চলমান ডেক্স : বাংলাদেশের সর্ববৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সারাদেশে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে বেশ কিছু আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা ও ৬৩টি আসন শুন্য রাখার মধ্যে দিয়ে দলটির ডিপ্লোম্যাসি পরিলক্ষিত হওয়ায় সারাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ জেলায় বুকভরা আশা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আধিপত্য বিস্তার বহাল রেখেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিশের প্রার্থীরা। আল্লামা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিশ বহু আগে থেকেই বিএনপির সাথে সখ্যতা রেখে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জ ৩ নির্বাচনী এলাকা জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী কয়ছর এম আহমদের জাায়গায় জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করতে পারেন সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী। অন্যদিকে শুন্য থাকা সুনামগঞ্জ ২ নির্বাচনী এলাকা দিরাই-শাল্লা এবং সুনামগঞ্জ ৪ নির্বাচনী এলাকা সদর ও বিশ্বম্ভরপুর আসনে ভাগ বসাতে পারেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ ও কেন্দ্রীয় জমিয়ত নেতা মাওলানা হাফিজ মুখলিছুর রহমান চৌধুরী। সুনামগঞ্জ জেলায় বরাবরই জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শক্তিশালী সাংগঠনিক মজবুত ভিত্তি থাকে। প্রতিটি নির্বাচনে অন্যান্য দলের বিজয়ী প্রার্থীদের জয়লাভেও এই দলটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থানের পরেই সারা জেলা জুড়ে জমিয়তের শক্ত অবস্থান। ১৯৭০ সাল থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে জমিয়তের প্রার্থীরা জেলাজুড়ে প্রচারণা চালান। বড় বড় জোটের প্রার্থীদের কাছে অনেক সময় ছাড় দিলেও কখনও মাঠ ছাড়েননি জমিয়তের ধর্মপ্রাণ নেতারা। এছাড়া সাংগঠনিক শক্তিশালী ভিত্তির কারণে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সুনামগঞ্জ জেলাকে সবসময় প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এবার ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের দাপট প্রভাব না থাকায় জেলার ৫টি আসনেই বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে দিন দিন বিদ্রোহী প্রার্থীদের আগাম সম্ভাবনা যেমন দেখা দিয়েছে তেমনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একক প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী এলাকায় আলাদা গ্রহনযোগ্যতা গড়ে উঠেছে। জেলা জমিয়ত নেতারা জোটের কাছে সুনামগঞ্জ জেলায় ৩টি আসন দাবী করলেও সুনামগঞ্জ সদর আসনটিকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাছাড়া সদর আসনে সরকারি দলের কোন প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হলে তুলনামূলকভাবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেখা দেয়। একারণে সচেতন ভোটাররা এই আসনে সবসময় বিরোধীদল বা জোটের শরীক দলের প্রার্থীকেই নির্বাচিত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। জমিয়ত নেতারা বলেন,আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে এটা শতভাগ নিশ্চিত। একারণে সদর আসনে সরকারী দলের এমপি থাকলে জেলার রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। বাড়বে চাঁদাবাজী,সন্ত্রাস গ্রুপিং কোন্দল। এছাড়া সদর আসনে বিএনপির সম্ভাব্য ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে যেকোন একজনকে দলীয় মনোনয়ন দিলে বাকী ৪ জনের নেতাকর্মী সমর্থকরা জামাত এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের দিকে ঝুকে পড়বে। তাই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ হবে বিএনপি জোটের অন্যতম শরীক দল জমিয়তের প্রার্থীকে এই আসনে মনোনয়ন নিশ্চিত করা। জমিয়তের প্রার্থী হাফিজ মাওলানা মুখলিছুর রহমান চৌধুরী একজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে তার কোন প্রতিপক্ষ নেই। তিনি দেশে বিদেশে সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য একজন ব্যক্তিত্ব। অক্লান্ত কর্মবীর ও দানশীল পরীক্ষিত জনসেবক হিসেবে দুই উপজেলায় তার সমধিক পরিচিতি রয়েছে। তার বড় ভাই হাফিজ মাওলানা তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী ইতিপূর্বে শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিপুল ভোটে। একটি উদার ধর্মপ্রাণ রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে পারিবারিকভাবেই তিনি রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও ঐতিহ্য ধারন করে চলেছেন। এসব কারণে বিএনপির জোটের প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারেন মুখলিছুর রহমান চৌধুরী এমন আশাবাদ পোষন করছেন সুনামগঞ্জের তৌহিদী জনগন।