
বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফঃ
সারাদেশের সাথে খুলনা বিভাগেও হুহু করে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
ধরন পরিবর্তন করে নতুন রূপে ডেঙ্গু এখন ঘরে ঘরে।
মাত্র ১ মাসের ব্যবধানে ৪ গুন বৃদ্ধি পেয়ে আজকের দিন দুপুর প্রর্যন্ত খুলনা স্বাস্হ্য অধিদফতর এর দেওয়া তথ্য পরিসংখ্যা অনুযায়ী আক্রান্তর সংখ্যা ৩ হাজারের ঘরে। এবং বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে মোট ৭ শ ৮২ জন । এপর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারাগেছেন মোট
৯ জন। এদের মধ্যো পুরুষ ৫ জন এবং মহিলা ৪ জন।
তবে আজকে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় ডেঙ্গু রোগীর চাপ।
যা খুলনার সরকারী বেসরকারী হাসপাতাল গুলোর চিত্র একেবারেই অন্যরকম। খুলনার ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রোগীদের সেবার জন্য সিট তো দূরের কথা হাসপাতালে ফ্লোরে পর্যন্ত তিল পরিমান জায়গা নেই।
এদিকে ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাথে ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষেরা বুঝে ওঠার আগেই বিপদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে অনেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের।
জানালেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার মঞ্জুরুল মোর্শেদ।
তিনি বর্তমান ডেঙ্গু রোগের ধরন পরিবর্তন এর দিক বিশ্লেষণ করে বেশ কিছু তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়ে বলেন বর্তমান যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিয়েছে সেটা সহজে সাধারণ মানুষের পক্ষে বুঝে ওঠা সম্ভব না।
নতুন ডেঙ্গুর প্রথম উপসর্গ হিসেবে দেখা যায় তীব্র জ্বর মাথা ব্যথা সাথে পর্যাপ্ত কাশি শ্লেষ্মা বুকে ব্যথা এবং হাত পা জ্বালা যন্ত্রণা ও অনিদ্রা বমি বমি ভাব পাতলা পায়খানা এসকল উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিচ্ছে।
যার কারণে রোগীর অভিভাবক ও রোগীরা সাথে সাথে নিজেদের সিমটম বুঝতে না পেরে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করার কারণে আরো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে পড়ে অবশেষে আমাদের চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হলে সেক্ষেত্রে আমরা রোগীদের মলমূত্র ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি।
পাশাপাশি খুলনা ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ডিউটিরত ডাক্তার সুমন গুপ্ত বলেছেন ডেঙ্গু রোগ কোন সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ না।
এটি এডিস মশা বাহিত একটি রোগ। আর এই ডেঙ্গু রোগের ক্ষেত্রে একটু সচেতন ভাবে সুষ্ঠু চিকিৎসা দিলেই রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সক্ষম হয়। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ আমরা দেখছি না।
তবে সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করার পরামর্শ ও তিনি দেন।
এদিকে খুলনা নগরীর সবকটি হাসপাতাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর ভেতরে অধিকাংশ শিশু ও মধ্য বয়সী রোগীর সংখ্যা বেশী।
এবং খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য মতে জানা গিয়েছে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে এই এডিস বাহিত ডেঙ্গু রোগ টি এত দ্রুত বিস্তার করছে যা সামাল দেওয়াটাই কঠিন হয়ে পড়েছে চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে।
পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকরা বলেছেন গত মাসের ডেঙ্গু রোগের পরিসংখ্যান হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে প্রায় চতুর্গুণ রোগী আমাদের এখানে এসে ভর্তি হচ্ছে।
তার মধ্যে অধিকাংশ রোগীই প্রায় মুমূর্ষ।
আর এ সকল মুমূর্ষ রোগীদের জরুরী এবং প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে প্রথমেই আমরা খাবার স্যালাইনও স্যালাইন পুশ করে তরল জাতীয় খাদ্য সাথে সুনির্দিষ্ট ঔষধ প্রয়োগ করে মুমূর্ষ রোগীদের স্বাভাবিক পর্যায়ে এনে সুস্থ করা হচ্ছে।
এদিকে খুলনা নগরীর টুটপাড়া থেকে একই পরিবারের দুই জন ডেঙ্গু রোগী ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে বলেন আমরা গত দুইদিন আমাদের শারীরিক অবস্থা বমি জ্বর পাতলা পায়খানা ও মাথা যন্ত্রণা একইসাথে তীব্র আকার ধারন করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এখানে চিকিৎসা নিতে আসি।
কিন্তু রোগীর এত বেশীচাপ যার কারণে এখনো সিট না পেয়ে ফ্লোরিং করছি।
এদিকে ডেঙ্গু বাহি এডিস মশা নিধন কার্যক্রম তৎপরতার ব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা শুধু বর্তমান ১/২ মাস না সারা বছরই জন সমাগম এলাকাগুলোতে মাইকিং করে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে সাধারণ জনগণদের বরাবরই সচেতন করে আসছি। পাশাপাশি নগরভবনের সকল পরিচ্ছন্ন কর্মী দ্বারা এলাকার অলিগলি ড্রেন নর্দমা পয়নিস্কাশন করে এডিস মশা নিধনের জীবাণুনাশক ঔষধ পর্যাপ্ত সরবরাহ করা হচ্ছে।
তানারা আরো বলেন আমরা যতই সচেতনতা এবং পয়নিষ্কাশন এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখি না কেন সে ক্ষেত্রে যদি সাধারন জনগন নিজেরাই সচেতন না হয় তাহলে এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান পাওয়া কিছুতেই সম্ভব না।
কারণ এডিস মশার জন্ম ও বংশ বিস্তার করে ফুলের টবে জমে থাকা পানি এসির পানি ফ্রিজের পানি ও টায়ার এবং ময়লা ঘরের ভেতর আবর্জনার স্তুপ থেকে।
আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তো আর প্রতিটা ঘরে ঘরে গিয়ে এসমস্ত ময়লা আবর্জনা ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে দেওয়াটা সম্ভব না।
সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষেরা সচেতন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার কোন বিকল্প নাই। এবং দিনের বেলাতেও ঘুমানোর সময় মশারি টানিয়ে ঘুমানোর জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
পাশাপাশি খুলনা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া ও যেকোনো মহামারীর ক্ষেত্রে সকল ধরনের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।