নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মাত্র ১ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের অভিযোগে এক যুবককে মাদক কারবারি সাজিয়ে মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় তাহিরপুর থানার এসআই পংকজ দাশ তিন কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে উপজেলার মধ্য তাহিরপুর এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় স্থানীয় যুবক আমান উল্লাহকে আটক করে তার কাছ থেকে ১ পুরিয়া (প্রায় ১৫ গ্রাম) গাঁজা জব্দ দেখানো হয়।
পরে ওই এসআই নিজেই বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আমান উল্লাহকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তাকে মাদক বিক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রবিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসামি আমান উল্লাহ মধ্য তাহিরপুর এলাকার বাসিন্দা হবি রহমানের ছেলে।
এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় আমান উল্লাহর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। পরিবারের নিষেধ উপেক্ষা করে মাঝে মাঝে নেশা করতেন। শনিবার সন্ধ্যায় রাস্তা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ ১ পুরিয়া গাঁজা জব্দ দেখিয়ে মাদক কারবারি হিসেবে মামলা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ আলম তুলিপ বলেন, “আইনগতভাবে বিষয়টি পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত। তবে ৫০ গ্রাম, ১০০ গ্রাম বা তার বেশি নয়, মাত্র ১ পুরিয়া (১৫ গ্রাম) গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় কাউকে মাদক কারবারি হিসেবে মামলা দেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। এমন ক্ষেত্রে অনেক সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়াও সম্ভব ছিল।”
অভিযোগের বিষয়ে তাহিরপুর থানার এসআই পংকজ দাশ বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আমান উল্লাহকে মাদক মামলায় আসামি করা হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।