চলমান বাংলাদেশ ডেক্সঃ
বাংলাদেশের প্রতিটা সাধারন মানুষ খুব ভাল করেই জানে বিএনপি ২০১৮-এর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল বিনাশর্তে বলা যায় নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে।
তারা ড. কামাল হোসেনকে নেতা মেনে ‘ভোট বিপ্লব’ করে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে যা আদতে তাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি।
আর তাই পরে ২০১৮-এর নির্বাচনের নাম দিয়েছিল আমলাদের ষড়যন্ত্র।
সে সময় তারা সরকারের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে ছড়ি ঘোরানোর জন্য তারা একটি সুন্দর নির্বাচনের সম্ভাবনা তছনছ করে দেন।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ২০১৮ সালে দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগই সরকার গঠন করতো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে যদিও বিএনপি এখনও সেটা মানতে নারাজ তবে ইতিহাসের পাতায় এক দিন নিশ্চয়ই সেই নির্বাচনকে সঠিক মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস রাখি।
সত্যিকার অর্থে যারা দেশে গণতন্ত্র চান না, বিরাজনীতিকে লালন করেন, তারাই ২০১৮-এর নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বা করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
আমরা একটু পেছন ফিরে তাকালেই দেখতে পাবো সেই নির্বাচনের পর বিএনপি ন্যূনতম কোন আন্দোলনও করতে পারেনি। তবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। আবার অন্যদিকে তাদের কিছু বিজয়ী সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদেও গেছে।
আর বর্তমানে বিএনপি আসন্ন নির্বাচনের দের বছর আগে সরকার হটানোর ডাক দিচ্ছে, যা সত্যি মুখরোচক গল্পেরই নামান্তর বরে মনে হয়।
এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে? আন্দোলন করে কি আওয়ামী লীগকে হটানো যাবে?
যদি পিছনে ফিরে তারাই তাহলে ইতিহাস বলে না। এটা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।কারন, আওয়ামী লীগই এই দেশের একমাত্র সংগঠন যেটি তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত আর এই তৃণমূলই হচ্ছে আওয়ামী লীগের মূল শক্তি,যা অন্য কোন সংগঠনের নেই। দলের যে কোনো সংকটে এরা রুখে দাঁড়ায়।
ক্ষমতায় আসার পর গত ১৩ বছরে আওয়ামী লীগের অনেক সাফল্যময় অর্জন আছে তবে তার সাথে অনেক ব্যর্থতাও যোগ হয়েছে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আর এই সময়ে আওয়ামী লীগে সুযোগ সন্ধানীদের সমাগম বেড়েছে অনেকাংশে নব্য রুপে। আওয়ামী লীগ নাম ভাঙ্গিয়ে সেই নব্য রুপের অনেকে অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন আবার এর মধ্যে কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি অর্থ পাচারকারী দেশের ব্যাংকগুলোকে প্রায় শূন্য বানিয়ে ফেলেছেন। আবার কিছু অযোগ্য দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্ত্রীর কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সংকট সৃষ্টি হয়েছে যদিও এসব নেহাত কম সংকট নয়।
তবে এসব ব্যর্থতা সত্ত্বেও গত ১৩ বছরে আওয়ামী লীগ দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে কারন আওয়ামী লীগে একজন শেখ হাসিনা আছেন। যিনি অসম্ভব সাহসী, দূরদর্শী এবং জনদরদি। একজন নেতা একাই কি অসাধ্য সাধন করতে পারেন, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ শেখ হাসিনা।তারপরও নিদ্বির্ধায় স্বীকার করতে হবে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা ও কাজের জন্য এসব সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে বা এখনও হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, এদেশের বেশির ভাগ মানুষ বিশ্বাস করে ও তাঁর ওপর আস্থা রাখে। বিশ্বের এই টালমাল মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য শেখ হাসিনার মত একজন মানুষের বড়ই প্রয়োজন তার কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সময়ে দাড়িয়ে দেশের বিশাল একটা জনগোষ্ঠী মনে করে, জননেত্রী শেখ হাসিনা না থাকলে এই দেশ অচল হয়ে যাবে। মুখ থুবড়ে পড়বে, কিছু অমানুষ আর শকুনের দল দেশটাকে নিজের মতো ভুল পথে পরিচালিত করবে আর ছিঁড়ে-খুঁড়ে খাবে। বাংলাদেশের অবস্থা হবে শোচনীয় আর করুন এসকল কারণেই এ দেশের সাধারন মানুষ বিএনপি বা তাদের সমমনাদের মিথ্যা আর ভিত্তিহীন এসব আন্দোলনে গা মাখে না।
এসব সাধারন মানুষ সংকটে হয়ত কিছুটা হতাশ হয়, কিন্তু ক্ষুব্ধ হয় না। তারা আশায় বুক বাঁধে। এদের অধিকাংশ মানুষই মনে করে ‘অন্ধকার যতই গভীরে হোক না কেন, একটা সময় পরে ভোর আসবেই’। কারন একজন শেখ হাসিনা আছেন আর এই জন্যেই অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকগন মনে করেন আওয়ামী লীগকে এসব আন্দোলনের মাধ্যমে হটানো কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। দেশের চা শ্রমিক থেকে ভূমিহীন। খেতমজুর থেকে ব্যবসায়ী। নারী, পুরুষ, শিশু। সবার আস্থার জায়গার নাম শেখ হাসিনা।
আর এই কারণে বিএনপির সরকার পতনের দাবিতে গণজোয়ার হয় না। এই কথাটা বিএনপির নেতারাও ভালো করে জানেন। কিছু দলীয় কর্মীর স্লোগান আর ঝালমুড়ির উৎসবে সরকার পতন হয় না তার জন্য জনগণ প্রয়োজন আর এই মুহুর্তে বিএনপি’র পক্ষে সেটা সম্ভব বলে মনে হয় না কারন জনগন ছাড়া আন্দোলন করবে কি নিয়ে। একটু সচেতন দৃষ্টিতে খেয়াল করুন দেখবেন বর্তমানে বিএনপির আন্দোলনের কর্মী আছে তবে কোন একজনও সাধারন জনগণ নেই।
একটি দেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আরেকটি উপায় আছে আর তা হচ্ছে অবৈধ পন্থা এবং ষড়যন্ত্র। যেভাবে ’৭৫-এ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। যেভাবে ২০০৭ সালের এক-এগারোর সময় আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়াকে বিলম্বিত করা হয়েছিল।
ইদানিংকালে বিএনপির বড় নেতারা আওয়ামী লীগের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে বলে কি সেই ষড়যন্ত্রের বার্তাই দিচ্ছেন?
