বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো চীফ :
চাকুরিচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করার প্রলোভন দিয়ে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার খন্দকার মাজহারুল আনোয়ারের সহযোগিতায় অসংখ্যবার ধর্ষণ সহ অনেক অপকর্মের সম্রাট
খুলনার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ডক্টর শহীদুর রহমান খান এর নামে সোনাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণের মামলা নেয়া নির্দেশ দিয়েছেন আদালত গতকাল সোমবার খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল ৩ এ আদেশ দেন। তবে রাত ন’টা পর্যন্ত আদালতের লিখিত পত্র থানায় পৌঁছনি বলে জানান সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মমতাজুল হক।
সূত্রে জানা গেছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অস্থায়ী অফিসের পঞ্চম তলায় থাকতেন সাবেক উপাচার্য।
এখানে খাওয়ার কোন বন্দোবস্ত না থাকার কারণে রেজিস্টার ওই নারীকে খাবারের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেন। ওই নারী প্রতিদিন খাবার পৌঁছে দিতেন সেই সুবাদে তাকে বিভিন্ন সময় কূপ্রস্তাব দিয়ে থাকেন উপাচার্য।
একপর্যায়ে ২০২১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর সন্ধ্যা ছটার দিকে খাবার দিতে গেলে পরিকল্পিতভাবে রেজিস্টার এর সহযোগিতায় ওই নারীকে ধর্ষণ করেন উপাচার্য।
পরে রেজিস্টার ওই নারীকে হুমকি ধামকি চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে বলেন আজকেরএ ঘটনা তুমি কাউকে বলবেনা তাহলে তোমার চাকরি থাকবে না। আর স্যারকে বলে স্যারের সাথে তোমার বিবাহ করিয়ে দিব ।
রেজিস্টার এও বলেন তুমি তোমার স্বামীকে তালাক দাও।
সূত্রে আরও জানা যায় ওই নারী চাকরি বাঁচাতে কাউকে কিছু না জানিয়ে স্বামীকে তালাক দেন। এরপর থেকে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ভিসি ও নারীর সঙ্গে স্বামী স্ত্রী পরিচয় মেলামেশা করতে থাকেন।
একপর্যায়ে মেয়াদ শেষ হলে খুলনা থেকে বদলি হয়ে যান উপাচার্য তিনি ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক ভিসি খুলনা এলে ওই নারী তার সঙ্গে দেখা করেন।
একপর্যায়ে পায়ে ধরে কান্নাকাটি করে বিয়ের করার আকুতি জানান তবে ভিসি তাতে রাজি হয়নি।
পরে ওই নারী স্বজনদের বিষয়টি খুলে জানালে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা করতে যান তারা।
এক্ষেত্রে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।
তাছাড়া আরো জানা গেছে ধর্ষণের অভিযোগকারী ওই নারী প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে চাকরি করতেন।
পরে তাকে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ।
উপাচার্য গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর তার মেয়াদ শেষ করেন। বর্তমান তিনি ময়মনসিংহ নিজের বাড়িতে থাকেন।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীর ছেলে-মেয়েসহ আত্মীয়-স্বজনকে অবৈধভাবে ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ধর্ষণের বিষয়ে অভিযোগের বিষয় কথা বলার জন্য খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ শহিদুর রহমান খানের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর একাধিকবার যোগাযোগ করলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় ।
এ বিষয়ে ক্রমের সহযোগী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার এর কাছে জানতে চাইলে এই ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না ঘটনার সাথে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে আর যদি এমন কোন ঘটনা ঘটেই থাকে তাহলে সেটি ও নারী ও ভিসির একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার সেটি আমার জানার কথা নয়।
অথচ এই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টরের ব্যাপারে একাধিক সূত্র থেকে এই অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সত্যতা প্রমাণ মিলেছে।
এদিকে সাবেক ভিসি শুধু ধর্ষণই নয়
নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে স্বজন প্রীতি করে আত্মীয়-স্বজনদের চাকরি দেওয়া থেকে শুরু করে নিজের আধিপত্যকে কুক্ষিগত করে দুর্নীতির আকরায় পরিণত করেছিল খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি।
অবশেষে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করতে হয় রাতের আধারে সাবেক ভিসিকে।