সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা-এর লাউড়েরগড়ে যাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি স্থানীয় সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। এতে নদী তীরবর্তী অন্তত শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, মিল-কারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র ড্রেজার ও শেভ মেশিন ব্যবহার করে রাতদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। ফলে নদীর পাড় ভেঙে বসতঘর, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি বিদ্যুতের খুঁটি (কুটি) নদী থেকে মাত্র ২০-২৫ ফুট দূরে অবস্থান করায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পাড়কাটা বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দিলেও কার্যকর স্থায়ী সমাধান মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, সরকার নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু প্রতি ফুট ৩৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে শুধু বসতবাড়িই নয়, এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। নদী ভাঙনের ফলে হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যার ঝুঁকিও বাড়বে এবং হাজারো নৌ-শ্রমিক জীবিকা হারাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে সাময়িকভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও অজ্ঞাত কারণে আবারও তা শুরু হয়। এতে করে স্থানীয় জনগণ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, পাড়কাটার ঘটনায় সম্প্রতি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, লাউড়েরগড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে নৌকাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যে বা যারা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।