চলমান ডেক্স: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর ইউনিয়নের নারায়ণতলা সংলগ্ন বাচ্চুনগর পিকনিক স্পটে চোরাকারবারি কর্তৃক সস্ত্রাসী হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ হামলায় বাচ্চুনগর পিকনিক স্পটের ভলেন্টিয়ার নজরুল ইসলাম (৩০) ও আলম মিয়া (৫০) নামের দুইজন গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
আজ দুপুর দেড় টার সময় সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারি শাকিব মিয়া তার দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে পিকনিক স্পটের ক্যাশ কাউন্টার ভেঙে নগদ টাকা পয়সা লুটপাট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় ও পর্যটক মাধ্যমে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে চোরাকারবারি শাকিব মিয়া ৮/১০ জন লোক নিয়ে পার্কে ডুকে পিকনিক স্পটের সত্ত্বাধিকারী বাচ্চু মিয়ার কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে শাকিব মিয়া গংরা প্রথমে কাউন্টার ভাংচুর করে টাকা পয়সা লুটপাট সহ পার্কের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের সরঞ্জামাদি ভাংচুরের এক পযার্য়ে বাচ্চু মিয়া প্রতিবাদ করলে সংর্ঘষের এক পযার্য়ে ভলেন্টিয়ার সহ কয়েকজন পর্যটক আহত হন।
জগন্নাথপুর থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক শামীম আহমেদ জানান,আজকে বাচ্চু নগর পিকনিক স্পটে যে কান্ড দেখলাম আমার মনে হয় দেশের কোথাও এই ধরনের নেক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি। একদল বাজে প্রকৃতির লোক পার্কের ভেতরে ডুকে চাদা দাবি করছে। চাঁদা না দেওয়ায় পার্কের কাউন্টার সহ ভলেন্টিয়ার এবং পর্যটকদের উপরও হামলা চালিয়েছে। ওদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।
আহত ভলেন্টিয়ার নজরুল ইসলাম বলেন,শাকিব মিয়া একজন পেশাদার চোরাকারবারি। ঘটনা দিন ও সময়ে মাতাল অবস্থায় আমাদের পার্কে ডুকে আমার চাচার কাছে চাঁদা দাবি করে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কাউন্টার ভাংচুর করে টাকা পয়সা লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেছে।
শাকিব মিয়ার মোবাইল ফোনে কল করে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বাচ্চুনগর পিকনিক স্পটের সত্ত্বাধিকারী সাবেক মেম্বার বাচ্চু মিয়া বলেন, বৃহত্তর উত্তর সুরমা এলাকায় বিনোদনের জন্য কোন জায়গা নেই। অন্যদিকে আমার জায়গা-জমি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিনোদনের জন্য পার্ক তৈরি করায় চোরাকারবারিদের শক্রু হয়ে গেছি। আগে তারা নিরবে চোরাচালান ব্যবসা পরিচালনা করত। কিন্তু আমি পার্ক তৈরি করায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা দেখতে আসেন। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন প্রায়ই আমার পার্কে আসার কারণে আগের মত চোরাচালান ব্যবসা করতে পারছে না তারা। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে পার্ক বন্ধ করার জন্য। পার্ক তৈরির শুরু থেকেই শাকিব ছেলেটি আমাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো:রতন শেখ বলেন,পিকনিক স্পষ্ট সংলগ্ন তার বসতবাড়ি। সে পার্কের ভেতরে ডুকতে চাইলে টিকিট মূল্য বিশ টাকার স্থলে পঞ্চাশ টাকা দাবি করেছে। এঘটনাকেই কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন গত ব্যবস্থা নেয়া হবে।