মাননীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে তার নির্বাচনী এলাকাকে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উক্ত আসনের জন্য যোগ্য প্রতিনিধি চাইছেন।
চলমান ডেক্সঃ
যেহেতু ফরিদপুর ২ আসন সালথা এবং নগরকান্দা উপজেলাটি মূলত বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান এর ঘাটি সেহেতু এটি নিয়ে একটু হলেও মাথাব্যথা আছে, কেননা উক্ত আসন থেকে ২০০৮ এর পূর্ব সময়ে কে এম ওবায়দুর রহমান কখনোই নির্বাচনে পরাজিত হয়নি, কেননা এখানে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি ছিলনা।
কে এম ওবায়দুর রহমান এর মৃত্যুর পরেই উক্ত আসনে ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রথম বিজয় হয় এবং পরবর্তীতে ২০১৪ এবং ২০১৮ এর নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ উক্ত আসনের দায়িত্ব পান, এখনো ফরিদপুর ২ আসনে শক্ত অবস্থানে আছেন বিএনপির প্রার্থী মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান এর একমাত্র কন্যা শামা ওবায়েদ রিংকু, আর আগামীর উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যদি এখানে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে ভুল করে, মানে অযোগ্য লোকের হাতে এমপি টিকেট প্রদান করে তাহলে শামা ওবায়েদ রিংকুর কাছে তাকে গো হারা হারতে হবে বলেও স্থানীয় জনসাধারণ থেকে তথ্য মিলেছে।
সংসদ উপনেতার মৃত্যুর পড়ে তার ছেলেরা এখানে নির্বাচন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে একটি আসনের জন্য দুই ভাইয়ের মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়েছে, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বড়ো ছেলে আকবর চৌধুরী এবং ছোটো ছেলে লাবু চৌধুরী, দুজনেরই মোটামুটি সমর্থক আছে ফরিদপুর ২ আসনে।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এদের সমর্থক যেমন আছে ঠিক তেমনই যথেষ্ট সমালোচনাও আছে, আর সেই সমালোচনার মুখোমুখি দারাতে হবে এই আসনের টিকেট নিশ্চিত করতে, কেননা নগরকান্দা এবং সালথার মাটিতে অনেকগুলো দল তৈরি হয়েছে, যারা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী, আর এরা খুবই ভালো শক্ত অবস্থানে আছে এবং তারা সবাই সাজেদা চৌধুরীর পূত্রদের পতন চাইছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বারবার অনুরোধ করছেন যেনো সাজেদা চৌধুরীর ছেলেদের নগরকান্দা সালথার মাটি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যান।
বিদ্রোহী প্রার্থীর তালিকায় ফরিদপুর ২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন আশাবাদী ব্যাক্তিগন হচ্ছে,
১, এডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া, উপনেতার সাবেক এপিএস, নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক এবং বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী।
২, কাজী আবদুস সোবহান, বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ ফরিদপুর জেলা শাখার আহবায়ক, রিয়া রাথিন গ্রুপের ব্যাবস্থাপনা ও পরিচালক এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি।
৩, বাবুল কাজী এবং
৪, মেজর হালিম।
ফরিদপুর ২ আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও জনগণের মাঝে আগ্রহ আছে কেবল এডভোকেট জামাল মিয়া এবং কাজী আবদুস সোবহান সাহেবকে নিয়ে, এডভোকেট জামালের বাবা উপজেলার নামকরা চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব আবদুল শহিদ মিয়া, জামাল মিয়াদের পরিবার নগরকান্দার মধ্যে প্রথম সারিতে আছে, এছারা তিনি কর্ম জীবনের সাফল্যের জন্য অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে, অন্যদিকে কাজী আবদুস সোবহান তার অগাধ সম্পত্তি এবং দান সদকার বিনিময়ে মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে জনগণের নিকট থেকে উপাধি পেয়েছেন, কাজী আবদুস সোবহান সাবেক সেনা সদস্য, আমেরিকান সিটিজেন এবং শিল্পপতি, কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের মাঝে কাজী আবদুস সোবহানকে নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বাবুল কাজী এবং মেজর হালিম তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে, তবে নগরকান্দা সালথাতে যদি স্থানীয় ভাবে জনপ্রতিনিধি যাচাই বাছাই করা হয় তাহলে কাজী আবদুস সোবহান সাহেব এবং এডভোকেট জামাল হোসেন মিয়ার উপরে কেউ নেই, কেননা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পরিবারের বিপরীতে যদি কেউ আসে তাহলে আসার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি দেখা যাচ্ছে।
আমরা এতক্ষণ ফরিদপুর ২ আসন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনের ভাষাগুলো আমাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম, মানুষ চাইছে এখানে পরিবর্তন আসুক, এখন সব কিছুর ক্ষমতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে, তিনি যেটা বলবেন এবং করবেন সেটাই হবে, তবে জনসাধারণের আরেকটা দাবি তারা যেনো উপ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন, এই অধিকারটি তারা প্রধানমন্ত্রী এর নিকট ফিরে পেতে চাইছেন।
অন্যদিকে উপ নির্বাচন নিয়ে বি এন পির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ রিংকুর মাঝেও যথেষ্ট উৎসাহ রয়েছে, কেননা এখানে বি এন পির আধিপত্য রয়েছে, ভোটের রাজনীতিতে শেষ বলে কিছুই নেই।