মোঃআব্দুল শহীদ সুনামগহ্জ প্রতিনিধিঃ
নানা কৌশলে সারা দেশে যখন সরকারি খাস জমি দখল করা হচ্ছে তখনই ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বসতবাড়ি তৈরিতে সরকারকে নিজের রেকর্ডিয় ৬০ শতক আমন রখম জমি দিলেন যতীন্দ্র চন্দ্র দে হারু নামের এক কৃষক। জমিদাতা যতীন্দ্র চন্দ্র দে হারু বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের চেংবিল গ্রামের মৃত. ললিত মোহন দের ছেলে। তিনি প্রায় ১২লাখ টাকা মূল্যের তিন ফসলি জমি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নামে দলিলের মাধ্যমে দান করে দিয়েছেন। ঐদিন বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা বিনতে রফিকের হাতে জমির দলিল হস্তান্তর করেন তিনি।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা মো. সাদি উর রহিম জাদিদ, সলুকাবাদ ইউপি-চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিক তপনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবগ লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
জমিদাতা যতীন্দ্র চন্দ্র দে হারু বলেন, মুজিব শতবষ উপলক্ষে সরকার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বসতবাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে। আমাদের এলাকায়ও সরকার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের আধাপাকা বাড়ি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু বাড়ির জন্য উপযুক্ত জমি পাওয়া যাচ্ছিল না। ইউএনও মহোদয়ের বিশেষ অনুরোধে আমি ৬০ শতক জমি সরকারকে দান করে দিয়েছি। দলিল নং-৮৪৩, তারিখ ২৫/৭/২২। আমার দানকৃত জমিতে সরকার যে ২৪ টি গৃহ নির্মাণ করেছেন সেগুলোতে দাতার নাম অর্ন্তভুক্ত করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। বার বার আইনগত ভাবে দখল সমজাইয়া দেওয়ার পরও ভূমিখেকো দখলবাজগণ আমার দখলীয় পুরো জমি অবৈধ ভাবে জবর দখল করার পায়তারা চালাইতেছে। আমার পরিবার পরিজন নিয়ে শহরে বসবাস করায় প্রভাবশালী অদুদ ও সমশের আলী সমছু গং প্রায় দুই কেদার জমি দখল করে নিয়েছে। তারা সলুকাবাদ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়াডের ডলুরা গ্রামের বাসিন্দা।এহেন প্রতিকার পাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করছি। কাগজপত্র পর্যালোচনাক্রমে তফশীল বর্ণিত ভূমির বিবরণ মতে জানা যায়, রতারগাঁও মৌজাস্থিত এস.এ ১২৯ খতিয়ানের ৯.০৩ একর এংগাব সাংমা নামে রেকড ভোক্ত হয়। বিগত ২৬/৪/৭২ইং সনে এংগাব সাংমা ২৭৫২ নং দলিল মূল্যে যতীন্দ্র চন্দ্র দের নিকট ৩.৬৭৫ একর ভূমি বিনিময়ে বিক্রী করেন। সরকারী সেরেস্থায় খাজনা আদায়ক্রমে যতীন্দ্র চন্দ্র দে নামজারী করে ১৫৫০ নং নামজারী খতিয়ান প্রাপ্ত হন। সরকার ১৯৭৯-৮০ইং সনে ৮৭নং ডিপি মোকদ্দমা আনয়ন করেন। যতীন্দ্র চন্দ্র দে বাটোয়ারা সহ ডিপি মোকদ্দমা বে-আইনী ঘোষনার প্রাথর্নায় সহকারী জজ আদালত, বিশ্বম্ভরপুরে ২০০৩ইং সনে ১নং স্বত্ব মোকদ্দমা আনয়ন করেন। সরকার মোকদ্দমার ৪ হতে ৭নং বিবাদী ছিল। ২২/০২/২০০৫ইং তারিখে বাদী স্বপক্ষে রায় ও ২৮/০২/২০০৩ইং তারিখে ডিক্রী হয়। সরকার জেলা জজ আদালত ২০০৫ ইং সনের ২৫নং আপীল দায়ের করেন। আপীলটি ৬/০৫/২০০৭ ইং তারিখে নাম মঞ্জুর হয়। যতীন্দ্র চন্দ্র দে তার ডিক্রী প্রাপ্ত ভূমি সম্পর্কে প্রাপ্ত আদালত মারফত দখলপ্রাপ্ত হন। যতীন্দ্র চন্দ্র দে উক্ত রায় ডিক্রীবলে নামজারী করে ১৫৫০ নং নামজারী খতিয়ান প্রাপ্ত হন। সরকার বর্ণিত ভুমি অর্পিত সম্পত্তির “ক” তালিকাভুক্ত করিলে যতীন্দ্র চন্দ্র দে প্রত্যপণ আইনে ২০১২ ইং ৬নং মোকদ্দমা আনয়ন করেন। যতীন্দ্র চন্দ্র দে বরাবরে ২৫/০৩/১৩ইং তারিখে রায় ও ২৮/০৩/১৩ইং তারিখে ডিক্রী হয়। সরকার আপীল ট্রাইব্যুনালে ২০১৪ইং ৫নং আপীল আনয়ন করেন। আপীলটি ২২/০৬/১৫ইং তারিখে নামঞ্জর হয়। পরিশেষে আর,এস জরীপে যতীন্দ্র চন্দ্র দের নামে আর,এস ডিপি খতিয়ান প্রস্তুত হয়। বর্ণিত ভূমিতে যতীন্দ্র চন্দ্র দে ভোগ দখলে আছেন।
বিশ্বম্ভরপুর নিবার্হী কমকর্তা সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে বাড়ি তৈরি করতে উপযুক্ত জমি পাওযা যাচ্ছিল না। তখন যতীন্দ্র চন্দ্র দেকে বিষয়টি বুঝিয়ে অনুরোধ করলে তিনি জেলা প্রশাসক বরাবরে ৬০ শতক জমি রেজিস্ট্রির মাধ্যমে দান করে দেন। তার দানকৃত জমিতে রাস্তাসহ ২৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো.জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিশ্বম্ভরপুরে চেংবিল গ্রামের যতীন্দ্র চন্দ্র দে সরকারকে জমি দানের বিষয়টি মহৎ উদ্যোগ ও অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। তার এই জমি পাওয়ায় ২৪টি পরিবার এখন পাকা বাড়িতে মাথা গোজার ঠাই পাবে। যতীন্দ্র দের মত যদি বিত্তশালীরা সরকারকে সহযোগিতা করতেন তাহলে সরকারের উন্নয়নমূলক কমকান্ড আরও প্রসারিত হত।