স্টাফ রিপোর্টার,মিতালী রানী দাস:
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নে ৩ দিন আগে নিখোঁজ হওয়ায় এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ হাওরের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে দিরাই থানা পুলিশ। সোমবার সকাল ১১ টার দিকে আমীর হামজা (৮) নামের ঐ শিশুর মরদেহটি উদ্ধা করা হয়। সে নতুন জগদল গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন রশীদ লাবলু বলেন, নতুন জগদল গ্রামের আনোয়ার হোসেনের শিশু সন্তান আমীর হামজা (৮)ও তার চাচাতো ভাই আব্দুস সত্তারের ছেলে মোজাহিদ(১৩) শনিবার দিবাগত রাতে নিখোঁজ হয়। স্থানীয়রা দুই ছেলেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। মসজিদে মাইকিংও করা হয়। রাত ১ টার দিকে ধান খেতে মোজাহিদ নামের ঐ কিশোরকে পাওয়া যায় কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আমীর হামজা নামের শিশুটিকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গতকাল থানাকে অবগত করা হয়েছিল। আজ সকালে আনোয়ার মিয়ার বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে হাওরের একটি ডোবায় একটি শিশুর লাশ ভেসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জনপ্রতিনিধিদের খবর দিলে পুলিশকে অবগত করেন তারা। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে কাদামাখা অবস্থায় শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধা করে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তাদির হোসেন বলেন, গতকাল রবিবার একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে মৌখিকভাবে অবগত হই। আজ সকালে হাওরের ডোবায় একটি শিশু মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে কাদামাখা অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তবে মৃত্যুর কারন জানতে মরদেহ ময়নাতন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জটলা তৈরী হয়েছে।
নিহত শিশুর পরিবার ও স্বজনরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করেছেন। ঘটনার সাথে প্রতিবেশি মোজাহিদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে দাবি নিহত শিশুর পিতা আনোয়ারের। মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
এদিকে ঘটনার রহস্য জানতে কিশোর মোজাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।