• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৯ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
মিজান ও খন্দকার ব্রিকস ইটভাটাকে জরিমানা, বন্ধ কার্যক্রম হাওরের মাটি কাটায় ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক, দুর্ঘটনার দায় প্রশাসনেরও-আইনি প্রশ্নে তোলপাড় আধুনিক সংবাদ”-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটির দোয়া ও ইফতার মাহফিল সুনামগঞ্জে ১১৫ তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত উলিপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীদের পিছনে রেখেই দিবস পালন, জনমনে ক্ষোভ ১ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে যুবকের বিরুদ্ধে মাদক মামলা, তাহিরপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন অধিক মুনাফার আশায় তেল মজুদ, সুনামগঞ্জে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের বিশেষ  অভিযানে মাদক ইয়াবাসহ-১২জন আটক গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইউকের উদ্যোগে দরিদ্রদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সুনামগঞ্জে অনুভবের অলিন্দ’ প্রবন্ধর পাঠ উন্মোচন
প্রকাশ : March 8, 2026

হাওরের মাটি কাটায় ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক, দুর্ঘটনার দায় প্রশাসনেরও-আইনি প্রশ্নে তোলপাড়

📸 Photo Card Download

রিপোর্টার নাম / ৪ জন পড়েছে
আপডেট : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় অব্যাহতভাবে অবৈধ মাটি কাটার কারণে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে এসব সড়ক কাদায় পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনে দীর্ঘদিন ধরে হাওরের মাটি কাটা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার (৯ মার্চ) রাতে বৃষ্টির পর বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। কাদামাটিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এক মোটরবাইক রাইডার আমিনুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন, “জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও এসিল্যান্ডদের ধরে ধরে বৃষ্টির সময় এসব রাস্তায় বাইক রাইড করানো উচিত, তাহলে তারা বাস্তব অবস্থা বুঝতে পারবেন।”
তার পোস্টের নিচে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, মাটি কাটার সঙ্গে প্রভাবশালী চক্র জড়িত এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, হাওর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক ও ট্রলি দিয়ে অবাধে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে সড়কের পাশে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় মাটি পড়ে সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অবৈধ মাটি কাটা একাধিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন 2010 অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া মাটি বা বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া সড়কের ক্ষতি বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে দন্ডবিডি 1860-এর ২৬৮ ধারায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি (Public Nuisance) এবং ২৮৩ ধারায় জনপথে বিপদ বা বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতির বাস্তবতা বোঝার জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)দের বৃষ্টির সময় এসব সড়কে সরেজমিন পরিদর্শন করা উচিত। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও ঝুঁকির বাস্তব চিত্র তাদের সামনে স্পষ্ট হবে।
হাওর অঞ্চলের মানুষের দাবি, সড়কের বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে এর দায় কেবল চালকদের নয়—অবৈধ মাটি কাটায় জড়িত চক্রের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনেরও রয়েছে। তারা দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহনে প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত হাওর এলাকায় অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক থেকে মাটি অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন