স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কিছু ড্রেনেজ ব্যবস্থা বর্তমানে একেবারেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ এখন চরমে।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে ৭নং ওয়ার্ডের তেঘরিয়া এলাকার আমপাড়া, লম্বা হাটি, মাঝের হাটি ও মড়ল হাটির ড্রেনগুলো এখন ময়লা-আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে। ড্রেনগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই যে এগুলো পানি নিষ্কাশনের পথ, বরং মনে হয় এক একটি উন্মুক্ত ডাস্টবিন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মানুষের অসচেতনতা আর পৌর কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও উদাসীনতায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনগুলোতে ময়লা জমে থাকায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে পচা পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
লম্বা হাঁটি এলাকার বাসিন্দা কামাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সাবেক পৌর প্রশাসক রেজাউল করীম সাহেবের কাছে গিয়ে আমাদের এলাকার ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। দিন যত যাচ্ছে ময়লার স্তুপ ততই বাড়ছে, অথচ পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
একই চিত্র দেখা গেছে শহরের ৬নং ওয়ার্ডের পশ্চিম বাজার এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দা হরে কৃষ্ণ রাম বলেন, ড্রেনের ভেতর ময়লা জমে উপচে পড়া পচা পানি রাস্তায় জমে থাকে। এতে পথচারী, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তিনি সংবাদমাধ্যমের সহায়তায় এই অব্যবস্থাপনার কথা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনার অনুরোধ জানান।
শহরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া জানান, গত পাঁচ বছর যাবৎ ড্রেনের ভেতর জমে থাকা ময়লা অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌরসভা। নাগরিকদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল ড্রেনেজ ব্যবস্থার নাজুক অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা শহরের ড্রেনেজ সমস্যা সম্পর্কে অবগত আছি। পানি নিষ্কাশন সচল রাখতে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুম মাথায় রেখে আমরা ধাপে ধাপে ময়লা অপসারণ করছি।
তিনি আরও যোগ করেন, কিছু ড্রেইনে ঢাকনা না থাকায় এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে ড্রেনগুলো আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে। তবে আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা রয়েছে। আমরা পৌরসভার পক্ষ থেকে দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান করে ড্রেনগুলো সচল করার চেষ্টা করছি। একই সাথে আমরা নাগরিকদের সহযোগিতা চাই, যাতে তারা ড্রেনের ভেতর ময়লা-আবর্জনা না ফেলেন।
শহরবাসীর দাবি, কেবল আশ্বাস নয়, বর্ষা আসার আগেই যেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে পৌর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের এই অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়।