মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পরে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার ছনুগাঁও গ্রামের মোঃ কোরবান আলীর ছেলে মাহমুদুল হাছান সৌরভ (২২), ভিখারগাঁও গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে সুমন মিয়া (১৯) এবং কুশিউড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে নোমান মিয়া (২২) বিভিন্ন সময় দুবাই হয়ে লিবিয়া যান। লিবিয়ায় পাঠানোর জন্য মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য লিবিয়ায় অবস্থানকারী আব্দুল বারেক ও তার সহযোগীগণ প্রত্যেকের নিকট হতে ০৪ লক্ষ টাকা করে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে লিবিয়া থেকে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যগণ আরও ৭,৫০,০০০/- টাকা করে দাবি করেন। ঐ ০৩ যুবককে ইতালি পাঠানোর জন্য তাদের পরিবারের লোকজন চক্রের সদস্যদের সর্বমোট ৩০,৫০,০০০/- টাকা দেন। টাকা গ্রহণ করে চক্রের সদস্যগণ ঐ ০৩ যুবককে ইতালিতে না পাঠিয়ে আব্দুল বারেক তার সহযোগী লিবিয়ায় অবস্থানকারী অজ্ঞাতনামা মানবপাচারকারী চক্রের হাতে যুবকদের তুলে দেন। লিবিয়ায় অবস্থানকারী অজ্ঞাতনামা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যগণ ঐ ০৩ যুবককে আরও টাকার জন্যে আটক করে নির্যাতন করতে থাকেন।
উক্ত ঘটনার বিষয় মোঃ কোরবান আলী, পিতা-মৃত মোঃ আশ্রাফ আলী, সাং-ছনুগাঁও, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জ অদ্য ১৭/০৬/২০২৩ খ্রি. থানায় উপস্থিত হয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য আসামী ১। মোঃ আব্দুল বারেক (৫৪), পিতা-মৃত সৈয়দ আলী, সাং-বড়খাল, ২। মানিক মিয়া (৩০), পিতা-শাহজাহান মিয়া, সাং-উরুরগাঁও, ৩। মোছাঃ রাজিয়া খাতুন (৪২), স্বামী-আব্দুল বারেক, সাং-বড়খাল, ৪। রেজাউল করিম (৩৩), পিতা-মোঃ আব্দুল বারেক, সাং-বড়খাল, ৫। শাহজাহান মিয়া (৬৫), পিতা-মৃত আব্দুল মালেক, সাং-উরুরগাঁও, ৬। মোঃ আবুল কাশেম (৫২) পিতা-মৃত চান মিয়া, সাং-ভাওয়ালীপাড়া, ৭। আব্দুল হামিদ (৩৫), পিতা-মৃত আব্দুল জলিল, সাং-ডালিয়া, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে দোয়ারাবাজার থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
উক্ত মামলা রুজুর পর অফিসার ইনচার্জের নির্দেশক্রমে মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মুহাম্মদ আসলাম হোসেনসহ দোয়ারাবাজার থানার একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অদ্য ১৭/০৬/২০২৩ খ্রি. এজাহারনামীয় আসামি ১। মোছাঃ রাজিয়া খাতুন (৪২), স্বামী-আব্দুল বারেক, সাং-বড়খাল, ২। শাহজাহান মিয়া (৬৫), পিতা-মৃত আব্দুল মালেক, সাং-উরুরগাঁও, ৩। মোঃ আবুল কাশেম (৫২), পিতা-মৃত চান মিয়া, সাং-ভাওয়ালীপাড়া, থানা-দোয়ারাবাজার, জেলা-সুনামগঞ্জদের গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ পূর্বক প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।