দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে প্রবাসে নেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বুরহান উদ্দীনের বিরুদ্ধে একই গ্রামের মাজহারুল ইসলামকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০ জুলাই মাজহারুল ইসলাম সৌদি আরবে যান। যাওয়ার আগে মাসিক ১৫০০ রিয়াল বেতন এবং প্রতি দুই বছর পর কোম্পানির মাধ্যমে ভিসা নবায়নের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু আট মাস অতিবাহিত হলেও তিনি কোনো স্থায়ী কাজ পাননি এবং এখনো তার বৈধ আকামা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাজহারুল ইসলামের চাচা ফজলুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রবাসে নেওয়ার নামে আর্থিক লেনদেন করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও উল্টো হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় পঞ্চায়েতের উদ্যোগে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত বুরহান উদ্দীন ১৫ দিনের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী কাজ ও কাগজপত্রের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বর্তমানে মাজহারুল ইসলাম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্রবাসে রয়েছেন বলে পরিবার দাবি করেছে। এতে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত বুরহান উদ্দীন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, মাজহারুল ইসলামকে কোম্পানিতে কাজ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেই বিভিন্ন অজুহাতে কাজ ছেড়ে দেন। তার ভাষ্যমতে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।