নির্বাচন যেমন ক্ষমতাবদলের একমাত্র সাংবিধানিক পন্থা, তেমনি ‘নির্বাচন বন্ধ’ অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখলের সবচেয়ে বড় অসাংবিধানিক পথ।
চিন্তার দরজা একটু উম্মুক্ত করলে আমরা দেখতে পাই আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন যেন না হয় তার জন্য একটি মহল খুব বেশি তৎপর। তাহলে কি বিএনপির হুমকি, জাতীয় পার্টির অস্থিরতা, ১৪ দলের কারও কারও আহাজারির করুন সুর সবই একসূত্রে গাঁথা নাকি তারা অন্য কোন ৭৫ এর অপেক্ষায় অপেক্ষমান।
আমরা এই তো কিছুদিন আগে দেশের এক শ্রেনীর সুশীল সমাজের পন্ডিতদের মুখে বলতে শুনেছি তারা দম্ভ কন্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, বাংলাদেশ খুব শিগ্রই শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে। এখন আবার সেই তারাই তাদের হৃদয় এবং মস্তিষ্ক উৎসর্গ করেছেন আগামী নির্বাচন নিয়ে, দেশে যেন নির্বাচন না হয় আর সেজন্য নানাভাবে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। বিদেশীদের উষ্কে দিচ্ছে নানা রকম মন্তব্য করার জন্য এমন কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচন নিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে? সত্যি তা খুব সচেতনভাবে লক্ষনীয় বিষয় এটা তো আমাদের দেশের একান্ত বিষয়। তবে কি এখানেও কোন প্রশ্নবোধক? এসব কিছুটা ‘পাজল গেমে’র মতো।
বর্তমানে রাজনীতি মাঠে, ঘাটে বা রাজপথে নেই। দাবার ছকে বন্দি হয়ে গেছে। যদি আরো সুস্পষ্ট ও নির্দিষ্ট করে বলা যায় তাহলে বলতে হয় যে, প্রাসাদ ষড়যন্ত্রেই এখন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার মহাপরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। আর তাই বিএনপি নেতারা হয়তো সেই আশাতেই ‘পতন’ ‘পতন’ বলে চিৎকার করছেন।
কিন্তু তারা হয়ত জানে না শত সহস্র ষড়যন্ত্রে ক্ষতবিক্ষত শেখ হাসিনা এখন ষড়যন্ত্রের গন্ধ আগে থেকেই টের পান। আর তার জন্যেই জনগণকে আগাম সতর্কবার্তাও দিয়ে রেখেছেন।
বিগত ১৩ বছরে দেশের কিছু মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র করে সরকার উচ্ছেদ এখন সহজ রেসিপি নয়। বলে-কয়েও ষড়যন্ত্র হয় না। বিএনপি এখন ষড়যন্ত্রের সেই পুরনো খেলায় মগ্ন হয়ে গেছেন। তারা ভাবছেন রাস্তায় জ্বালাও-পোড়াও হবে,মানুষ মরবে তারপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হবে। তৃতীয় শক্তি ক্ষমতা নেবে।
আজকালের দুনিয়াতে হরতাল-অবরোধ যেমন আন্দোলনের অস্ত্র হিসেবে অচল হয়ে গেছে তেমনি ষড়যন্ত্রের এই ফর্মুলাও বস্তাপচা নীতি হিসাবে মানুষ বুঝে গেছে। কিন্তু আমার শঙ্কা অন্য জায়গাতে আর তা হচ্ছে বিএনপি নেতাদের নিয়ে। আগে তারা রোজার পর, ঈদের পর, শীতের পর, বর্ষার পর আন্দোলনের ঘোষণা দিতেন। এখন তারা সরাসরি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঘোষণা দিচ্ছেন। শীত-বসন্তে যেমন আন্দোলন হয়নি, তেমনি যদি এবার আগাম ঘোষণাতেও সরকারেরও পতন না হয় তাহলে তারা আর রাজনীতিবিদ থাকবেন কি এই প্রশ্নটি সদা মন-মগজে ঘুরপাক খায়।
বিএনপি’র মুখরোচক গল্প বলা ব্যক্তিরা যদি শেষ পর্যন্ত তেমন অবস্থায় পরেন তাহলে রাজনীতির কী হবে? কে উদ্ধার করবে তাদের!
লেখক :
আজম পাটোয়ারী,
প্রকাশক ও কলামিস্ট।