মোঃ আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে কয়েকজন সদস্য শান্তিগঞ্জের দরগাপাশা ইউনিয়নের ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে বিপুল ভোটে বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছুফি মিয়ার বিরুদ্ধে এলজিএসপি, কর্মসৃজন,টিআর, কাবিখা প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে শান্তিগজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন খাতের টাকা দিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ,এলজিএসপির বরাদ্দ দিয়ে স্কুলের উন্নয়ন, টিআর, কাবিখা ও কমসৃজন প্রকল্প দিয়ে বিভিন্ন গ্রামের নতুন নতুন রাস্তা নির্মাণ। সরকারি বিধি মোতাবেক জন্ম নিবন্ধনের ফি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা রাখা হয়। সদস্যরা নিজেরাই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেন। চেয়ারম্যান সাহেবের সঠিক তদারকির কারণে শতভাগ কাজ করে উপজেলা থেকে বিল উত্তোলন। ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য সুহেল মিয়া বলেন, যারা চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিছইন তারাই জানইন। চেয়ারম্যান সাহেব দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকে তিনি পরিষদের সবাইকে নিয়ে কাজ করছেন। পরিষদের সবাইকে নিয়ে আমাদের একটি পরিবার এবং পরিবারের অভিভাবক হলেন চেয়ারম্যান সাহেব। আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। চেয়ারম্যান সাহেব আমাদেরকে নিয়ে বসে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিয়েছিলেন। আগামী দিনগুলো যাতে চেয়ারম্যান সাহেবকে সাথে নিয়ে সুন্দর ভাবে কাটাতে পারি দোয়া করবেন। ৪নং ওয়ার্ড সদস্য কোটি মিয়া চৌধুরী বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে টিআর, কাবিখা, কর্মসৃজন ও এলজিএসপি প্রকল্পের অনেক কাজ দিয়েছিলেন। কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি তদারকি করেছেন। পরিশ্রমের বিনিময়ে তিনি ভাল কাজ চেয়েছিলেন। ভালো কাজ করায় কতৃপক্ষ আমাকে দ্রুত বিল দিয়েছিল। অভিযোগকারীরা একটি সিন্ডিকেট চক্রের কু-পরামশে চেয়ারম্যান সাহেবের বিরোধীতা করে ইউনিয়নবাসীকে উন্নয়ন বঞ্চিত করছেন। আমি তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাই। ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল হাসনাত বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। তবে শুনেছি চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা পুরোপুরি সত্য নয়। পরিষদে যা কিছু বরাদ্দ এসেছে উনি সবাইকে সমান ভাবে বন্টন করে দিয়েছেন আমাদের মধ্যে। তিনি কর্মসৃজন কর্মসূচি কিংবা এলজিএসপির কোন প্রকল্পের পিআইসি নন। তাহলে বরাদ্দের টাকা আত্নসাৎ করবেন কি ভাবে। এদিকে অফিসের কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয়ের জন্য এলজিএসপির যে বরাদ্দ এসেছে। সেগুলো যৌথ একাউন্টে জমা রাখা হয়েছে। সময়মত মালামাল ক্রয় করা হবে। উনি খুবই ভালো মানুষ।দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত (৪,৫,৬) নং ইউপি সদস্য লোভা দাশ বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে কয়েকজন সদস্য আসল ঘটনা গোপন রেখে আমাকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে এলজিএসপি এবং কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ না করেই বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করে আত্নসাৎ করেছেন। সবে মাত্র বরাদ্দ এসেছে। এখনও রেজুলেশন করা হয়নি। তাহলে বরাদ্দের টাকা আত্নসাৎ হবে কি করে। চেয়ারম্যান সাহেবের সম্মানহানি করার জন্য চক্রটি উঠে পড়ে লেগেছে। ভিত্তিহীন অভিযোগের নিন্দা জানাই। দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়াডের
