ছাতক প্রতিনিধিঃ
ছাতকে প্রতিপক্ষের হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ৪২ বছর বয়সি ২ সন্তানের জনক লায়েক মিয়া নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। (গত ২৮ মার্চ) মঙ্গলবার রাত সোয়া নয়টার দিকে থানা সংলগ্ন গণেশপুর খেয়াঘাটে হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত লায়েক মিয়া ছাতক পৌরশহরের মন্ডলীভোগ (জংলীগড়) এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের পুত্র ও ছাতক পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক ৫ বারের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ডলীভোগ লাল মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার লায়েক মিয়া ও এরশাদ আলী পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। এসব বিষয় নিয়ে সোমবার লায়েক মিয়ার পক্ষের লোক কাজল মিয়ার সাথে এরশাদ আলীর নাতি শিবলু আহমদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিবলু আহমদকে চড়-থাপ্পড় মারেন কাজল মিয়া।এ নিয়ে দু’দিন ধরে গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ ) রাতে তারাবি নামাজের সময় গণেশপুর খেয়াঘাটে লায়েক মিয়াকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে শিবলু আহমদ ও তার সহযোগীরা। এতে লায়েক মিয়া গুরুতর আহত হলে, প্রথমে তাকে ছাতক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার লায়েক মিয়াকে মৃত ঘোষনা করেন। এদিকে লায়েক মিয়ার উপর হামলার পর দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। লায়েক মিয়ার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছালে, এরশাদ আলী ও নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাংচুর সহ বসত ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে পুলিশ ছাতক বাজার থেকে এরশাদ আলী ও তাজ উদ্দিনসহ ৩ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় লায়েক মিয়ার পরিবারের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ছাতক থানার ওসি খাঁন মোহাম্মদ মাইনুল জাকির হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ময়না তদন্ত শেষে বুধবার বিকেলে নিহত লায়েক মিয়ার লাশ তার বাড়িতে পৌছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আজ রাত ১০,,৩০ ঘটিকায় নিহত লায়েক মিয়ার জানাজার নামাজ অনুষ্টিত হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।