• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
ঠিকাদারের পক্ষে ফরমায়েসী সংবাদের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন তফসিলের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টার, ব্যানার না সরালে ব্যবস্থা মধ্যনগরে সংবাদ সম্মেলন করে দল ছাড়লেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক- ফরিদ মিয়া সুনামগঞ্জে বিএনপির ফাঁকা ২ আসনে মনোনয়ন ঘোষণা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো:রতন শেখ পিপিএম সুনামগঞ্জে দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী জমকালো আয়োজনে পালিত সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ৯১ বোতল বিদেশী মদসহ ০১ জন গ্রেফতার জামালগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় ১জন নিহত সিএনজি চালকসহ ৩জন আহত মধ্যনগরে যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেনের মায়ের ইন্তেকাল: যুবদলের শোক সুনামগঞ্জের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল বাসারের ইন্তেকাল
প্রকাশ : October 26, 2022

সিত্রাংনয় জলোচ্ছ্বাস ও বৃষ্টিতে স্বপ্ন হারালো খুলনার আমন ধান চাষী ও মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা

 

বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফঃ

খুলনার সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেছেন যে পরিমাণে আমরা আসংখ্যা করেছিলাম ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে আঘাত হানার কথা থাকলেও ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা নাগাদ আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকা গুলিতে।
তবে সেটি খুবই দ্রুত গতিতে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করার কারণে এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুপাতে বাতাসের তীব্রতা কমতে থাকার ফলে আশঙ্কাজনকভাবে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ এর পাশাপাশি একই মত পোষণ করেছেন খুলনা বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে
উপকূলীয় এলাকার কৃষিখাতে এবং মৎস্য ঘের প্রকল্পে ব্যাপক ক্ষতির সন্ধান পাওয়া গেছে।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর আঘাতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের । সাথে সম্ভাবনার স্বপ্ন হারিয়েছে ঘের মালিক মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
তবে আবহাওয়াবিদ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সুন্দরবনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন।
আমাদের উপকূলীয় এলাকা দক্ষিণাঞ্চল বারবার আর ঝড়ের হিংস্র আঘাতে হাত থেকে রক্ষাপাই একমাত্র সুন্দরবনের কারণে। তবুও এবার উল্লেখযোগ্য তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বেশ কিছু ঘরবাড়ি গাছপালা উপড়ে পরেছে এবং মোট ১১জনের জনের প্রান হানির তথ্য পাওয়াগিয়েছে।

পাশাপাশি খুলনা বিভাগীয় কৃষি অধিদপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা বলেছেন এ বছরের বর্ষার মৌসুম শুরু থেকেই আবহাওয়ার বৈরী আচরণ এবং সময় মতন বৃষ্টিতে পানি না থাকার কারণে ।
আমন ধানের সম্ভাবনা নিয়ে কৃষকদের নানান দুশ্চিন্তায় থাকার শেষ মুহূর্তে প্রকৃতির লীলায় কিছু বৃষ্টির দেখা দেওয়ার পরে কৃষকরা আমন ধান রোপণ করে তাদের বছরের অন্যতম ফসল আমন ধানের কিছুটা হলেও উজ্জ্বল সম্ভাবনার আশার আলো দেখতে পেয়েছিল। সাথে কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে সার কীটনাশক সহ সকল ধরনের সহযোগিতা ছিল কৃষকদের এক্ষেত্রে।
কৃষি অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরো বলেন অল্প সময়ের ব্যবধানে আমন ধানের ফলন খুব ভালো রূপ ধারণ করেছিল।
কিন্তু গেল ২৪ এবং ২৫ অক্টোবর প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর আঘাতে তেমন কোনো ক্ষতি না হলেও বিরামহীন ভাবে মুষলধারা বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা খুলনা ও বরিশাল বিভাগের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান মুষলধারা ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে নুয়ে পড়েছে মাটিতে।

যা স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারদের পরিসংখ্যান হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৮০ % আমন ধান ক্ষতির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন কৃষি অধিদপ্তর।

এদিকে আবার বাংলাদেশের অন্যতম মৎস্য চাষের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত খুলনা ও বরিশাল বিভাগ। তথাপিও এলাকাগুলো গত কিছুদিন আগে নিম্নচাপ ও জলোচ্ছ্বাসে হয়েছিল যাতে করে অধিকাংশ ঘের প্লাবিত হয়ে অনেকটাই ক্ষতিরগ্রস্থ হয় ঘের মালিকরা।
এ অঞ্চলের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলে বলেছেন এলাকার মৎস্যচাষীদের পুরাতন ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই নতুন করে আবারও দগদগে ঘা সাথে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ জেগেছে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় এর কারণে।
এতে করে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মৎস্য ঘের পুকুর প্লাবিত হয়ে চাষকৃত অধিকাংশ মাছ ভেসে গিয়েছে।
তিনি এর মূল কারণ হিসেবে সিত্রাংকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির আলোকে আনতে না পারলে ও উল্লেখ করেছেন সমুদ্রও নদীতে ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলোচ্ছ্বাস ও ভারী বর্ষণকে এই ক্ষতির মূল কারণ ধরা হয়েছে।

খুলনা বিভাগের অধিকাংশ এলাকা যেমন সাতক্ষীরা কয়রা চালনা দাকোপ রামপাল বাগেরহাট মংলা দিগরাজা আজগড়া আমতলা তেরোখাদা বটিয়াঘাটা অত্র এলাকায় যত মাছের ঘের ছিল সবই প্লাবিত হয়ে ভেসে যাওয়ার কথা ও তিনি বলেছেন।

তাতে করে প্রায় হাজারখানেক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন খুলনা বিভাগের মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা।

পাশাপাশি মংলা দ্বীগরাজের বিশিষ্ট মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী মালিক মোখলেছ মিয়া বলেন আমার মংলা বাগেরহাট দিগরাজ এলাকা জুড়ে প্রায় ৩৭ টি মাছের ঘের খণ্ড খণ্ড ভাবে রয়েছে।
আর প্রতিটা মৎস্য ঘের প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। আর বাংলাদেশের সব থেকে বৃহৎ মৎস্য শিল্প হিসাবে খুলনা দক্ষিণ অঞ্চল কে ধরে নেওয়া হয়।

যেখান থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে বিদেশে মাছ রপ্তানির মাধ্যমে।

কিন্তু এবার তার বিপরীত ধাক্কার মুখে পড়েছি আমরা ঘের মৎস্যচাষী ব্যবসায়ীরা। কারণ গত দেড় মাস আগেও একটি নিম্নচাপের ফলে অধিক পানি বৃদ্ধি পেয়ে অধিকাংশ মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়ে প্রায় ২৫ % মাছ ভেসে গিয়ে কিছু ক্ষতি হয়েছিল। তবে এবারের জলোচ্ছ্বাসে সম্পূর্ণ ক্ষতির মুখে আমরা মৎস্য চাষীরা।
যার কারণে এবার লাভের উল্টো ঘা লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ গুনার কথা জানালেন মৎস্য ঘের মালিকরা।
সাথে সরকার ও রাজস্ব হারাবে খুলনা বিভাগীয় এলাকা মৎস্যচাষের প্রকল্প থেকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন