চলমান ডেক্স: সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ইন্সপেক্টর মোঃ রতন শেখ পিপিএম। এর আগে তিনি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার মাধ্যমে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিলেন।
বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা অনেক সময় প্রশ্নের মুখে পড়ে। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জের ভিড়েও কিছু কর্মকর্তা তাঁদের নিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতার মাধ্যমে হয়ে ওঠেন ভরসার প্রতীক। ওসি মোঃ রতন শেখ তাদের একজন। দায়িত্ব গ্রহণ করলেই তিনি সাধারণ মানুষের মনে আস্থা জাগান—অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে হয়ে ওঠেন আতঙ্ক।
ঘুষ ও অন্যায্য সুবিধার বিরুদ্ধে সবসময় কঠোর অবস্থানে থাকা রতন শেখের সততাই তাকে আলাদা করে তুলে। এজন্য তাকে স্থানীয় মানুষজন শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তা নয়, বরং একজন অভিভাবক হিসেবেও দেখেন।
ব্যক্তিগত জীবন-
রতন শেখ ১৯৭৩ সালের ৫ নভেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার হরিণখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা মরহুম ইসমাইল শেখ ও মরহুমা রিজিয়া বেগম। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি দুই ভাইয়ের একজন। স্ত্রী নিগার সুলতানা একজন গৃহিণী এবং তাঁদের একমাত্র কন্যা আরিশা নূর রাইসা এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। শৈশব থেকেই ইসলামি মূল্যবোধে বেড়ে ওঠা রতন শেখ বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবন-
১৯৯৪ সালে এসআই হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন রতন শেখ। সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে তার প্রথম কর্মস্থল ছিল মাগুরা সদর থানা। এর পর তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে জিআরও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরায় কোর্ট ইন্সপেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন।
২০১০ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর সাতক্ষীরায় ওসি তদন্ত হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি থানায় দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩-২০১৪ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে কর্মরত থেকে আন্তর্জাতিক প্রশংসা কুড়ান।
দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন—
আইজিপি ব্যাজ (২ বার), জাতিসংঘ শান্তি মিশন পদক, শুদ্ধাচার পুরস্কার।