমরা সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করে বাজারদর নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করলেও হচ্ছে না তার কোন ফলপ্রসূ সুষ্ঠু ব্যবস্থা।
তার কারণ হিসেবে কর্মকর্তাগণের ঝেড়ে কেসে বলেন যতদিন পর্যন্ত অসাধু সিন্ডিকেট মজুদ ব্যবসায়ীদের মাথার উপর দেশের আমলাতন্ত্রের ছায়া থাকবে ততদিন এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না।

কারণ আমরাও তো দেখছি একজন নিম্নআয়ের দরিদ্র মানুষের সংসারের সন্তানাদি নিয়ে কোনোরকম দিন চালাতে এদের মুখে রক্তবর্ণের ছাপ পড়ছে। এই অবস্থার মধ্য কোন প্রতিকার স্বরূপ আগামীদিনের আশার আলোর সন্ধান মিলছে না দেশের অতি দরিদ্র মানুষের মাঝে।
অথচ এদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের বিনিময়ে হচ্ছে দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন।
আর এরাই যদি থাকে অর্থাভাবে ক্ষুধার্ত অনাহারী তাহলে দেশের আগামীর সম্ভাবনার আলো কোথায়।
দেশের সাধারন অতি দরিদ্র মানুষের প্রশ্ন এখন দেশের আমলাদের কাছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন