• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
মধ্যনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ গোয়াইনঘাট প্রবাসী সমাজকল্যাণ পরিষদ ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উলিপুরে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে-মাহবুবুল আলম সালেহী সিলেটে ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ সুনামগঞ্জে তৃণমূল দায়িত্বশীলদের নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত নড়াইলে নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত কানাইঘাটে থানা পুলিশের অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ আসামি গ্রেফতার সুনামগঞ্জে ডিসির নিষেধ অমান্য করে বর্ষবরণ পালন করলো উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সুনামগঞ্জে বাণী সংগীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ঝমকালো আয়োজনে বৈশাখী বর্ষবরণ-১৪৩৩ উদযাপন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বিলাল উদ্দিন হত্যা মামলার দুই আসামি কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার
প্রকাশ : April 17, 2026

মধ্যনগরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ

📸 Photo Card Download

রিপোর্টার নাম / ১ জন পড়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য), টি-আর এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্য সহায়তা যথাযথ কাজে ব্যবহার হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ, বংশীকুন্ডা উত্তর, চামড়দানি ও মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, কোথাও নামেমাত্র মাটির প্রলেপ, আবার কোথাও কাজ সম্পন্ন না করেই বরাদ্দকৃত চাল ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক প্রকল্পে নামেমাত্র কাজ দেখিয়ে চাল ও অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। কাবিখা প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিকদের কাজ না দিয়ে বেকু (মাটিখনন যন্ত্র) দিয়ে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করে মাস্টাররোল জমা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, কাবিখা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু অনিয়মের কারণে প্রকৃত শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, ফলে সরকারের এই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন বাদ দিয়ে এমন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যেখানে অনিয়মের সুযোগ বেশি। পলমাটি গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতে আমরা মসজিদে যেতে পারি না। রাস্তা কাদায় ডুবে থাকে। আমরা ইউএনও বরাবর আবেদন করেছি, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বাদ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় স্থানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”
একজন স্থানীয় বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, সাবেক ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট অফিস স্টাফরা জাতীয় নির্বাচনের আগে তাড়াহুড়ো করে প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছেন, যার পেছনে লুটপাটের উদ্দেশ্য ছিল।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক জনপ্রতিনিধি জানান, এসব বরাদ্দ এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগেই দেওয়া হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি না থাকায় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বেশি বরাদ্দ পেয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মেম্বার বলেন, “যেখানে বেশি লাভ, সেখানেই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজান, মন্টু, নাজিম উদ্দীন, মোখলেস, মাফিক, দুলাল, আমিনুল ইসলাম ও আব্দুল আউয়ালসহ অনেকে অভিযোগ করেন, সাইনবোর্ডে ১০-১২ মেট্রিক টন চালের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে কাজ হচ্ছে ১-২ মেট্রিক টনের মতো। তারা বলেন, “এভাবে সরকারি অর্থ লুটপাট চলতে থাকলে দেশের ক্ষতি অনিবার্য।
এ বিষয়ে বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, “রাঙ্গামাটি ও ২৮শা মাছিমপুর এলাকার প্রকল্পগুলোতে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জানানো হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন