আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের রঙ্গারচর ইউনিয়নের কান্দি ছমেদনগর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়েছে ২ কনে শিশু। সোমবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার সময় পিতা রমজান মিয়ার বাড়ী থেকে শিশু দুটি নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়া শিশুরা হচ্ছে ফারজানা আক্তার (১৫) ও মারজানা আক্তার (১২)। তারা রঙ্গারচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কান্দি ছমেদনগর গ্রামের মোঃ রমজান মিয়ার কন্যা। জানা যায়, ৪ কনে সন্তানের পিতা রমজান মিয়ার সাথে তার স্ত্রী আছমা খাতুনের পারিবারিক কলহের কারণে সুনামগঞ্জের আমল গ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সদর জোনে সিআর ১১/২০২৩ নং মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন থাকাবস্থায় ৪ কনের মধ্যে বড় ৩ কনে পিতার কাছে এবং ছোট কনে মিনহা (৪) মাতার কাছে গত ১০ মাস যাবৎ অবস্থান করছিল। এর মধ্যে গত রমজান মাসের পূর্বে মঙ্গলকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩নং কনে মাহিয়া আক্তার (৯) কে তার মাতা আছমা খাতুন নিয়ে যায়। এরপর থেকে স্থানীয় জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের জ্ঞাতসারে শিশু মাহিয়া ও মিনহা তাদের মায়ের কাছে অবস্থান করছে। এদিকে ৩ কনের মধ্যে পিতার কাছে থাকা বড় ২ কন্যা যথাক্রমে ফারজানা আক্তার ও মারজানা আক্তার সোমবার সন্ধ্যা ৭টার সময় হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়। ঐ সময় বাড়ীতে বিদ্যূৎ ছিলনা। অসহায় পিতা রমজান মিয়া স্বশুড়বাড়ী সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও গ্রামে মেম্বার আনোয়ার হোসেন বাবুলসহ অন্যান্য লোকজনদের মাধ্যমে তার কনে শিশুদের অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতেও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪ টায় এবং আগের দিন সোমবার রাত ১২টায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসারের কাছে জানালে কর্তব্যরত কর্মকর্তা হারানো ২ কনের পিতা রমজান মিয়াকে আরো অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের প্রতীক্ষায় এখনও প্রহর গুনছেন রমজান মিয়া। নিজের শিশুদের সন্ধানের ব্যাপারে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সকলের সাহায্য কামনা করেছেন।
সুনামগঞ্জে হাফিজ মাওলানা ফয়েজ আহমদের
মৃত্যু দন্ডাদেশ বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে হাফিজ মাওলানা ফয়েজ আহমদের মৃত্যু দন্ডাদেশ বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) দুপুরে শহরের পৌরবিপনী মার্কেটে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা ফয়েজ আহমদের স্ত্রী মোছাঃ রাবেয়া বসরী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত বছরের ২১ জুলাই সুনামগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে একটি খুনের ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য দিবালোকে সংগঠিত উক্ত খুনের ঘটনার সাথে আমার স্বামী সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের গলাখাল গ্রাম নিবাসী মাওলানা ফয়েজ আহমেদ ও তার ভাই মুফতি মোঃ ইসরাইল আলী মারজান আদৌ জড়িত ছিলেননা। বিজ্ঞ আদালত এলাকার ঐদিনকার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ প্রত্যক্ষ করিলে এবং ঐদিনকার প্রত্যক্ষদর্শী বিজ্ঞ আইনজীবী,আইনজীবী সহকারী ও বিচারপ্রার্থীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে খুনের ঘটনার সাথে আমার স্বামী মাওলানা ফয়েজ আহমদ ও তার ভাই মুফতি ইসরাইলের জড়িত না থাকার উপযুক্ত সাক্ষী প্রমাণ পাওয়া যাবে। তারপরও বাদীপক্ষ লন্ডনী টাকার গরমে আমার স্বামী নিরপরাধ হাফিজ মাওলানা ফয়েজ আহমদ ও তার ভাই ইসরাইলকে তাদের দায়েরকৃত মামলায় অন্যায়ভাবে আসামী করার পাশাপাশি হয়রানীমূলকভাবে অভিযোগপত্রে দোষী সাব্যস্ত করে। স্বল্প সময়ের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ে আমার স্বামী মাওলানা ফয়েজ আহমদ এর মৃত্যদন্ড ও তার ভাই মুফতি ইসরাইলের যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ হয়। আমরা বাদীপক্ষের প্রবল বাধা ও অমানবিক নির্যাতনের মুখে এবং আমাদের আর্থিক অভাব অনটনের কারণে আলোচিত মামলার রায়ে যুক্তিতর্ক,প্রমাণ উপস্থাপনের পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। যে কারণে প্রকৃত আসামীর পরিবর্তে একতরফাভাবে মাওলানা ফয়েজ আহমদ এর মৃত্যু দন্ডাদেশ ও তার ভাই মুফতি মোঃ ইসরাইল এর যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে রায়ের অবিকল নকলের জন্য আবেদন করেছি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবরে আবেদন দায়েরের চেষ্টায় আছি। উচ্চ আদালতে আপীল দায়েরের মাধ্যমে যেকোন মূল্যে আমরা প্রমাণ করবো উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে আমার স্বামী মাওলানা ফয়েজ আহমদ ও তার ভাই মুফতি ইসরাইল আলী মারজান আদৌ জড়িত ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে মুফতি ইসরাইল এর স্ত্রী নাজিরা ইসলাম ও মাওলানা ফয়েজ আহমদের শ্বশুড় মোঃ আবুল কালাম,শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা তৈয়িব্যূর রহমান চৌধুরী,মাওলানা মহিবুর রহমান চৌধুরী,তাফহিজুল কোরআন পরিষদ বাংলাদেশ এর সভাপতি হাফিজ মাওলানা লোকমান আহমদ,সাধারণ সম্পাদক হাফিজ হেলাল আহমদ,ব্যবসায়ী মাওলানা হাফিজ তোয়াহা হোসেন,হাফিজ মাওলানা ওসমান গনী,মাওলানা রুকন উদ্দিন,মাওলানা আব্দুল হাই ও মাওলানা ছালিক আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য আদালত প্রাঙ্গনে প্রকাশ্য দিবালোকে সংগঠিত খুনের ঘটনায় জড়িত প্রকৃত খুনী এহসানুল করিম শাহানকে তাৎক্ষনিকভাবে আইনজীবী সহকারীরা হাতেনাতে আটক করে কোর্ট পুলিশে সোপর্দ করলে পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যায় উক্ত খুনি। এখন পর্যন্ত পলাতক রয়েছে পালিয়ে যাওয়া শাহান। তাকে না পেয়ে উত্তেজিত বাদীপক্ষের লোকজন আদালতে আসা নিরপরাধ ফয়েজ আহমদসহ ৩ জনকে থানা পুলিশে ধরিয়ে দেয় সেদিন।
আল-হেলাল
সুনামগঞ্জ
তারিখ-২২.০৮.২০২৩ইং