• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
সুনামগঞ্জে ডিসির নিষেধ অমান্য করে বর্ষবরণ পালন করলো উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সুনামগঞ্জে বাণী সংগীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ঝমকালো আয়োজনে বৈশাখী বর্ষবরণ-১৪৩৩ উদযাপন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বিলাল উদ্দিন হত্যা মামলার দুই আসামি কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার সুনামগঞ্জে ইউরোপে কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা: নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার ১ বনগাঁও বাজারে মাদকবিক্রেতা ও চোরাকারবারীদের হামলায় বিএনপি নেতা বুলবুল আহত সুনামগঞ্জে উদীচীর বর্ষবরণে জেলা প্রশাসনের বাধা: প্রতিবাদ ও কর্মসূচি ঘোষণা শান্তিগঞ্জে হাওর বাঁচাও আন্দোলন’র আওলাদ হোসেন ও সাজ্জাদুর বহিষ্কার ‎ হাইকোর্টের আদেশে ৫ মাস সময় পেলেন যাদুকাটা নদীর দুই ইজারাদার সুনামগঞ্জে ‘ভাটি বাংলা হাওর উপাখ্যান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন সুনামগঞ্জ মধ্যনগরে বাঁধের মাটি চাপায় যুবকের মৃত্যু
প্রকাশ : April 14, 2026

সুনামগঞ্জে ডিসির নিষেধ অমান্য করে বর্ষবরণ পালন করলো উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী

📸 Photo Card Download

রিপোর্টার নাম / ২ জন পড়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

আল হেলাল সুনামগঞ্জ: “লুটপাটতন্ত্রের বিনাশ হোক,সংস্কৃতির জয় হোক,প্রতিবাদ হোক প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির এবং দালাল কুকুর হইতে সাবধান”ইত্যাদি শ্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা,আলোচনা সভা ও গান নাটক পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে সুনামগঞ্জে একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। বর্ষবরন উদযাপনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জেলা শাখার আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নতুন সাহেবেরচর গ্রামের এম.এ মালেক মিয়ার পুত্র ডিসি ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া (পরিচিতি নং ১৫৯০৭) এর নেতৃত্বাধীন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। কিন্তু জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপক্ষো করেই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান করেছেন জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ শহরের হোসেন বখত চত্বরে গানে গানে বর্ষবরণ উদযাপন করে জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সকালে প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশন ও দুপুরে জাহাঙ্গীর আলমের রচনায় ও সাইদুর রহমান আসাদের সঞ্চালনায় পথনাটক বাঁধ মঞ্চস্থ করা হয়। শেষে শহরে গানের মিছিল বের করা হয়।
জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ও সহ সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান আসাদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোঃ রেজাউল হক, লেখক সুখেন্দু সেন, জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মোনাজ্জির হোসেন সুজন, জেলা খেলাঘরের সভাপতি বিজন সেন রায়, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খলিল রহমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক সন্তোষ কুমার চন্দ মন্তোষ, সোহেল রানা, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু তাহের মিয়া, হাওর ও নদীরক্ষা আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন শ্রেণির সংস্কৃতিমনা লোকজন অংশগ্রহণ করেন ও সংহিত প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন,একটি বা দুটি নয় একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইলিয়াস মিয়া সংস্কৃতিবিরোধী একজন উগ্র প্রশাসক। মব সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে উদীচীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অবাঞ্চিত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মুক্ত সংস্কৃতি চর্চার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন তিনি। যা সুনামগঞ্জের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি। এর আগে রোববার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতি শীলা রায় ও সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতির জন্য আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গানের তালিকা ও অন্যান্য পরিবেশনার বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। উদীচীর নেতারা এই শর্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে বিকল্প স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে জেলা প্রশাসন জানিয়ে দেয় যে সুনামগঞ্জ শহরের কোথাও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না।
সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাধীন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পরিপন্থি এবং এটি মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চাকে বাধাগ্রস্থ করার শামিল। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, নানা প্রতিকূলতা স্বত্তেও উদীচী সবসময়ই গণমানুষের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। শহরের উন্মুক্ত স্থানে বিকল্পভাবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তারা।
জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ উদীচী সবসময় বঞ্চিত উপেক্ষিত মানুষের, গণমানুষের কথা বলে। জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমাদের অনুষ্ঠানের পূর্ব নির্ধারিত জায়গা সুরমা নদীর তীরের রিভারভিউর বটতলায় জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আমরা উন্মুক্ত স্থানে বর্ষবরণ ও হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের অনিয়ম-দুর্নীতির বাস্তব ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদী নাটক বাঁধ মঞ্চস্থ করেছি।
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০০৮ সাল থেকে সুনামগঞ্জে উদীচীর অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। প্রশাসনের অনুমতির জন্য আবেদন করার পর উদীচীর কাছে গানের তালিকা ও নাটকের স্ক্রিপ্ট চাওয়া হয়। কিন্তু উদীচী কারো কাছে এসব দিতে দায়বদ্ধ নয়। হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের অনিয়ম-দুর্নীতি ও কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে উদীচী কথা বলায় জেলা প্রশাসন কোথাও অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি। উদীচী গণমানুষের একটি সংগঠন তাই বৈশাখের তপ্ত আবহাওয়া ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, জেলা প্রশাসনের কথামতো অনুষ্ঠান করতে হবে এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উদীচীর অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে জেলা প্রশাসন মোটেও ভালো কাজ করেননি। বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া পাকিস্তানি চিন্তা-চেতনার শামিল।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যেহেতু সরকারিভাবে সব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। উদীচীকেও সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে আলাদা অনুমোদন দেওয়া যায় কীভাবে। জেলা প্রশাসককে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী উল্লেখ করে গীতিকার নির্মল কর বলেন, একজন জেলা প্রশাসক জগণ্য মিথ্যাচার করতে পারেন তা কল্পনাও করতে পারিনি। তিনি অন্যায় এবং অযৌক্তিক দাবী করে বলেছেন, সরকারীভাবে সব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠান করা হয়ে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন