স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের ৬নং হাসারচর ওয়ার্ডের আমদাবাদ গ্রামে খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, “ভূমিহীন” পরিচয়ের অপব্যবহার করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সরকারি খাস জমি দখলের প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামটির ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ—যেখানে একসময় শিশু-কিশোরদের প্রাণের স্পন্দন ছিল, নিয়মিত ঘোড়দৌড় ও ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হতো—সেই মাঠসহ আশপাশের পতিত খাস জমি এখন দখলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশান সংলগ্ন জায়গাও এই দখল প্রক্রিয়ার বাইরে নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রামেরই কিছু ব্যক্তি নিজেদের “ভূমিহীন” দাবি করে কোনো প্রকার সরকারি সনদ বা অনুমোদন ছাড়াই খাস জমি দখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের মতে, প্রকৃত ভূমিহীনদের সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকলেও তা উপেক্ষা করে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া “ভূমিহীন” নামকরণ করা হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের সাথে নুর ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তার নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী খাস জমি দখলের জন্য পরিবেশ তৈরি করছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এমনকি আত্মীয়-স্বজনদের অগ্রাধিকার দিয়ে জমি বণ্টনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার আরও একটি দিক সামনে আসে গত ১ এপ্রিল, যখন একই খাস জমি থেকে বেকু দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন বাড়িতে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। বেকু মালিকের দাবি, তাকে মসজিদের জন্য মাটি কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে সেই মাটি বাড়ি বাড়ি বিক্রি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মসজিদের নামে মাটি কাটার আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মসজিদের জন্য অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ভুয়া ভূমিহীন নামকরণ ও জমি দখলের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকও অর্থের প্রলোভনে জড়িয়ে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গ্রামবাসীর দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অজ্ঞাতেই পরিচালিত হচ্ছে। মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে পাশ কাটিয়ে এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
আইন অনুযায়ী, খাস জমি সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং তা দখল বা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বণ্টনের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, যা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। জাল সনদ তৈরি, প্রতারণা ও সরকারি সম্পত্তি দখল—সবই ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, অবিলম্বে এই দখল প্রক্রিয়া বন্ধ না করা হলে গ্রামটির ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সরকারি সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।