এস কে সিরাজুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাব আজমিরীগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে।
২১শে ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ৭ঘটিকায় ই-প্রেস ক্লাবের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান মুজিব এর নেতৃত্বে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ই-প্রসক্লাব আজমিরীগঞ্জ উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান সহ সভাপতি মোঃ শিহাব উদ্দিন ও মোঃ সোহাগ মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কনৌজ ব্যানার্জী,
সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন , প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জামিনুল ইসলাম , কোষাধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম দপ্তর সম্পাদক সাইদুর ইসলাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক তোফাজ্জুল হোসেন, সহ ক্রীড়া সম্পাদক আংগুর মিয়া প্রমুখ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ই-প্রেস ক্লাবের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফজলুল কবীর বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেওয়ার এরূপ ঘটনা আর দ্বিতীয়টি নেই। তাদের অবদান ও আত্মত্যাগের ফলে যেমন রক্ষা পেয়েছে বাংলা ভাষার মর্যাদা, তেমনি রোপিত হয় বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বপ্ন-স্বাধীনতার চেতনা। বস্তত ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক পথ বেয়েই ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপোষহীন নেতৃত্বে আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়। ভাষা আন্দোলনের মহান শহীদদের বাঙালি জাতি ও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী চিরদিন কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করবে। ইউনেস্কো কর্তৃক এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির মাধ্যমে দিনটি বিশ্বের সব জাতি গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় ঐক্য ও বিজয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অমর একুশের শিক্ষা হলো আমাদের আদর্শ,আমাদের ত্যাগ ও তিতিক্ষা। বাংলাদেশের অগনতি সূর্য-সন্তানেরা; যারা রাঙ্গিয়ে গেছে রাজ পথকে, গুড়িয়ে দিয়েছে শাসকের কালো হাতকে,উপেক্ষা করেছে রক্তিম শ্যেন-চক্ষুকে সেই অমর ভাইয়েরাই সোনার বাংলা বিনির্মাণে আমাদের অসীম প্রেরণার অফুরান উৎস।
সাংবাদিকদের মুখপত্র ই-প্রেস নিউজ এর নির্বাহী সম্পাদক সাংবাদিক মাসুদ লস্কর বলেন,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হল ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রচারের পাশাপাশি মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রচারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক মনোনীত একটি দিন।
মাতৃভাষাগুলি আমাদের পরিচয় গঠনে, সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভাষা কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়; এটি আত্ম-প্রকাশের একটি হাতিয়ার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বাহক এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
দুর্ভাগ্যবশত, বিশ্বব্যাপী অনেক মাতৃভাষা বিলুপ্তি ও মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন, বিশ্বায়ন, নগরায়ণ এবং ভাষা নীতির ফলে সংখ্যালঘুদের খরচে প্রভাবশালী ভাষাকে অগ্রাধিকার দেয়। ভাষাগত বৈচিত্র্যের এই ক্ষতি কেবল একটি সাংস্কৃতিক ট্র্যাজেডিই নয়, টেকসই উন্নয়ন এবং সামাজিক সংহতির জন্যও হুমকি।