সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে তথ্য গোপন করে নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ লাভের উদ্দেশ্যে জালিয়াতি প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর মিটার রিডার মোঃ দিলোয়ার হোসেন এর বিরুদ্ধে। সে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মোঃ আলী হোসেনের পুত্র।
জানা যায়,গত ১৯/২/২০২৩ইং তারিখে ৯৫(৭) নং স্মারকে সুনামগঞ্জ সদর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সাব-রেজিষ্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল করিম দলা মিয়া ১৯/২/২০২৩ইং হতে ০৫/০৩/২০২৩ইং তারিখের মধ্যে সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার লাইসেন্স এর জন্য তার বরাবরে আবেদন করার জন্য দরখাস্ত আহবান করেন। নিয়োগ আহবাণের প্রেক্ষিতে মোট ১০ জন প্রার্থী লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু লিখিত আবেদনকারীদের কোন প্রকার মৌখিক বা লিখিত পরীক্ষা গ্রহন ছাড়াই মৌলভীবাজার জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর মিটার রিডার মোঃ দিলোয়ার হোসেন এবং তার সহযোগী তাফাজ্জুল ইসলাম তুহিন ও মোতাছিম বিল্লাহ এই ৩ জনের নামে প্যানেল প্রস্তুত করত: আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আইন বিচার বিভাগের বিচার শাখা ৭ এ প্রেরণ করেন। কর্তৃপক্ষ এখনও কাউকে নিয়োগ প্রদান করেননি। কিন্তু নিয়োগ প্রত্যাশী মো.দিলোয়ার হোসেন নিয়োগ কমিটির কাছে তথ্য গোপন করত: আবেদন করে নিজের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ডিও লেটার গ্রহনের পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তফসিল ফরম “ক” এর ৪ ও ৮ নং কলামে সুনির্দিষ্ট সঠিক তথ্য দেয়নি। অথচ কথিত ঐ প্রার্থী এখনও মৌলভীবাজার জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর মিটার রিডার পদে চাকুরী করে যাচ্ছে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর উপজেলার ৩নং সুরমা ইউনিয়নের নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার লাইসেন্স মঞ্জুরীর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব ও সুনামগঞ্জ সদর সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সাব-রেজিষ্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল করিম দলা মিয়া বলেন,৫ সদস্য বিশিষ্ট নিয়োগ কমিটির আমি সদস্য সচিব মাত্র। কমিটির উপদেষ্টা ও সভাপতি যে ৩ জনের নামে প্যানেল প্রস্তুতের কথা বলেছেন আমি সে অনুযায়ি প্যানেল প্রস্তুত করে সকলের স্বাক্ষর নিয়ে সচিব বরাবরে প্রেরণ করেছি। কোন প্রকার লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনের সুযোগ পাইনি। প্যানেলের ১নং প্রার্থী মোঃ দিলোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী জানলে আমি তার নামে প্যানেল প্রস্তুত করতামনা। অভিযোগ পেলে বিষয়টি অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে জানাতে বাধ্য হইবো। এই প্রার্থী তথ্য গোপন করে আমাদের সকলকেই প্রতারিত করেছে। অন্যদিকে সুরমা ইউনিয়নের মুসলিমপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের পুত্র বশির আহমদ বলেন,লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে নিকাহ্ রেজিষ্টার হওয়ার অভিপ্রায়ে লিখিত আবেদন করেছিলাম। কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহবাণকারীরা আমাদেরকে কোন প্রকার লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ না দিয়েই একতরফাভাবে পছন্দের লোককে নিয়ে প্যানেল প্রস্তুত করে আইন ও নিয়ম লঙন করেছেন। আমি এ ব্যাপারে মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের কাছে বিচারপ্রার্থী হইবো এবং প্রয়োজনে আদালতে যাবো।
সুনামগঞ্জ
তাং : ২১-৩-২০২৩ইং