চলমান ডেক্স:বৈষম্য দূর করার জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান হলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে বিপ্লব সংঘটিত হলো। দেশে বৈষম্য থাকবে না, মেধার ভিত্তিতে চাকুরী হবে, বাক স্বাধীনতা ফিরবে। কিন্তু আজকে দেখেছি- বৈষম্য দূর হয়নি, চাঁদাবাজদের কারণে ব্যবসায়ীরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছে না। গাড়িচালকেরা স্বাধীনভাবে গাড়ি চালাতে পারছে না। শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসময় তিনি ইসলামী রাষ্ট্র বিনির্মাণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
‘ছাত্র জনতার গণবিপ্লবে সংগঠিত গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সর্বস্তরের নির্বাচন, ফিলিস্তিন গণহত্যা বন্ধ ও ভারতে ওয়াকফ আইন সংস্কারের নামে মুসলিম নির্মূলের চক্রান্তের প্রতিবাদ, ইসলাম ও ধর্মবিরোধী নারী সংস্কার কমিশন বাতিল, যাদুকাটা ও ধোপাজান নদী বৈধভাবে ইজারা দিয়ে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়ার দাবিতে গণ সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা শাখা।
১১ রোজ রবিবার বিকালে শহরের পুরাতন বাস স্টেশনে গণসমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুফতি শহীদুল ইসলাম পলাশী’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সুহেল আহমেদ’র পরিচালনায় গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ (সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুসাব্বির রুনু।
বক্তব্য রাখেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ সুনামগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহফুজুর রহমান সজিব, ইসলামী আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ক্বারী মুহিব্বুল হক আজাদ,ইসলামী আন্দোলন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সভাপতি মাও.মুফতি আঃশহিদ,সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাও.আব্দুল কাদীর,জাতীয় উলামা মাশায়েখ সুনামগঞ্জের সভাপতি মাও.সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ধর্মপাশা উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুখলেছুর রহমান, দোয়ারাবাজার উপজেলা সভাপতি মাওলানা মনিরুল ইসলাম, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সভাপতি হাফিজ আবু হুরায়রা, সদর উপজেলা, ছাতক উপজেলা সভাপতি, নুরে আলম, মধ্যমগর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, তাহিরপুর উপজেলা সভাপতি মাওলানা নুর উদ্দিন, জেলা ছাত্র আন্দোলন সভাপতি কামরুল ইসলাম, যুব আন্দোলন সভাপতি হাফিজ মাওলানা মাসুম আহমেদ, সিলেট মহানগরের অর্থ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সুনামগঞ্জের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সাকিব, গণঅভ্যুত্থানে আহত ফয়সল আহমেদ, পৌর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিজানুর রহমান প্রমুখ।
মানুষ দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ চায় উল্লেখ করে গণসমাবেশে সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম আরও বলেন, স্বাধীনভাবে বসবাস করতে চায়, নিজের অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। অধিকার এবং শান্তির জন্য যুগে যুগে মানুষ লড়াই করেছে। আপনারা দেখেছেন, দুইদিন আগে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে লড়াই হয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের সাথে ১৯৭১ সালে আমাদের দেশের মানুষ লড়াই করেছিল। তারও আগে বৃটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে।
একটাই কারণ, সেটা হচ্ছে— আমরা স্বাধীন হতে চাই, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র চাই। স্বাধীনদেশে চাঁদাবাজ থাকবে না, বৈষম্য থাকবে না, দুনীর্তিবাজ থাকবে না, ধর্ষক থাকবে না। মানুষ তার স্বাধীনতা পাবে, অর্থনৈতিক মুক্তি পাবে। দেশের মা— বোনেরা ইজ্জত নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে, তারা ধর্ষিত হবে না, লাঞ্ছিত হবে না। তারা ইভটিজিংয়ের শিকার হবে না, বস্ত্রহীন থাকবে না, চিকিৎসার জন্য ধুঁকে ধুঁকে মরবে না। প্রত্যেকঁ মানুষ খেয়ে পরে বাঁচবে। মানুষ তার মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে, একারণেই মানুষ বারবার জীবন দিয়েছে। কিন্তু, আমরা কি দেখলাম, বৃটিশ যাওয়ার পরে মুসলমানদের সাথে বৈষম্য শুরু হয়। তখন আমরা মনে করলাম যে, ভারত থেকে যদি পাকিস্তান আলাদ করতে পারি, তাহলে বৈষম্য দূর হবে। এরপরেও দেখলাম, বৈষম্য রয়ে গেল। পাকিস্তান আমাদের পূর্ব বাংলার সাথে বৈষম্য শুরু করলো। আমরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলাম।