আল মামুন, স্টাফ রিপোর্টার সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সরকারি নদীর তীর দখল করে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি করাত কল (সো মিল) বন্ধের দাবিতে পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগে পরিবেশ দূষণ শব্দদূষণ, চোরাই কাঠ ক্রয়-বিক্রয় এবং জনদুর্ভোগের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগকারী মোঃ সাহেদ আহমদ, পিতা-আব্দুল মমিন, গ্রাম বুরাইয়া, ডাকঘর দোলার বাজার, উপজেলা ছাতক, জেলা সুনামগঞ্জ। তিনি এলাকাবাসীর পক্ষে সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্রের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০২৬।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছাতক থানার বিপরীত পাশে চরবন্দ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা আলী আলম সরকারি নদীর পাড় দখল করে অনুমোদনবিহীন একটি করাত কল স্থাপন করেছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে আনা চোরাই কাঠ ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা কিংবা বনাঞ্চলের ২০০ মিটারের মধ্যে করাত কল স্থাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন কাঠ চেরাইয়ের সময় বিকট শব্দে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। ছাতক-ভোলাগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহন চালকরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি কাঠের গুঁড়া আশপাশের ঘরবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির লোকজন ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে থাকে। বিভিন্ন সময় চোরাই কাঠ কেনাবেচা কেন্দ্র করে সেখানে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ অবস্থায় অবৈধ করাত কলটি দ্রুত বন্ধ করে পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, “ছাতক উপজেলার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।