• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনামঃ
তারুণ্যের ছাত্রদল জেগে উঠলে গুপ্ত রাজনীতি টিকবে না-মহিবুর রহমান উলিপুরে কুলির টাকায় নির্মিত সেতু-২৫ বছরের দুর্ভোগের অবসান সুনামগঞ্জ সদর পৌরসভাকে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে যুবকদের অঙ্গীকার মনোরঞ্জন পরিবেশে সময় কাটানোর অতুলনীয় স্থান: উলিপুর টুপামারী (জিয়া) পুকুরপাড় সুনামগঞ্জে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান নড়াইলে হত্যা মামলার ১৭ আসামি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেপ্তার, জেল হাজতে প্রেরণ শিমুলতলা মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার নতুন মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মাওলানা আবু সাঈদ (ঘাগটিয়া হুজুর) ছাতকে পুলিশের অভিযানে ৯৫ পিচ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ওসির চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে ধোপাজান নদীতে বালু লুটপাটের অভিযোগ,ডিউটির দায়বদ্ধতা ছাড়াতে ব্যবসায়ীর নৌকা জব্দ সদরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অবৈধ বালু উত্তোলনে দুই ব্যক্তিকে জরিমানা
প্রকাশ : April 21, 2026

উলিপুরে কুলির টাকায় নির্মিত সেতু-২৫ বছরের দুর্ভোগের অবসান

📸 Photo Card Download

রিপোর্টার নাম / ৫ জন পড়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় এক কুলি শ্রমিকের অসাধারণ উদ্যোগে নির্মিত একটি কাঠের সেতু বদলে দিয়েছে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়েছে এই মানবিক উদ্যোগ, যা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উলিপুর পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল করিম নিজের সীমিত সামর্থ্য দিয়েই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, একটি মোটরসাইকেল ও খাসি বিক্রির অর্থ এবং কিছু ঋণ মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি বুড়ি তিস্তা নদীর ওপর ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এতদিন এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল উলিপুর রেলস্টেশনের পাশের একটি ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো রেলসেতু। সেটি চলাচলের জন্য অত্যন্ত অনুপযোগী হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে পারাপার করতে হতো সাধারণ মানুষকে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও দিনমজুরদের জন্য এই পথ ছিল চরম দুর্ভোগের। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। প্রায়ই পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটত।
নতুন কাঠের সেতুটি নির্মাণের ফলে এখন এলাকাবাসী নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
গত ১৭ এপ্রিল আব্দুল করিমের মায়ের হাত দিয়ে সেতুটির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে সেতুর নিচে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
আব্দুল করিম বলেন, “রেল ব্রিজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। মানুষকে কষ্ট করতে দেখে খারাপ লাগত। জনপ্রতিনিধিরা এলেও কেউ উদ্যোগ নেয়নি। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সেতুটি নির্মাণ করেছি।
স্থানীয়রা বলছেন, একজন সাধারণ শ্রমিকের এমন উদ্যোগ শুধু একটি সেতু নির্মাণ নয়—এটি মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করবে।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে—ইচ্ছাশক্তি ও মানবিকতা থাকলে সীমাবদ্ধতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আব্দুল করিমের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরির আরো খবর পড়ুন