বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :
খুলনা নগরীর নুরনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সম্মেলনে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি থেকে নগরীর উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সকল ধরনের সহযোগিতার ব্যাপারে প্রশংসা করে বলেন।
খুলনা নগর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদা অকূণ্ঠ এবং বলিষ্ঠ্য সহযোগিতার হাত প্রসারিত রেখে খুলনা নগরীকে আধুনিকতার ছুঁয়ায় তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করতে তিনি সর্বদা আগ্রহের সাথে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আসছেন।
তাই নগর উন্নয়ন অগ্রগতীর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় খুলনাকে আরো সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে আমাদের প্রিয় নগরী খুলনা নাগরিক জীবন হবে উন্নতও সমৃদ্ধ।
বর্তমানে খুলনা উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনার উন্নয়নে প্রায় ২৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে ইতিমধ্য ৪৮০ টি রাস্তা নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ সহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
যে বর্জ্য পরিবেশের দূষণ ঘটায় উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য সেইসব বর্জ্য সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ সার ও ডিজেল তৈরি করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন নগরীতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ সৃষ্টি করতে ময়ূর নদী সহ অনেক কয়েকটি খাল খনন কর্মসূচি ওশুরু করা হয়েছে।
এবং কেসিসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৬ নং ওয়ার্ড অফিস কর্তৃক প্রকল্পের উপকারভোগীদের অংশগ্রহণের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সিটি মেয়র আরো বলেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর দরিদ্র হতদরিদ্র মহিলাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় বিগত মেয়র এর সময় প্রকল্প টি মুখ থুবড়ে পড়ে। জন গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি আবার সচল হওয়ায় উপকার ভোগীদের মাঝে প্রাণচঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের যে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে
নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন মানের উন্নতি সাধিত হবে।
এতে কোন সন্দেহ নেই।
তিনি পদ্মা সেতুসহ সরকারের গৃহীত অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্পের উদাহরণ টেনে বলেন উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী মেয়র নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীগণকে পুনরায় নির্বাচিত করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে খুলনার অধিকাংশ মিল কারখানা বন্ধ এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন অথচ বিএনপি এখন কারখানা বন্ধের সমালোচনা করছে। বন্ধ ঘোষিত কলকারখানা শ্রমিক কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করে সরকার এসব কারখানা আবার চালু করবে এবং বহু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কেসিসির ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সম্মেলনের সম্মানিত অতিথির বক্তৃতা করেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিসিবি পরিচালক সোহেল উদ্দিন। শেখ সোহেল বলেন খুলনা আমার জন্মভূমি আমার প্রিয় শহর। এই শহরের মাটি ও মানুষকে আমি একান্ত আপন করে নিয়েছি।
তাই সারা জীবন আমি খুলনার মানুষকে সেবা দিয়ে যেতে চাই।
তিনি আরো বলেন খুলনায় উন্নয়নের যে ধারা সূচি হয়েছে তাতে করে অচিরেই খুলনা মডার্ন সিটিতে পরিণত হবে।
তিনি খুলনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী মেয়র নির্বাচনে পুনরায় তালুকদার আব্দুল খালেক কে এবং খুলনা ২-আসনে সদস্য হিসেবে শেখ সালাউদ্দিন জুয়েলকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
সিডিসির উপকারভোগীদের সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস সাধারণ সম্পাদক তসলিম আহমেদ আশা কেসিসির সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর শেখ আমেনা হালিম বেবী ১৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসান ইফতেখার চালু। স্বাগত বক্তৃতা করেন যমুনা ক্লাসটার এর কোষাধক্ষ্য সুরাইয়া জামান।
কেসিসির কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ পিন্টু খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাসেল সহ সিডিসির নেতা কর্মী স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বিশ্বাস মৃত ব্যক্তির লাশ পরিবহন কাজে ব্যবহারের জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লাশবাহী গাড়ি প্রদান করেন। এ সময় তার সহধর্মিনী তাহেরা খাতুন আপেল বিশ্বাস তার কন্যা আলেয়া আনিস বিশ্বাস নূর উপস্থিত ছিলেন।