সদস্য সুহেনা বেগম বলেন, তিনজন সদস্য আমাকে ভুল বুঝিয়ে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তবে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে যা কিছুই আসে আমরা সঠিক ভাবে পাই। বর্তমানেও প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এলজিএসপি প্রকল্পের ১লক্ষ টাকার চেক এ আমি স্বাক্ষর করিনি। বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে সমস্ত সাহায্য এসেছিল চেয়ারম্যান সাহেব আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে বিতরণ করেছেন। দরগাপাশা ইউনিয়নের ১নং ওয়াড সদস্য ললিত মোহন দাশ বলেন, অভিযোগকারীরা নিজেরাই বিভিন্ন প্রকল্পের (পিআইসি)। তারা বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ উত্তোলন করে চেয়ারম্যান সাহেবের উপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন। আমার জানামতে পরিষদের ৪ জন সদস্য তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব করছেন। বন্যার সময় উনার পরিবারের পক্ষ থেকে বানবাসীদের মধ্যে অনেক সাহায্য দিয়েছেন। উনি সব সময় অসহায় দুস্থ গড়িব লোকজনদের পাশে ছিলেন বর্তমানেও আছেন। উনার বিরুদ্ধে যে বা যারাই এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। তারা যদি স্বাক্ষী প্রমান না দেখাতে পারে তাহলে তাঁদেরকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। দরগাপাশা ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য মরিয়ম বেগম বলেন, সদস্য শাহজাহান ও সুমন মিয়া আমাকে ভুল বুঝিয়ে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। চেয়ারম্যান সাহেব আমার নির্বাচনী এলাকার ইসলামপুর রাস্তায় ১১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। বন্যার কারণে রাস্তার কাজ শতভাগ না করায় মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রকল্পের বরাদ্দ পুরো উপজেলায় কতৃপক্ষ ৫০% লেছ দিয়েছেন। আমি জানি না বিল উত্তোলন হয়েছে কি না। উনি আমাকে আশ্বস্হ করেছেন বরাদ্দ আসলে আমার গ্রামের রাস্তার কাজ আগে করে দিবেন। তবে অভিযোগে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা পুরোপুরি সত্য নয়। দরগাপাশা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়াডের সদস্য মাসুক মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয় ভিত্তিহীন। তিনি টিআর, কাবিখা,এলজিএসপি, কর্মসৃজন প্রকল্পের পিআইসি নন। পিআইসি ছাড়া প্রকল্পের বরাদ্দ উত্তোলন করা যায় না। তাহলে উনি বরাদ্দ আত্নসাৎ করলেন কিভাবে। যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ উনি প্রতি মাসে ইউনিয়নের দুস্থ গড়িব লোকদের মধ্যে দান করেন। দানশীল ব্যক্তিরা শুধু দেয় কিন্তু নেয় না। ২নং ওয়াডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান সুরুজ আলী বলেন, যারা চেয়ারম্যান সাসাহেবের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে তারা নিজেরাই অনেক প্রকল্পের পিআইসি।এলজিএসপির বরাদ্দ আত্নসাৎতের কথা উল্লেখ করেছেন। এলজিএসপির কাজ ঠিকাদারের মাধ্যমে করতে হয় কিন্তু নয়ছয় করার কোন সুযোগ নেই। কিছু দিন আগে বরাদ্দ আসার পর চেয়ারম্যান সাহেব ঐক্যমতের ভিত্তিতে বন্টন করে দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত রেজুলেশন এবং কমিটি জমা দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই বরাদ্দ উত্তোলন করা যায় তা আমার জানা নেই। তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ইউনিয়নবাসীকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে । নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। সন্তানরা ভুল করলে বাবারা ক্ষমা করতে হয়। চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে চেষ্টা করব নিজেদের বিরুদ নিষ্পত্তি করে দেওয়ার। সব অভিযোগ অস্বীকার করে দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছুফি মিয়া বলেন, সুমন ও শাহাজাহান মেম্বার অন্যান্য সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাক্ষর নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়েছে। তার কাজই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলা। মেম্বাররা বলেছেন, তারা না বুঝে অভিযোগে সই করেছেন। কম্পিউটার মালামাল ক্রয়ের টাকা কোষাগারে জমা রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার উজ জামান জানান,গত বৃহস্পতিবার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের বিষয় তারা যদি মিটমাট করে ফেলে ভাল।