বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ইতিহাসে এই দিন থেকে শুরু হয় পাকিস্তানি পরাশক্তির বিরুদ্ধে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর এ যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের
আত্ম বলিদানও ৩ লক্ষ মা বোনদের সম্ভ্রমহাণির মধ্য দিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে পাকিস্তানি হানাদারদের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আহবানে জীবনের
সকল মায়া মহত্ত্ব ত্যাগ করে নিরাস্ত্র বাঙালি ঝাপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে।
এর আগে ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অলিখিত টানা ১৮ মিনিটের বজ্রকণ্ঠের বিশ্বকাপানো ভাষণের মাধ্যমে এদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা মাত্র সময়ের ব্যাপার।
তবুও ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের নির্মম পৈশাচিক হিংস্রতা ক্রমান্বয়ে অত্যাচার নির্যাতন বাঙ্গালীদেরপ্রতি আরো উগ্র প্রখর হয়ে ওঠে।
এবং পর্যায়ক্রমে পাকিস্তানিদের অমানুষিক হিংস্রতার লালসার শিকার হয়ে চরম অত্যাচার নির্যাতনে বাঙালি জাতির অমূল্য সম্পদ দেশের জাতীয় নেতাগন দেশবরেণ্য সাংবাদিক সহ আরো উদীয়মান প্রতিভা নিবিড়ে প্রাণ দিয়ে শহীদ হয়েছিল।
অতঃপর প্রতিবাদী বাঙালি এই অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা মুক্তিকামি বাঙালি বঙ্গভূমিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ওই পাকিস্তানি রাজাকার হানাদার বাহিনীদের উপর।
অতঃপর ২৬ মার্চ সকালে ধানমন্ডীর ৩২ নম্বর থেকে পাকিস্তানি ইয়াহিয়া খানের বাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়।
আর তখন বঙ্গবন্ধুকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার খবর শুনে বাংলার মানুষেরা হতভম্ব হয়ে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি এবং দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে বাংলার অকুতোভয়ী সৈনিকরা আরো বিক্ষিপ্ত হয়ে পাকিস্তানিদের পরাজিত করার জন্য যার যা ছিল তাই নিয়ে নেমে পড়েছিল রণাঙ্গনে।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীদের বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র লড়াই শুরু করে এদেশের মুক্তি কামি জনতা।
প্রায় দুই যুগ ধারাবাহিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন। কিন্তু দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ চলাকালীন সময় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধুকে বন্ধী রেখেছিল পাকিস্তানিরা।
সে লক্ষ্যে পাকিস্তানি পরাধীনতার থেকে মুক্তির লড়াইয়ে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন।
মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে এত বেশি মানুষ হত্যার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে বিড়ল।
তাই আজ সকল শহীদদের আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনায় স্বাধীনতা দিবস পালন করা হচ্ছে।
আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে একত্রিশবার তপোধ্বনীর মধ্য দিয়ে দিনটির শুভ সূচনা হয়। এবং খুলনা গল্লামারি বদ্ধভূমি স্মৃতিসৌধে খুলনার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ 30 লক্ষ শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পন করেছেন। তাছাড়া শহরের বিভিন্ন সংগঠন থেকে চিত্র প্রদর্শনী ও শিশুদের অংশগ্রহণের কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রেক্ষাপটের উপর রচনা লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন।
তাছাড়া আছর বাদ বিভিন্ন মসজিদ মন্দির ও উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রার্থনা করা হবে।
খুলনা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে ।
এবং এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ছুটির দিন ।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।