বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফঃ
বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে সাধারন জনগনের অভিযোগের কোন অন্ত নেই।
আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে দেশের ১৫ লক্ষ ইলেকট্রিক চার্জেবল ইজিবাইক।
দেশের ৮ টি বিভাগের সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তথ্য মতে সারা দেশজুড়ে ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক চার্জেবল ইজিবাইক ও অটোরিকশা রয়েছে ১৫ লক্ষ।
কিন্তু বেসরকারি জরিপের অনুসন্ধানের হিসেবে দেশজুড়ে মোট ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যা ২৮ লাখের উর্দ্ধে।
এক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে যদি হিসাব করা হয় তাতেও ইজিবাইকে প্রতি চার্জের জন্য বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে সর্বনিম্ন ১০ ইউনিট প্রতিদিন। সেই ক্ষেত্রে মট ১৫ লক্ষ গুণ ১০ সমান এক কোটি ৫০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ ইজিবাইকে খেয়ে ফেলছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী হিসাব।
সেই পরিমানের বিদ্যুৎ দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইন্ডাস্ট্রিজ অবিরামভাবে চালানো যাবে ৬০ টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন।
তবুও নজর নাই বিদ্যুৎ খেকো ইজিবাইকের দিকে সরকারি ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট মহলের।
ইজিবাইক বিদ্যুৎ ধ্বংসের পাশাপাশি প্রত্যেকটা শহরের যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে ও পরিলক্ষিত হচ্ছে। তার কারণ ইজিবাইকচালক অধিকাংশই লাইসেন্সবিহীন অনভিজ্ঞ।
এরা শহরের ব্যস্ততম এলাকা গুলোতে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করানো এবং সড়কের গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাফিক সিগন্যাল সহ রোড এন্ড হাইওয়ে এর কোনো নিয়ম-কানুন জানার ক্ষেত্রে এ সকল চালকেরা একেবারেই অজ্ঞ।
তাসত্ত্বেও শহর ও মহাসড়ক দিয়ে রীতিমত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইজিবাইক ও অটোরিকশা।
এতে করে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে নিরীহ পথচারীরা। এখন ইজিবাইক নগরীর সাধারণ যাত্রীদের তুলনায় অধিক হওয়ার কারণে সাধারণ পথচারীদের পায়ে হেঁটে পথ চলাটা হয়েছে দুষ্কর।
বলে জানালেন পথচারী আজগর আলী।
তবে ইজিবাইকের ব্যাপারে খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এর নিকট জানতে চাওয়া হয় আপনার সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কতগুলো ইজিবাইক ও অটোরিকশার লাইসেন্সপ্রাপ্ত।
সে ব্যাপারে সিটি মেয়র সরাসরি গণমাধ্যমকর্মীদের অবগত করেন।
না আমার সিটি কর্পোরেশন থেকে একটিও ইজি বাইকের লাইসেন্স দেওয়া হয় নাই। আপনারা লাইসেন্স প্রদত্তর ব্যাপারে শুনলেও সেটা নিতান্তই বানোয়াট ভাওতাবাজি কথা। তাছাড়া সিটি মেয়র সরাসরি ইজিবাইকের কথা উল্লেখ করে বলেন এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি মোড়ে মোড়ে ডিউটিরত ট্রাফিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন এগুলো ধরার দায়িত্ব তাদের। তারা মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পয়েন্টে থেকে করে কি বিষয়টি খুলনা সাংবাদিকদের জানান।
অথচ গত ২৯- ৭- ২০২২ তারিখ শুক্রবার মাইটিভির খুলনার রিপোর্টার শিশিরের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ ফারুক হোসেন তালুকদারের মুখ থেকে বেরিয়ে পরে অন্যরকম তথ্য।
সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার জানান খুলনা নগর ভবনের লাইসেন্স বিভাগ কর্তৃক মাত্র ৮ হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এর লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
বাকিগুলো শহরের আশপাশ এলাকা থেকে শহরে ঢুকে অবৈধভাবে চলছে যার কারণে খুলনা শহর এখন যানজটের নগরী।
সিটি কর্পোরেশন থেকে মাত্র ৮ হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এর লাইসেন্স এর কথা উল্লেখ করা থাকলেও খুলনা শহর ও আশপাশ জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জরিপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৩০ হাজারের ঊর্ধ্বে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক।
আর এই ৩০ হাজার ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার জন্য প্রতিদিন ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ৩ লক্ষ ইউনিট বিদ্যুৎ যার কারণে সরকার ঘোষিত নিয়ম নির্দেশ অনুপাতে খুলনা ওজোপাডিকো জেলার প্রত্যেক এলাকায় প্রথম এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখন বিপরীতমুখী।
বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং এর মাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার থেকে পাঁচ গুণ যার কারণে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী।
পাশাপাশি দিনে যেমন তেমন রাতে একাধিকবার লোডশেডিংয়ের কারণে এলাকায় চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে একাধিক এলাকাবাসীর অভিযোগ।
নগরীর অভিযোগকারীরা আরো বলেন সবথেকে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের এব্যাপারে খুলনা শহরের বরদাকান্ত ইনস্টিটিউট অর্থাৎ বি কে স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন
সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ক্লাস চলাকালীন সময়ের মধ্যে ৩ থেকে ৪ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং সাথে ভ্যাপসা গরমে অতিরিক্ত দাবদহে পাট গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিষ্ঠ হয়ে ক্লাস থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
তারপরে আবার রাত্রের লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়া মুখস্থ করা থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
এদিকে আবার খুলনার জনগণ সর্ব বিষয়ে চিন্তা ও বিচার বিশ্লেষণ করে সকলের একই ভাষ্য ইজিবাইক চালকদের সাময়িক সমস্যা হলেও দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও প্রতিটা শহরের যানজট নিরসনের ক্ষেত্রে।
সরকার যদি নিজ দায়িত্বে ইজিবাইকের চার্জিং পয়েন্ট গুলো অভিযান চালিয়ে অচিরেই বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহন করে তাতে সরকার কিছুটা হলেও বিদ্যুৎ ঘাটতি থেকে আসান পাবে।