মোঃআব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
তিনদিন পর জেলা পরিষদ নির্বাচন। ইউনিয়নে, উপজেলায় ও পৌরসভায় চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। প্রচারনার শেষ পর্যায়ে এসে হার জিতের হিসাব নিকেশ করছেন তারা। চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ড. খায়রুল কবির রুমেন। জেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ তাঁর পক্ষে মাঠে নামলেও বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল হুদা মুকুটের সঙ্গে আছেন আওয়ামীলীগের আরেকটি প্রভাবশালী অংশ। এ কারণে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন ড. রুমেন। এদিকে মুকুটের বিজয় ঠেকাতে রুমেনের চতুর্মুখী বাধা। রুমেনের ভাই জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামীলীগের সভা ডেকে বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মুকুটকে দল থেকে বহিস্কার করেন। তাকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিউর রহমান সহযোগীতা করেন। তার এই বহিস্কার আদেশ অগঠনতান্ত্রিক বলে উড়িয়ে দেন মুকুট। এবং তিনি সংবাদ সম্মেলন ডেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বহিস্কার দাবি করেন। এসময় তার সাথে জেলা আওয়ামীলীগের আরেকটি অংশ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিকে ভোটারদের মধ্যে কিছুটা প্রভাব পড়লেও মুকুটের সংবাদ সম্মেলনের পর ধোঁয়াশা কেটে যায়। পরে মুকুটের ভাই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের আহবায়ক খায়রুল হুদা চপলকে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থানের অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নিকট অভিযোগ দাখিল করেন। এমন অভিযোগ থেকে বাদ দেয়নি মুকুটের স্ত্রী জেলা মহিলা আওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক হুসনা হুদাকেও। শেষ পর্যন্ত মুকুটের প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রীট করে বসেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ড. রুমেন। হাইকোর্টে করা সেই রীট বাতিল হয়ে যায়। এভাবেই বাধার মুখে পড়েন মটর সাইকেলের প্রার্থী মুকুট। সব বাধা ডিঙিয়ে তিনি দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। সবখানেই সরব আলোচনা মুকুটকে ঘিরে। ভোটারা অনেকেই প্রকাশ্যেই মুকুটের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। রুমেনের পক্ষে ভোটারদের প্রকাশ্যে তেমন দেখা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে মুকুট এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদে মোট ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২ শত ২৯ ভোট।