মোঃআব্দুল শহীদ সুনামগহ্জ প্রতিনিধিঃ
বিশ্বম্ভরপুরের রতারগাঁওয়ে নিহত ফয়জুল হকের (২৪) পরিবারের দাবী শ্বশুর বাড়ির লোকজন শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দিবাগত রাত ১২ টায় উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের রতারগাঁও গ্রামস্থ শ্বশুর আব্দুল মালেকের বসত বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ নিহতের লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছেন। এ ঘটনায় বিশ্বম্ভরপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। যার নং-২১/২২ তারিখঃ ১৪/৯/২২ইং। এদিকে নিহতের আপন বড় ভাই যুবলীগ কর্মী হাবিজুল হক বাদী হয়ে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে গত ১৮/৯/২২ ইং তারিখে আমল গ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিশ্বম্ভরপুর জোন সুনামগঞ্জে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আমার ভাই পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রি ছিলেন। ঘটনার আগ থেকে ১নং আসামী আব্দুল মালেক তার বসতবাড়িতে একটি টিনশেড হাফ বিল্ডিং নির্মাণ করার জন্য ফয়জুল হককে দায়িত্ব দেয়। কাজ শেষে ১নং আসামীর নিকট আমার ভাইয়ের এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা পাওনা হয়। নির্মাণ কাজ করার সময় আব্দুল মালেকের মেয়ে ২নং আসামী শিউলী আক্তারের সাথে ফয়জুল হকের বিয়ে হয়। পাওনা টাকা নিয়ে আব্দুল মালেকের সাথে ফয়জুল হকের মনোমালিন্য চলতে থাকে। ফয়জুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী ২নং আসামী শিউলী আক্তারের সাথে মন কষাকষি চলে। শিউলী আক্তার প্রায়ই ফয়জুল হককে হুমকি প্রদান করে বলত তার প্রথম স্ত্রী মোছাঃ তাসলিমা বেগমকে তালাক না দিলে ফয়জুল হককে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে। ঘটনার দিন সকালে শিউলী আক্তার রতারগাঁও থেকে ফয়জুল হকের বাড়িতে এসে তাদের বাড়ি রতারগাঁও যাওয়ার জন্য দাওয়াত দিয়ে বলেন বাবা তোমার পাওনা টাকা দিয়ে দিবেন বলেছেন চল আমাদের বাড়িতে চলে যাই। পরে বিকালে শিউলী আক্তারকে সাথে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি রতারগাঁও গ্রামে যায়। রাতে ফয়জুল হক বাড়ি ফিরতে দেরি হলে আমরা খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত ১২ টায় ২নং সাক্ষী ফয়জুল হকের বাড়িতে এসে জানিয়েছে ফয়জুল হককে বেধেঁ রেখেছে। রাত বেশি হওয়ায় বাড়ি থেকে বের হইনি। সকাল ৭/৮ টায় স্বাক্ষী সাদেক মিয়া আমাকে মোবাইল ফোনে জানায় এবং লোক মুখে জানতে পারি ফয়জুল হকের লাশ আব্দুল হোসেনের পুকুর পাড়ে পরে আছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ফয়জুল হকের শরীরে কয়েকটি দাগ রয়েছে এবং মুখ ও কান দিয়ে প্রচুর পরিমান রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। বিশ্বম্ভরপুর থানার এসআই অঞ্জন কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে সুরতহাল রির্পোট প্রস্তুত করছেন। দাফন কাপন শেষে সন্ধ্যায় থানায় যাওয়ার জন্য বলেন, যাওয়ার পর থানা কর্তৃপক্ষ নানা টাল বাহানা করে মামলা রেকর্ডৃ না করে এসআই অঞ্জন সরকার ও শংকর বাবু মিলে একটি অপমৃত্যু মামলা লিখে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলে। পরে আমি অসুস্থ্য অবস্থায় স্বাক্ষর করি।এখন পযর্ন্ত হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নেননি স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার দিন পলাশ ইউপি-চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ,ধনপুর ইউপি-চেয়ারম্যান মিলন আহমেদ ও আবুল কাসেম ঘটনাস্থলে এসে সন্তান হারা মাকে সান্তনা না দিয়ে নিরপরাদ কাউকে যেন মামলা দিয়ে হয়রানি করা না হয় শাসিয়ে যান। আবুল কাসেম ঐ ঘটনার সাথে জড়িত থাকতে পারে। সে আসামীদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করছে।
আবুল কাসেম বলেন, ফয়জুল হকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আসামী পক্ষের কাউকে আমি সাহায্য করিনি।
চেয়ারম্যান মিলন আহমেদ নিহতের শোকাহত পরিবারকে শান্তনা দিয়ে বলেন ফয়জুল হকের ফরেনসিক রির্পোট পাওয়ার পর যদি দেখা যায় তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। তাহলে সে যেই হোক না কেন আমরা সবাই মিলে তাকে আইনের হাতে র্সোপদ করব। কিন্তু নিরপরাদ কাউকে মামলায় না জড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন।
বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ মো, ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই থানায় অপমৃত্যু মামলা করেছে।